মার্কিন প্রেসিডেন্ট **ডোনাল্ড ট্রাম্প** প্রশাসনের নতুন শুল্ক নীতিকে ঘিরে বড় আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে হোয়াইট হাউস। **ভারত-সহ প্রায় ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের উপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি রাজ্য যৌথভাবে মামলা দায়ের করেছে।** মামলাটি দায়ের করা হয়েছে **ইউএস কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে**।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলাকারী রাজ্যগুলির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। তাঁদের দাবি, এই নতুন শুল্ক আসলে আগের আদালতে বাতিল হওয়া শুল্ক ব্যবস্থাকে অন্য আইনের মাধ্যমে পুনরায় কার্যকর করার চেষ্টা।
## কেন এই মামলা?
কয়েক মাস আগে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টের জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা কিছু শুল্ককে আইনসম্মত নয় বলে রায় দিয়েছিল। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন **Trade Act of 1974-এর Section 301** ব্যবহার করে নতুন শুল্ক ঘোষণা করে। এই নতুন সিদ্ধান্তকেই আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে ২৫টি রাজ্য।
মামলাকারীদের বক্তব্য, প্রশাসন যে যুক্তিতে এই শুল্ক আরোপ করেছে, তা আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁদের অভিযোগ, নতুন নীতির ফলে আমদানিকারক সংস্থা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ ভোক্তাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
## ভারতের উপর কী প্রভাব?
নতুন শুল্কের আওতায় ভারতের রপ্তানিও পড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্য রপ্তানির খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে প্রকৌশল পণ্য, উৎপাদিত সামগ্রী এবং অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে আদালতের রায় এবং দুই দেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক আলোচনার উপর।
## ২৫টি রাজ্যের মূল দাবিমামলায় রাজ্যগুলির দাবি—
* নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করা হোক।
* শুল্ক কার্যকর করার উপর আদালত স্থগিতাদেশ জারি করুক।
* ইতিমধ্যে আদায় করা শুল্ক ফেরতের বিষয়টিও বিবেচনা করা হোক।
* প্রশাসন আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করেনি বলে আদালত তা খতিয়ে দেখুক।
## ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, নতুন শুল্ক আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে জোরপূর্বক শ্রম (forced labour) রোধ এবং মার্কিন শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপ আইনি কাঠামোর মধ্যেই নেওয়া হয়েছে এবং আদালতে তারা নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
## আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বা আইনি লড়াই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। যদি আদালত শুল্কের বিরুদ্ধে রায় দেয়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে প্রশাসন জয়ী হলে ভারত-সহ একাধিক দেশের রপ্তানি খাতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
## নজরে আদালতের রায়
বর্তমানে মামলাটি আদালতের বিচারাধীন। তাই শুল্ক নীতি বহাল থাকবে কি না, অথবা প্রশাসনকে তা প্রত্যাহার করতে হবে কি না, তা নির্ভর করবে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর। এই রায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ভারত-সহ বিশ্বের বহু বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি ক্ষেত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


