কয়েকদিন আগেই কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে দুধ গরম করার ঘটনাকে ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছিলেন সীতা ওরফে রশিদা। তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক, প্রশাসনের তরফে সরকারি আশ্রয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট আশ্রয়স্থলে থাকতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তাঁর খোঁজও পাওয়া যায়নি কিছু সময়ের জন্য।
এবার সেই সীতার জীবনেই যেন নতুন মোড়। শুক্রবার জানা গেল, তাঁর পছন্দের এলাকায় থাকার জন্য একটি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, সংসার চালানোর জন্য সীতার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এই ঘটনায় খুশি সীতা এবং তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
## ফুটপাথ থেকে পছন্দের ঠিকানায় সীতা
পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে বসবাসকারী সীতা ও তাঁর পরিবারের বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
পুরসভা ও পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিকবার চেষ্টা করা হয় তাঁকে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য। বেলেঘাটা এবং রামমোহন রায় রোডের দুটি আশ্রয়কেন্দ্রেও তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু সেখানকার পরিবেশ সীতার পছন্দ হয়নি বলে তিনি থাকতে চাননি।
এরপর তাঁকে নিয়ে নতুন করে বাড়ির খোঁজ শুরু হয়।
## পছন্দ হচ্ছিল না একাধিক বাড়ি
গত কয়েকদিন ধরে সীতা ও তাঁর পরিবারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় থাকার জায়গা খোঁজা হচ্ছিল। কিন্তু যে জায়গাগুলি দেখানো হয়েছিল, সেগুলি তাঁর পছন্দ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে তাঁকে সাময়িকভাবে একটি হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। অবশেষে এমন একটি জায়গা পাওয়া যায়, যা সীতার নিজের পছন্দ হয়েছে।
বর্তমানে সীতা তাঁর মেয়েদের এবং নাতিকে নিয়ে সেই পছন্দের এলাকাতেই রয়েছেন।
## শুধু ঘর নয়, সীতার জন্য কাজের ব্যবস্থাও
সীতার পরিবারের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল জীবিকা। শুধু থাকার জায়গা পেলেই তো সংসারের সমস্যা মেটে না। সেই বিষয়টিও মাথায় রেখে সীতার জন্য একটি কাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি হোটেলে সাফাইয়ের কাজ করবেন সীতা। অর্থাৎ নতুন বাসস্থানের পাশাপাশি নিজের উপার্জনের একটি পথও তৈরি হয়েছে তাঁর জন্য।
ফলে ফুটপাথে বসবাসের অনিশ্চয়তা থেকে বেরিয়ে সীতার পরিবার এবার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল জীবনের দিকে এগোতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
## মেয়েদের নিয়েও মিলেছে নিরাপদ আশ্রয়
সীতার সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমানে তিনি নাতি ও মেয়েদের নিয়ে নতুন ঠিকানায় রয়েছেন।
অন্যদিকে সীতার এক মেয়ে পূজা পুরসভার ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট হয়ে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে।
অর্থাৎ পরিবারের সদস্যদের জন্যও আলাদা আলাদা নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে।
## বিধায়ক সজল ঘোষের বক্তব্য
এর আগে পরিস্থিতি নিয়ে বিধায়ক সজল ঘোষ জানিয়েছিলেন যে সীতা এবং তাঁর দুই মেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছেন। দলের কর্মীদের বাড়িতেও তাঁদের রাখার ব্যবস্থা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন।
এরপর স্থায়ী বা পছন্দের বাসস্থানের খোঁজ চালানো হয়।
## শুভেন্দু ও অগ্নিমিত্রার খোঁজখবর
সীতার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দুই বিজেপি নেতা একটি ভিডিও করেন। সেখানে সীতা, তাঁর মেয়ে এবং নাতিকেও দেখা যায়।
ওই নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুভেন্দু অধিকারী নিয়মিত সীতাদের খোঁজ নিয়েছেন। অগ্নিমিত্রা পালও তাঁদের পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছেন বলে তাঁরা জানান।
তাঁদের দাবি, সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা ভালো আছেন।
## ‘জীবন বদলে গিয়েছে’, খুশি সীতা
ফুটপাথে বসবাসের অনিশ্চয়তা থেকে একটি পছন্দের এলাকায় ঘর এবং নতুন কাজ—অল্প সময়ের মধ্যে সীতার জীবনে একাধিক পরিবর্তন এসেছে।
এই ব্যবস্থায় খুশি সীতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হল, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপদে থাকার জায়গার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
## ‘দুধ গরম’ বিতর্ক থেকে নতুন অধ্যায়
সীতার নাম প্রথমে সামনে আসে পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে দুধ গরম করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সেই ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিষয়টি শুধুমাত্র ফুটপাথে দুধ গরম করার ঘটনাতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। গৃহহীন মানুষের নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন, তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ এবং জীবিকার সুযোগ—এই বৃহত্তর প্রশ্নগুলিও সামনে আসে।
সীতার বর্তমান পরিস্থিতি সেই বিতর্কেরই পরবর্তী অধ্যায়।
## শুধু আশ্রয় নয়, প্রয়োজন জীবিকারও
সীতার ঘটনা থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে। ফুটপাথবাসী কোনও পরিবারকে শুধু একটি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না।
তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা কোথায় থাকবেন, পরিবেশ তাঁদের উপযোগী কি না, কাজের সুযোগ রয়েছে কি না—এই বিষয়গুলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সীতার ক্ষেত্রে পছন্দের এলাকায় ঘরের পাশাপাশি কাজের ব্যবস্থা হওয়ায় পুনর্বাসনের বিষয়টি কিছুটা অন্য মাত্রা পেয়েছে।
## পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ
নতুন ঘর এবং কাজের ব্যবস্থা সীতার পরিবারের জন্য কতটা স্থায়ী পরিবর্তন আনবে, তা সময়ই বলবে। তবে অন্তত এই মুহূর্তে তাঁদের মাথার উপর ছাদ এবং পরিবারের একজনের উপার্জনের ব্যবস্থা হয়েছে।
ফলে আগের মতো রাস্তায় বসবাসের অনিশ্চয়তা থেকে পরিবারটি বেরিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছে।
## শেষ কথা
পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাথে ‘দুধ গরম’ করার ঘটনাকে ঘিরে যাঁর নাম হঠাৎ করে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছিল, সেই সীতা এবার পেলেন নতুন ঠিকানা। একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র তাঁর পছন্দ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর পছন্দের এলাকায় ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়েদের ও নাতিকে নিয়ে সেখানেই থাকছেন তিনি।
এর পাশাপাশি একটি হোটেলে সাফাইয়ের কাজও পেয়েছেন সীতা। ফলে থাকার জায়গার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের পথও তৈরি হয়েছে।
এই পরিবর্তনে খুশি সীতা এবং তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কয়েকদিনের বিতর্কের পর সীতার জীবনে এই নতুন অধ্যায় কতটা স্থায়ী ও সফল হয়, এখন সেদিকেই নজর।


