বলিউডের জনপ্রিয় **‘Welcome’** ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন সংযোজন ‘Welcome to the Jungle’ মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক তারকা, বড় বাজেট, অ্যাকশন, কমেডি এবং জমকালো ভিজ্যুয়াল নিয়ে তৈরি এই ছবি দর্শকদের প্রত্যাশা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে অক্ষয় কুমারের প্রত্যাবর্তন এবং একঝাঁক পরিচিত মুখের উপস্থিতি সিনেমাটিকে মুক্তির আগেই আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
ছবির মূল আকর্ষণ নিঃসন্দেহে এর বিশাল স্টার কাস্ট। একসঙ্গে বহু জনপ্রিয় অভিনেতাকে পর্দায় দেখার সুযোগ দর্শকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। গল্পের মূল ভিত্তি একটি রহস্যময় অভিযান, যেখানে একদল চরিত্র নানা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় একের পর এক হাস্যকর ঘটনা, ভুল বোঝাবুঝি এবং অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করে।
ছবির প্রথমার্ধ তুলনামূলকভাবে দ্রুত গতিতে এগোয়। একের পর এক কমেডি দৃশ্য, সংলাপ এবং চরিত্রদের পারস্পরিক সম্পর্ক দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখে। নির্মাতারা পুরনো ‘Welcome’ সিরিজের পরিচিত হাস্যরস বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন, পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কথা মাথায় রেখে আধুনিক উপস্থাপনাও যোগ করেছেন।
তবে ছবির দ্বিতীয়ার্ধে গল্প কিছুটা জটিল হয়ে ওঠে। একাধিক চরিত্র এবং সমান্তরাল ঘটনাপ্রবাহের কারণে কোথাও কোথাও চিত্রনাট্যের গতি মন্থর বলে মনে হতে পারে। কিছু দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হওয়ায় সিনেমার সামগ্রিক ছন্দ কিছুটা নষ্ট হয়েছে বলেও অনেক দর্শকের মত। যদিও নির্মাতারা অ্যাকশন ও ভিজ্যুয়াল এফেক্টের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করেছেন।
অভিনয়ের দিক থেকে অক্ষয় কুমার তাঁর স্বাভাবিক কমেডি টাইমিং দিয়ে নজর কেড়েছেন। তাঁর উপস্থিতি ছবির একাধিক দৃশ্যে প্রাণ এনে দিয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য অভিনেতারাও নিজ নিজ চরিত্রে যথাসম্ভব স্বাভাবিক অভিনয় করেছেন। বহু তারকার উপস্থিতি ছবিকে বড় পরিসর দিলেও, কিছু চরিত্রের জন্য পর্যাপ্ত পর্দা সময় না থাকায় তাঁদের অভিনয়ের পূর্ণ সম্ভাবনা ফুটে ওঠেনি।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে ছবিটি বেশ সমৃদ্ধ। সিনেমাটোগ্রাফি, লোকেশন নির্বাচন এবং অ্যাকশন দৃশ্য দর্শকদের চোখে আরাম দেয়। জঙ্গলের পরিবেশ, অ্যাডভেঞ্চারের আবহ এবং বড় মাপের সেট ডিজাইন ছবির ভিজ্যুয়াল মানকে আরও আকর্ষণীয় করেছে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও সাউন্ড ডিজাইনও গল্পের উত্তেজনা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
সঙ্গীতের ক্ষেত্রে ছবির গানগুলি বাণিজ্যিক ঘরানার দর্শকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে। যদিও সব গান সমানভাবে জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবুও কয়েকটি গান গল্পের সঙ্গে ভালোভাবেই মানিয়ে গেছে। নাচ এবং কোরিওগ্রাফিতেও নির্মাতারা জমকালো আয়োজনের চেষ্টা করেছেন।
চলচ্চিত্র সমালোচকদের একাংশের মতে, ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি এর বিনোদনমূলক উপস্থাপনা। যারা যুক্তিনির্ভর বা গভীর গল্পের পরিবর্তে হালকা মেজাজের পারিবারিক কমেডি উপভোগ করতে চান, তাঁদের কাছে এই ছবি ভালো লাগতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা আশা করেন, তাঁদের কাছে ছবির কিছু অংশ দীর্ঘ বলে মনে হতে পারে।
বক্স অফিসের দিক থেকেও ছবিটি ভালো সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজির নাম, পরিচিত তারকা এবং উৎসবের আবহে মুক্তি পাওয়ার কারণে পারিবারিক দর্শকদের একটি বড় অংশ প্রেক্ষাগৃহে আসতে পারেন।
সব মিলিয়ে **‘Welcome to the Jungle’** একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিনোদনমূলক ছবি। হাস্যরস, অ্যাকশন, বড় তারকা সমাবেশ এবং জমকালো ভিজ্যুয়াল উপভোগ করতে চাইলে ছবিটি দর্শকদের নিরাশ করবে না। যদিও চিত্রনাট্যের আরও সংহতি থাকলে সিনেমাটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারত। তবুও যারা হালকা মেজাজের, মসলা-ঘরানার বলিউড সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি একটি উপভোগ্য অভিজ্ঞতা হতে পারে।


