Thursday, August 20, 2026

Creating liberating content

BWF Worlds: Treesa Jolly-Gayatri...

India's Tressa Jolly and Gayatri Gopichand Pullela in action against Japan's Rin...

Maharashtra NEET UG 2026...

Maharashtra NEET UG 2026 CAP Round 1 counselling schedule revised; registration opens...

১৯৮৪ শিখবিরোধী দাঙ্গার সাজাপ্রাপ্ত...

১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গা মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সাজ্জন কুমারের মৃত্যু...

IBPS Clerk apply online...

IBPS Clerk recruitment 2026: Application deadline tomorrow, check 11,403 posts and exam...
Homeবাংলাসবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি...

সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সবংয়ে পৌঁছন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে পরিস্থিতির বিস্তারিত রিপোর্ট নেন তিনি। পরিদর্শনের পর বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিম মেদিনীপুরের একাধিক এলাকায় লাগাতার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়েছে। বিশেষ করে সবং, নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাসপুর এবং কেশিয়াড়ির মতো এলাকাগুলিতে নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। সবং ব্লকের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ অংশ বন্যার জলে আক্রান্ত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কেলেঘাই এবং সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। 

## বন্যা পরিস্থিতি দেখতে সবংয়ে মুখ্যমন্ত্রী

বন্যার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সবং সফর আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। বুধবারই জানানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং এবং হুগলির আরামবাগে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। একই দিনে তাঁর ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়া সফরের কর্মসূচিও ছিল। 

সবংয়ে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। জলমগ্ন এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য নেন। বন্যার কারণে কোথায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, কোথায় ত্রাণ পৌঁছনোর সমস্যা হচ্ছে এবং কোথায় দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হয়।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতির ছবি দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, সবংয়ের একাধিক গ্রাম কার্যত জলবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় বাড়িঘরের চারপাশে জল জমেছে। গ্রামীণ রাস্তায় জল ওঠায় সাধারণ যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে। 

## ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই বন্যার প্রভাব

সবং ব্লকের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপরই বন্যার প্রভাব পড়েছে। কেলেঘাই এবং সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়তে থাকায় নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকাগুলিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, পানীয় জল এবং ত্রিপল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। যেসব এলাকায় সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, সেখানে নৌকা এবং ট্রাক্টর ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। 

বন্যার জেরে শুধু মানুষের বসতিই নয়, কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতির বড় অংশ কৃষিনির্ভর হওয়ায় জমিতে জল ঢুকে পড়লে কৃষকদের উপর সরাসরি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। ফলে সরকারি ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সহায়তাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

## বন্যার জলে বিপর্যস্ত স্বাভাবিক জীবন

বন্যার কারণে সবংয়ের বহু এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন কার্যত থমকে গিয়েছে। কোথাও রাস্তার উপর দিয়ে জল বইছে, কোথাও আবার বাড়ির উঠোন ও বসতবাড়ির চারপাশে জল জমে রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় জরুরি পরিষেবা পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করেছে। ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জায়গায় নৌকা মোতায়েন করা হয়েছে। যে সমস্ত জায়গায় গাড়ি যাতায়াত সম্ভব হচ্ছে না, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থায় খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। 

বন্যার সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় পানীয় জল এবং খাবারের ব্যবস্থা। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও পানীয় জলের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

## ত্রাণ শিবির ও উদ্ধারকাজে জোর

পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরেও বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দুই মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল ঢুকে যাওয়ায় একাধিক ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে।

বিভিন্ন জায়গায় NDRF এবং SDRF কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করার কাজ চলছে। প্রশাসনের তরফে সিভিল ডিফেন্স কর্মীদেরও কাজে লাগানো হয়েছে। 

সবংয়েও পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন। জেলা শাসক বিজিন কৃষ্ণ ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক আধিকারিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। 

## নদীর জল বাড়ায় বাড়ছে আশঙ্কা

এই বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অতিরিক্ত বৃষ্টির পাশাপাশি নদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধিকে দেখা হচ্ছে। কেলেঘাই এবং সুবর্ণরেখার জল বাড়ায় নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।

এদিকে রাজ্যের অন্য অংশেও ভারী বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন নদীতে জল বাড়ছে। ফলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া এবং পূর্ব বর্ধমানের কিছু এলাকাতেও জলস্তর নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি চলছে। 

বিশেষ করে নিম্ন দামোদর অববাহিকায় জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এর প্রভাব নিম্ন দামোদর অববাহিকার জেলাগুলিতেও পড়তে পারে।

## সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর

বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী দুর্গত এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং প্রশাসনের তরফে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

বন্যার সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন বয়স্ক মানুষ, শিশু, মহিলা এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা। তাঁদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসনকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর সরেজমিনে পরিদর্শনের ফলে প্রশাসনিক স্তরে পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

## আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা

বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বন্যার ফলে বাড়িঘর, কৃষিজমি, রাস্তা এবং অন্যান্য সম্পত্তির ক্ষতি হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সেই ক্ষতি একা সামাল দেওয়া কঠিন। তাই ত্রাণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রশাসনের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের উপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। 

## কৃষকদের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ

সবংয়ের মতো গ্রামীণ এলাকায় বন্যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে কৃষির উপর। দীর্ঘ সময় জমিতে জল দাঁড়িয়ে থাকলে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে কৃষকদের আয় কমে যেতে পারে এবং পরবর্তী চাষের জন্যও বাড়তি খরচের প্রয়োজন হতে পারে।

