২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অন্যতম বড় অঘটনের সাক্ষী থাকল ফুটবল বিশ্ব। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি টাইব্রেকারে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার টাইব্রেকারে পরাজিত হল জার্মানি। ১২০ মিনিটের লড়াই ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণের দিক থেকে জার্মানি ছিল অনেকটাই এগিয়ে। তবে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ অসাধারণ দৃঢ়তা দেখায়। প্রথমার্ধে জার্মানির একাধিক আক্রমণ ব্যর্থ হওয়ার পর উল্টে ৪১ মিনিটে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। দুর্দান্ত একটি ক্রস থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হুলিও এনসিসো। সেই গোলেই প্রথমার্ধ শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে জার্মানি। অবশেষে ৫৪ মিনিটে কাই হাভার্টজ সমতা ফেরান। এরপর দুই দলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও নির্ধারিত সময়ে আর কোনও গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
এক্সট্রা টাইমে জার্মানি একটি গোল পেলেও VAR পরীক্ষার পর সেটি বাতিল করে দেন রেফারি। ফলে ম্যাচের ফল নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকারের আশ্রয় নিতে হয়। পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ এবং নিক ভল্টেমাডের শট দুর্দান্তভাবে বাঁচিয়ে দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। শেষদিকে জোনাথন তাহের শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে গেলে জয়ের দরজা খুলে যায় প্যারাগুয়ের সামনে। এরপর হোসে কানালে জয়সূচক পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।
এই পরাজয়ের মাধ্যমে একটি অনন্য রেকর্ডও ভেঙে গেল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কখনও টাইব্রেকারে হারেনি জার্মানি। বহুবার পেনাল্টি শুটআউটে নিজেদের স্নায়ুর জোর প্রমাণ করা জার্মান দল এবার প্রথমবার সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ হল। ফলে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দলের কাছে এই হার নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ের কাছে এই জয় নিঃসন্দেহে দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত। ম্যাচ জুড়ে রক্ষণাত্মক কৌশল, গোলরক্ষকের অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং পেনাল্টি শুটআউটে মানসিক দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে তারা দেখিয়ে দিল যে বড় মঞ্চে তারাও চমক দেখাতে পারে। দলের কোচ গুস্তাভো আলফারোর পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়েছে বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।
জার্মানির এই বিদায়ের পর স্বাভাবিকভাবেই কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। শক্তিশালী দল নিয়েও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় আগামী দিনে জার্মান ফুটবল ফেডারেশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে সমর্থকদের।
এদিকে প্যারাগুয়ে শেষ ষোলোয় পৌঁছে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি শুরু করেছে। নকআউট পর্বে তারা যে কোনও প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে, তা এই ম্যাচেই প্রমাণ হয়েছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন অঘটনই ফুটবলের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে, আর সেই তালিকায় ২০২৬ সালের এই জার্মানি-প্যারাগুয়ে ম্যাচ নিঃসন্দেহে বিশেষ স্থান করে নেবে।



