Friday, August 21, 2026

Creating liberating content

৩৩৫ কোটিতে আয়ারল্যান্ডে দুর্গ...

# মার্ক জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক দুর্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং...

পশ্চিমবঙ্গে বদলাল পেশাগত করের...

পশ্চিমবঙ্গে পেশাগত কর বা Professional Tax-এর কাঠামো নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।...

মিয়ানমারে বৌদ্ধ মঠে সেনার...

মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ফের ভয়াবহ বিমানহানার অভিযোগ উঠল দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে।...

পুজোর ভিড় সামলাতে আগাম...

দুর্গাপুজো এখনও বেশ কিছুটা দূরে। কিন্তু বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবকে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে...
Homeবাংলাঅন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে...

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের সরব অগ্নিমিত্রা

পশ্চিমবঙ্গের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ফের এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং উপভোক্তা নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার বিষয়টি যথাযথভাবে দেখা হচ্ছে না এবং বেছে বেছে অযোগ্যদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকেই দায়ী করেছেন তিনি। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের নির্দিষ্ট যোগ্য মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এবং যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২৮ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। 

তবে প্রকল্পের সুবিধা কারা পাবেন, কীভাবে উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি হবে এবং দুর্নীতি বা অনিয়ম কীভাবে আটকানো হবে—এসব প্রশ্নকে কেন্দ্র করে শুরু থেকেই রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।

## অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের অগ্নিমিত্রার আক্রমণ

সাম্প্রতিক মন্তব্যে অগ্নিমিত্রা পাল আরও একবার অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল উপভোক্তা বাছাই এবং প্রকল্পের অর্থ বণ্টন ব্যবস্থা।

তিনি অভিযোগ করেন, যোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে অযোগ্যদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের অনিয়মের জন্য শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস দায়ী।

তবে রাজনৈতিক অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে, প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপভোক্তাদের তথ্য যাচাইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

## কী এই অন্নপূর্ণা যোজনা?

অন্নপূর্ণা যোজনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়সসীমার যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি যোগ্য মহিলারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

এই ধরনের সরাসরি আর্থিক সহায়তার মূল উদ্দেশ্য হল পরিবার ও ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মহিলাদের কিছুটা আর্থিক সুরক্ষা দেওয়া।

## কত টাকা পাওয়া যাবে?

অন্নপূর্ণা যোজনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল মাসিক আর্থিক সহায়তা। যোগ্য উপভোক্তারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাওয়ার কথা।

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, প্রথম পর্যায়ে ২৮ লক্ষের বেশি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে। পরবর্তীকালে উপভোক্তাদের তালিকা পর্যায়ক্রমে আপডেট করার কথাও জানানো হয়েছিল। 

সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের আওতায় শেষ পর্যন্ত প্রায় দুই কোটি মানুষ উপকৃত হতে পারেন।

## কেন উপভোক্তা বাছাই নিয়ে বিতর্ক?

যে কোনও বড় সরকারি আর্থিক প্রকল্পে উপভোক্তার যোগ্যতা যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ সরকারি অর্থ সরাসরি মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছয়।

অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রেও কে যোগ্য, কে অযোগ্য এবং কোন তথ্যের ভিত্তিতে একজন আবেদনকারীকে সুবিধা দেওয়া হবে—এই প্রশ্নগুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অগ্নিমিত্রা পালের সাম্প্রতিক বক্তব্য মূলত এই জায়গাতেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, যোগ্যদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে প্রশাসনিক তথ্য ও যাচাই প্রক্রিয়ার ফলাফল সামনে আসা প্রয়োজন।

## দুর্নীতি রুখতে সরকারের দাবি

অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর সময় অগ্নিমিত্রা পাল নিজেও জানিয়েছিলেন যে উপভোক্তা তালিকা তৈরিতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, আগের কিছু প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন প্রকল্পে তথ্য যাচাইকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, ভুল ব্যক্তির হাতে সরকারি অর্থ যাতে না যায়, সেজন্য উপভোক্তাদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

এই ব্যবস্থাই প্রকল্পটির স্বচ্ছতা বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

## আবেদন করার সুযোগ কতদিন?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম নথিভুক্ত করার জন্য যোগ্য উপভোক্তাদের ৯০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। 

