বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কাজের প্রশংসা করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কলকাতায় সেবা সংকল্প অভিযান সংক্রান্ত বৈঠকে যোগ দিতে এসে বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই রাজ্যের নতুন সরকারের কাজ নিয়ে নিজের বক্তব্য জানান রাজনাথ। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিভিন্ন কাজ নিয়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও আলোচনা শুরু হয়েছে। মাত্র চার মাসের প্রশাসনিক সময়কালে সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে শুভেন্দুকে কার্যত পারফরম্যান্সের ‘সার্টিফিকেট’ দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
### চার মাসের সরকারের কাজ নিয়ে রাজনাথের প্রশংসা
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রায় চার মাস পেরিয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই আবহেই কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করলেন রাজনাথ সিং।
সাংবাদিকদের সামনে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বাংলা এগিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মোদির নেতৃত্বেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজ্যে সরকার গঠনের পর এই অল্প সময়ের মধ্যে শুভেন্দুর কাজ নিয়ে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও চর্চা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনাথের বক্তব্যে উঠে আসে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়েও একাধিক বিষয়। তিনি মনে করেন, বাংলার উন্নয়নের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাঁর কথায়, দেশের বিকাশের বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাও এগিয়ে যাবে।
### ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে বাংলার ভূমিকার কথা
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ভারতকে ‘বিকশিত ভারত’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলার অংশগ্রহণ থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ উন্নয়নের পথে এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলার শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। বিশেষ করে শিপ বিল্ডিং বা জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে ঘিরে রাজ্যের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন রাজনাথ। তাঁর আশা, আগামী দিনে বাংলা বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিপ বিল্ডিং হাব হিসেবে উঠে আসবে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থান, শিল্প পরিকাঠামো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলেই এই প্রসঙ্গ সামনে আসে।
তবে রাজনাথের বক্তব্য মূলত ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সরকারের কাজ নিয়ে তাঁর আশাবাদী অবস্থানকে তুলে ধরে। শিপ বিল্ডিং ক্ষেত্রে বাংলার নির্দিষ্ট অবস্থান বা উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে এই বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
### বাংলার সম্মান প্রসঙ্গে বন্দে মাতরমের উল্লেখ
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে উঠে আসে সদ্য পালিত স্বাধীনতা দিবসের প্রসঙ্গও। তিনি জানান, এবারের স্বাধীনতা দিবসে প্রথমবার লালকেল্লায় বন্দে মাতরমের সব কটি স্তবক গাওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে বাংলার সম্মান বলে মনে করেন তিনি।
বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্যের সঙ্গে বন্দে মাতরমের সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশনকে বাংলার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে জাতীয় উন্নয়ন ও দেশের ঐতিহ্যের পাশাপাশি বাংলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
### মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক কার্যকাল নিয়ে মন্তব্য
সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসনিক কার্যকাল নিয়েও মন্তব্য করেন রাজনাথ সিং। মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রাকে একটি শব্দে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেবা’। রাজনাথের মতে, প্রধানমন্ত্রী বিরোধিতা মোকাবিলা করেও উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসনে নানা ধরনের রাজনৈতিক বিরোধিতা ও চ্যালেঞ্জ থাকলেও উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই পথ অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বাংলায় কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাজনাথের এই মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মোদির দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকারের মধ্যে একটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর সরকারের চার মাসের কাজ নিয়ে প্রশংসা করা হলেও নির্দিষ্ট প্রকল্প, ব্যয়ের পরিমাণ বা বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেননি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
### দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও জনকল্যাণের প্রসঙ্গ
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজেও সাফল্য এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। নতুন সরকারের কাজ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তারই মধ্যে রাজনাথ সিংয়ের প্রশংসা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমতায় আসার পর প্রায় চার মাসের মধ্যে শুভেন্দু সরকারের কাজ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, দুর্নীতি মোকাবিলা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে সামনে রেখে সরকারের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই দাবিগুলির বিস্তারিত পরিসংখ্যান বা স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।
রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যে মূলত মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব, সরকারের কাজ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতি তাঁর আস্থার বিষয়টি সামনে এসেছে। তিনি বলেন, বাংলার উন্নয়নযাত্রায় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা করেন।
### রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাজনাথের বক্তব্য
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মেয়াদের শুরুতেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই প্রশংসা রাজনৈতিকভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা নতুন সরকারের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে রাজনাথ সিংয়ের বক্তব্যকে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। সরকারের কাজের বাস্তব ফলাফল, জনসাধারণের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সূচকের মূল্যায়ন আলাদা বিষয়। সেই মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রয়োজন।
এদিন কলকাতায় সেবা সংকল্প অভিযান নিয়ে বৈঠকে যোগ দিতে এসে রাজনাথ সিং রাজ্যের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্ব নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর মন্তব্যে বাংলার ভবিষ্যৎ শিল্পোন্নয়ন, জাতীয় উন্নয়নে রাজ্যের অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাজের প্রশংসা—এই তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের চার মাসের কাজ নিয়ে রাজনাথ সিংয়ের প্রশংসা রাজ্য রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলা উন্নয়নের পথে এগোবে—এই প্রত্যাশাই প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী।


