NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা ছাত্র-যুব আন্দোলনের অন্যতম মুখ **সোনম ওয়াংচুক** অবশেষে **২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করেছেন**। তবে অনশন ভাঙলেও আন্দোলন শেষ হচ্ছে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি এবং আন্দোলনের অন্যান্য নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন আগের মতোই চলবে।
গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর মূল দাবি ছিল, NEET-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। অনশন চলাকালীন দেশজুড়ে বহু ছাত্র, যুবক, শিক্ষক এবং বিভিন্ন সংগঠন তাঁর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে।
কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা এবং বিভিন্ন সাংসদের অনুরোধের পর তিনি অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং-এর উপস্থিতিতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন। ওয়াংচুক জানান, সম্ভাব্য অশান্তি বা সহিংসতা এড়ানোর স্বার্থে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অনশন ভাঙলেও আন্দোলনের মূল দাবিগুলি অপরিবর্তিত রয়েছে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শুধুমাত্র আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চান তাঁরা। পরীক্ষা পরিচালনায় নিরাপত্তা বাড়ানো, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন, দ্রুত বিচার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করার জন্য স্থায়ী সংস্কারই তাঁদের প্রধান দাবি।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পরীক্ষায় অনিয়ম রোধে আরও কঠোর আইন আনার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য কোনও আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাসও আলোচনায় উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, **ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party বা CJP)** এবং আন্দোলনের অন্যান্য সংগঠন জানিয়ে দিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের অনশন শেষ হলেও দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তাঁদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।
শিক্ষাবিদদের মতে, সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁসের ঘটনাগুলি দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার উপর বড় প্রভাব ফেলেছে। তাই প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা, কঠোর নজরদারি এবং দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন এখন শুধুমাত্র একটি পরীক্ষাকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নেই। কর্মসংস্থান, শিক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিয়েও বৃহত্তর জনআলোচনার জন্ম দিয়েছে। ফলে সরকারের সঙ্গে সংলাপ শুরু হলেও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ এখনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে, **২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহার করলেও সোনম ওয়াংচুক আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।** তাঁর বক্তব্য, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি হলেও শিক্ষাব্যবস্থায় প্রকৃত সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির দিকেই নজর থাকবে।