অর্থাৎ যারা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার মধ্যে পড়েন, তাঁদের আবেদন ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তবে আবেদন জমা দিলেই যে প্রত্যেকে সুবিধা পাবেন, এমন নয়। যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা এবং তথ্য যাচাইয়ের পরই সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হবে।

## ফর্ম নিয়ে আগেও বিতর্ক

অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র নিয়ে আগেও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে আবেদনকারীর সন্তানদের সম্পর্কিত তথ্য কেন ফর্মে চাওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল।

সেই সময় অগ্নিমিত্রা পাল বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছিলেন, প্রকল্পে অনিয়ম আটকানো এবং উপভোক্তার তথ্য যাচাইয়ের জন্য বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন। 

এর ফলে বোঝা যায়, প্রকল্পটির ক্ষেত্রে প্রশাসন শুধু আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য নয়, পরিবারের সম্পর্কিত কিছু তথ্যও যাচাই করতে চাইছে।

## লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সঙ্গে তুলনা

পশ্চিমবঙ্গে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ইতিমধ্যেই একটি পরিচিত প্রকল্প। অন্নপূর্ণা যোজনা চালু হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই দুই প্রকল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে দুই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও যোগ্যতার শর্ত এক নয়। অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করার প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারি বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, অতীতে অন্য প্রকল্পে ভুয়ো বা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসায় নতুন প্রকল্পে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। 

## অগ্নিমিত্রার অভিযোগের রাজনৈতিক তাৎপর্য

অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে প্রকল্পটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি যখন উপভোক্তা বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং তৃণমূলকে দায়ী করছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছে।

বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সরাসরি আর্থিক সুবিধার সঙ্গে যুক্ত কোনও প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা ভোটারদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

## তৃণমূলকে কেন নিশানা?

অগ্নিমিত্রার বক্তব্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হল, প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব করা হচ্ছে।

তবে এই অভিযোগ রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। প্রকৃতপক্ষে কোনও অযোগ্য ব্যক্তি সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা নির্ধারণ করতে উপভোক্তা তালিকা এবং প্রশাসনিক যাচাইয়ের তথ্য প্রয়োজন।

এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্য সূত্রে এমন কোনও পূর্ণাঙ্গ তালিকা সামনে আসেনি, যার ভিত্তিতে অগ্নিমিত্রার অভিযোগের প্রতিটি দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব।

## প্রথম পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক উপভোক্তা

অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় প্রথম পর্যায়েই ২৮ লক্ষের বেশি মানুষের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পরে তালিকা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার কথা জানানো হয়। ([Akashvani News][2])

এত বিপুল সংখ্যক উপভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল তথ্য যাচাই।

একজন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, পরিচয়, বয়স এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ঠিকঠাক যাচাই করা না হলে সরকারি অর্থ ভুল হাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

## সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা

অন্নপূর্ণা যোজনায় অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কমানো সম্ভব হতে পারে।

Direct Benefit Transfer-এর মতো ব্যবস্থার অন্যতম সুবিধা হল, সরকারি অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছনোর সুযোগ তৈরি হয়।

তবে এই ব্যবস্থার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে উপভোক্তার তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করার উপর।

## কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

বর্তমান সময়ে মূল্যবৃদ্ধি, দৈনন্দিন খরচ এবং পরিবারের আর্থিক চাপের কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু পরিবারের উপর অতিরিক্ত চাপ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহায়তা একজন মহিলার ব্যক্তিগত আর্থিক স্বাধীনতা বাড়াতে পারে।

তাই অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পকে শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে না দেখে এর বাস্তব সুবিধা কতটা মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

## উপভোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

যাঁরা প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—নাম তালিকায় উঠেছে কি না এবং টাকা কখন অ্যাকাউন্টে আসবে।

সরকারি ব্যবস্থায় উপভোক্তার তালিকা ধাপে ধাপে আপডেট করার কথা জানানো হয়েছিল। 

তাই কোনও আবেদনকারীর নাম প্রথম তালিকায় না থাকলেও পরবর্তী পর্যায়ে তা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যদি আবেদনকারী নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন।

## টাকা না এলে কী করবেন?

কোনও যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ না এলে প্রথমে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

নথিতে ভুল, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্যার মতো কারণেও অনেক সময় সরকারি অর্থ আটকে যেতে পারে।

তাই রাজনৈতিক অভিযোগের পাশাপাশি প্রশাসনিক সমস্যাগুলিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