বন্যার জল নামার পর কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত হিসাব করা জরুরি হয়ে উঠবে। কোন জমিতে কতটা ফসল নষ্ট হয়েছে, কোথায় জমির মাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোথায় বাঁধ বা সেচ পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে—এসব তথ্য সংগ্রহের পরই পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির ছবি স্পষ্ট হবে।

সরকারি আর্থিক সহায়তা তাই কৃষকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

## শুধু সবং নয়, একাধিক এলাকা জলের তলায়

বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সবং ব্লকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়, মোহনপুর, দাসপুর এবং কেশিয়াড়ির বিভিন্ন এলাকাতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। 

পূর্ব মেদিনীপুরেও হালদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, ময়না, ভগবানপুর এবং পটাশপুরের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। প্রশাসনের তরফে একাধিক ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ত্রিপল বিতরণ করা হয়েছে। 

কিছু এলাকায় বাঁশ ও কাঠের সেতু ভেসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে। একটি বাঁশের সেতু ভেঙে যাওয়ায় ময়নার আসনান এবং ভগবানপুরের গুরগ্রামের মধ্যে যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

## সামনে আরও বৃষ্টির আশঙ্কা

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল, পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার আগেই যদি আবার ভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে জলস্তর আরও বাড়তে পারে। নদীর জলস্তরের পাশাপাশি জলাধার থেকে জল ছাড়ার পরিমাণও পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলবে।

প্রশাসন তাই নদী, বাঁধ এবং জলাধারের পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। কোথাও বাঁধ দুর্বল হলে দ্রুত মেরামতি, কোথাও রাস্তা ডুবে গেলে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছনোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বন্যার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সময়মতো দুর্গত মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।

## মুখ্যমন্ত্রীর সফরের তাৎপর্য

মুখ্যমন্ত্রীর সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন প্রশাসনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। শুধু কলকাতায় বসে রিপোর্ট নেওয়ার পরিবর্তে দুর্গত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি দেখা হলে স্থানীয় সমস্যাগুলি সরাসরি বোঝা সম্ভব হয়।

বিশেষ করে জলবন্দি গ্রামগুলির ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পার্থক্য থাকতে পারে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের মাধ্যমে কোথায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকাজ প্রয়োজন, কোথায় ত্রাণ বাড়াতে হবে এবং কোথায় পরিকাঠামো মেরামত জরুরি—তা চিহ্নিত করা সহজ হতে পারে।

## এখন নজর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ রিপোর্টে

সবংয়ে জল কমতে শুরু করার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ছবি আরও পরিষ্কার হবে। কতগুলি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কত জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, কত রাস্তা বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কত পরিবার সরাসরি বন্যার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে—এসব তথ্য সংগ্রহ করবে প্রশাসন।

এর ভিত্তিতেই পরবর্তী পর্যায়ের আর্থিক সাহায্য এবং পুনর্বাসনের পরিকল্পনা তৈরি হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং বিপজ্জনক জলমগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলা। একইসঙ্গে ত্রাণ শিবিরে প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছনোর বিষয়টিও প্রশাসনের কাছে বড় দায়িত্ব।

## শেষ কথা

পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ গুরুতর হয়ে ওঠার পর বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেলেঘাই ও সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বৃদ্ধির পাশাপাশি টানা বৃষ্টির কারণে সবং ব্লকের ১৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই বন্যার প্রভাব পড়েছে। প্রশাসনের তরফে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার, পানীয় জল এবং ত্রিপল বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় নৌকা ও ট্রাক্টর ব্যবহার করে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। 

পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যার কারণে সাধারণ মানুষের বাড়িঘর ও কৃষিজমির ক্ষতির পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাই ত্রাণের পাশাপাশি আর্থিক সাহায্য এবং পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এখন প্রশাসনের সামনে মূল লক্ষ্য হল দুর্গত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া, পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা এবং বন্যার জল নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব তৈরি করা। একইসঙ্গে নদীর জলস্তর এবং আগামী দিনের আবহাওয়ার উপরও নজর রাখা হচ্ছে। কারণ নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

সবংয়ের পাশাপাশি পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরের অন্যান্য জলমগ্ন এলাকাতেও ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন বন্যা পরিস্থিতির দিকে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও নজর থাকবে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

১৯৮৪ শিখবিরোধী দাঙ্গার সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সাজ্জন কুমারের মৃত্যু, বয়স ৮০

১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গা মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সাজ্জন কুমারের মৃত্যু হল। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৮০ বছর বয়সে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি তিহাড় জেলে যাবজ্জীবন সাজা কাটছিলেন। জেল থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে...

ভাগবতের সফরের আগেই RSS-কে নিষেধাজ্ঞার দাবি আমেরিকায়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা RSS-কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরের আগেই RSS-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা **United States Commission on International Religious...

SBI-এর নতুন নিয়ম, BSBD অ্যাকাউন্টে চারবারের পরেই কাটবে টাকা

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা SBI-এর কোটি কোটি গ্রাহকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের **Basic Savings Bank Deposit বা BSBD Account**-এর ক্ষেত্রে ক্যাশ উইথড্রয়ালের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি টাকা তুললে গ্রাহকদের অতিরিক্ত...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.