রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ভোটের আগে এবার বড় সিদ্ধান্তের কথা জানালেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রধান হুমায়ুন কবীর। রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে আর সরাসরি প্রচারে নামবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। দলের কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে হুমায়ুনের বক্তব্য, মাঠে নেমে প্রচার না করলেও সমাজমাধ্যমের মাধ্যমে দলের প্রচার চালানো হবে।
রেজিনগর কেন্দ্রে এবার AJUP-র প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের ছেলে গোলাম নবী আজাদ রবিন। উপনির্বাচনের আগে বাবার পাশাপাশি তিনিও সরাসরি প্রচার থেকে সরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ভোটের কয়েকদিন আগে রেজিনগরে AJUP-র প্রচারের ধরনই বদলে যাচ্ছে। সরাসরি সভা, মিছিল বা জনসংযোগের বদলে সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যান্য মাধ্যমে দলের প্রতীক ও প্রার্থীর বার্তা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, নির্বাচনের আগে তাঁর দলের একাধিক নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিশেষ করে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানা এলাকায় পুলিশি অভিযানের পর পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রচারে বেরোলেই দলের কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং এর ফলে কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই তিনি মাঠের প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভোটের দিন তিনি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে মাঠে থাকবেন।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে সাম্প্রতিক গ্রেফতারির ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, AJUP-র সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন নেতা-কর্মীকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে এই গ্রেফতারিগুলিকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে যে আইনি প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি নিয়ে পৃথক তদন্ত ও মামলা রয়েছে। তাই হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ এবং পুলিশের পদক্ষেপ—দুই বিষয়কেই আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
রেজিনগর উপনির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল দলের প্রার্থী গোলাম নবী আজাদ রবিন। হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই প্রচার থেকে সরে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে AJUP-র প্রার্থী নিজেও প্রচারের প্রচলিত পদ্ধতি থেকে দূরে থাকবেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতিদিন দলের বক্তব্য, প্রার্থী এবং নির্বাচনী প্রতীক সম্পর্কে ভোটারদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রচার বন্ধ হলেও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া বন্ধ হবে না।
এদিকে নির্বাচনী আচরণবিধি বা Model Code of Conduct কার্যকর থাকার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে প্রশাসনের ভূমিকা নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেছেন, দলের নেতা-কর্মীদের একের পর এক গ্রেফতারির কারণে সরাসরি প্রচারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়া নিজেদের জায়গায় রয়েছে। ফলে নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অভিযোগ-পালটা অভিযোগও ক্রমশ সামনে আসছে।
রেজিনগর উপনির্বাচন হওয়ার কথা আগামী **৬ অক্টোবর ২০২৬**। তার আগে মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই বেড়েছে। AJUP-র প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন কবীরের ছেলে লড়াই করছেন। অন্যদিকে অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীরাও নিজেদের মতো করে প্রচার চালাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে হুমায়ুন কবীরের সরাসরি প্রচার থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন তৈরি করেছে।
হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট করেছেন, তাঁর দলের প্রতীক এবং প্রার্থীর পরিচয় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সোশ্যাল মিডিয়াকে আরও বেশি ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ রাস্তায় প্রচারের পরিবর্তে ডিজিটাল প্রচারকেই গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভোটের আগে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের কাছে সেই প্রচার কতটা পৌঁছয় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে পরিবর্তিত হয় তার উপর।
সব মিলিয়ে রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে AJUP-র প্রচারে নতুন কৌশল সামনে এসেছে। একদিকে দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার নিয়ে হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, অন্যদিকে প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন মামলায় আইনি পদক্ষেপ—এই দুইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। তার মধ্যেই মাঠের প্রচার থেকে সরে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রচারের প্রধান মাধ্যম করার ঘোষণা করেছেন AJUP প্রধান। আগামী ৬ অক্টোবরের ভোটে এই পরিবর্তিত প্রচার কৌশল কীভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