## প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে নজর

অন্নপূর্ণা যোজনার মতো বড় প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রকল্পটি যদি শেষ পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছয়, তাহলে সরকারি ব্যয়ের পরিমাণও বড় হবে।

কোনও অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

একইসঙ্গে প্রকৃত যোগ্য মানুষ যাতে কোনওভাবেই বঞ্চিত না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

## অগ্নিমিত্রার বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

অগ্নিমিত্রা পালের নতুন মন্তব্যের পর অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা ফের তীব্র হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে উপভোক্তা বাছাই এবং অযোগ্যদের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ।

অন্যদিকে সরকারি ব্যবস্থার দাবি হল, প্রকল্পে দুর্নীতি আটকাতে বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে।

এই দুই বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য উপভোক্তা তালিকা এবং প্রশাসনিক তথ্যের দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।

## রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরে মানুষের প্রত্যাশা

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তাঁরা আদৌ সময়মতো আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন কি না।

যে মহিলারা প্রকল্পের যোগ্য, তাঁরা যেন কোনও রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে বঞ্চিত না হন—এটাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

একইভাবে অযোগ্য কেউ যাতে সরকারি অর্থ না পান, সেটিও প্রশাসনের দায়িত্ব।

## সরকারের সামনে দ্বৈত চ্যালেঞ্জ

একদিকে দ্রুত বিপুল সংখ্যক উপভোক্তাকে অর্থ পৌঁছে দিতে হবে, অন্যদিকে প্রতিটি আবেদন যাচাই করতেও হবে।

এই দুই কাজের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ নয়।

বিশেষ করে যখন প্রকল্পের সম্ভাব্য উপভোক্তার সংখ্যা কোটি ছুঁতে পারে, তখন তথ্য যাচাই ও অর্থপ্রদানের জন্য শক্তিশালী প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

## আগামী দিনে কী হতে পারে?

অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা তালিকা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে তালিকা আপডেট করার ব্যবস্থা রয়েছে। 

ফলে আগামী দিনগুলিতে আরও বহু আবেদনকারী প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।

একইসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পালের মতো বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগের পর প্রশাসনিক যাচাই ও প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়েও নজর আরও বাড়তে পারে।

## শেষ কথা

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে ফের সরব হয়েছেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না এবং বেছে বেছে অযোগ্যদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছেন। 

অন্যদিকে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জুনে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় এবং প্রথম পর্যায়ে ২৮ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে। 

প্রকল্পে দুর্নীতি বা অনিয়ম আটকাতে তথ্য যাচাইয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আবেদনপত্রে পরিবারের সদস্যদের তথ্য চাওয়ার বিষয়টি নিয়েও আগে প্রশ্ন উঠেছিল, যার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। 

তাই অন্নপূর্ণা যোজনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যতই চলুক, শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তারা যাতে সময়মতো তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সহায়তা পান এবং সরকারি অর্থ যেন কোনওভাবেই অযোগ্য ব্যক্তির হাতে না যায়। আগামী দিনে প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা এবং অর্থপ্রদানের অগ্রগতি এই বিতর্কের কেন্দ্রেই থাকবে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

৩৩৫ কোটিতে আয়ারল্যান্ডে দুর্গ কিনলেন জাকারবার্গ

# মার্ক জাকারবার্গের নতুন ঠিকানা আয়ারল্যান্ডের ঐতিহাসিক দুর্গ বিশ্বের অন্যতম ধনী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং Meta-র CEO মার্ক জাকারবার্গ এবার কিনে ফেলেছেন আয়ারল্যান্ডের একটি ঐতিহাসিক দুর্গ। স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি County Waterford-এর বিখ্যাত **Strancally Castle** অধিগ্রহণ করেছেন। দুর্গটির সঙ্গে...

পশ্চিমবঙ্গে বদলাল পেশাগত করের তালিকা, কার কত টাকা?

পশ্চিমবঙ্গে পেশাগত কর বা Professional Tax-এর কাঠামো নিয়ে ফের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। নবান্নের তরফে রাজ্য সরকারের সংশোধিত পেশাগত করের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং নিয়োগকর্তাদের ক্ষেত্রে...

মিয়ানমারে বৌদ্ধ মঠে সেনার বিমানহানা, মৃত ১৪

মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের মধ্যেই ফের ভয়াবহ বিমানহানার অভিযোগ উঠল দেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে একটি বৌদ্ধ মঠে সামরিক বিমান থেকে বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সেই হামলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.