পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা যাতে কোনও পরিস্থিতিতেই ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্যেই নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে **রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর**। সরকারি ছুটির দিনগুলিতেও হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা সচল রাখতে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অন্যান্য কর্মীদের ডিউটি সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, **সরকারি ছুটি মানেই স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে—এমন ধারণা প্রযোজ্য নয়।** জরুরি পরিষেবা, ইনডোর বিভাগ, প্রসূতি বিভাগ, আইসিইউ, ট্রমা কেয়ার, জরুরি অস্ত্রোপচার এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্ধারিত রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে। কারণ হাসপাতাল একটি অপরিহার্য জনপরিষেবা এবং এখানে ২৪ ঘণ্টাই চিকিৎসা ব্যবস্থা সচল রাখা বাধ্যতামূলক।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ এবং জেলা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সুপার, প্রিন্সিপাল বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই ছুটির দিনের ডিউটি রোস্টার প্রস্তুত করতে হবে। যাতে কোনও বিভাগে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব না হয় এবং রোগীদের চিকিৎসায় কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।
বিশেষ করে রথযাত্রা, দুর্গাপুজো, ঈদ, বড়দিন, স্বাধীনতা দিবস কিংবা অন্যান্য সরকারি ছুটির সময় হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক ক্ষেত্রে বেড়ে যায়। দুর্ঘটনা, খাদ্যে বিষক্রিয়া, সংক্রামক রোগ, প্রসবজনিত জরুরি অবস্থা কিংবা অন্যান্য আকস্মিক পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দফতর।
নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের সরকারি ছুটির দিনে ডিউটি পড়বে, তাঁদের ক্ষেত্রে প্রচলিত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী **ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি (Compensatory Off)** অথবা প্রযোজ্য অন্যান্য প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়া হবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়ম এবং পরিষেবার প্রয়োজন অনুযায়ী এই সুবিধা কার্যকর হবে।
স্বাস্থ্য প্রশাসনের মতে, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা কোনও দিনই বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাই সরকারি ছুটির দিনেও নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক কর্মীকে নির্ধারিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে পর্যাপ্ত ওষুধ, রক্ত, অক্সিজেন, জরুরি সরঞ্জাম এবং অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ছুটির সময় অনেক মানুষ ভ্রমণে বের হন বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ফলে দুর্ঘটনা বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যেতে পারে। সেই কারণে হাসপাতালগুলিকে আগাম প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের নির্দেশিকা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
এদিকে স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের মতে, জরুরি পরিষেবা চালু রাখা অবশ্যই প্রয়োজন, তবে পর্যাপ্ত জনবল, সুষম ডিউটি বণ্টন এবং বিশ্রামের বিষয়েও প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। নিয়মিত রোস্টার মেনে কাজ করলে পরিষেবার মান যেমন বজায় থাকবে, তেমনি কর্মীদের উপর অতিরিক্ত চাপও কমবে।
স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH), হাসপাতাল সুপার এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশ যথাযথভাবে কার্যকর করতে বলা হয়েছে। কোথাও যাতে চিকিৎসা পরিষেবায় বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকেও বিশেষ নজর রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে **সরকারি ছুটির দিনেও জরুরি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখতে স্বাস্থ্য দফতর নতুন ডিউটি নির্দেশিকা জারি করেছে।** এর মূল লক্ষ্য হল, বছরের যে কোনও দিন সাধারণ মানুষ যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা পান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কোনও ধরনের সমস্যা বা বিলম্বের মুখে না পড়েন।


