Monday, August 17, 2026

Creating liberating content

সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য,...

# সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশে বড়সড়...

রেলস্টেশনের জলে E. coli,...

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E....

ডাক্তারি সামলে বিজেপির কেন্দ্রীয়...

পেশায় বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্ট। চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন...

মমতার ফোনে ‘আরশোলা’ কর্মী,...

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য...
Homeবাংলাবিজেপিতে ফিরলেন রাম...

বিজেপিতে ফিরলেন রাম মাধব, বাড়ল সংঘের প্রভাব

দীর্ঘ ছয় বছর পর ফের বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন **রাম মাধব**। বিজেপির নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের তালিকায় তাঁকে জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার দলের জাতীয় সভাপতি নীতীন নবীন নতুন সাংগঠনিক টিম ঘোষণা করেন। আর সেই তালিকাতেই সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন। তাঁর পাশাপাশি আরও একাধিক এমন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের রাজনৈতিক শিকড় বা সাংগঠনিক সম্পর্ক রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ফলে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির আগে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসে **আরএসএসের প্রভাব এবং ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হচ্ছে** বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। 

রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একজন পুরনো নেতার দলে ফিরে আসার ঘটনা নয়। বিজেপির সংগঠন এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে তিনি এমন একজন নেতা, যিনি একইসঙ্গে সংঘের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিজেপির রাজনৈতিক কৌশল—দুই দিক সম্পর্কেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রাখেন। ২০১৪ সালের পর বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারত এবং জম্মু-কাশ্মীরে দলের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এবার জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস শুরু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

## ছয় বছর পর বিজেপিতে রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন

রাম মাধব ২০১৪ সালে বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠনের পর তাঁকে দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তার আগে তিনি দীর্ঘদিন আরএসএসের প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন। ফলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরেও সংঘের সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং অভিজ্ঞতা দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 

জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় রাম মাধবকে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলবিদ হিসেবে দেখা হত। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনা হয়েছে।

অসম, ত্রিপুরা এবং নাগাল্যান্ডের মতো রাজ্যে বিজেপির সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকা ছিল। একইসঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরেও দলের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 

## ২০২০ সালে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরানো হয়

রাম মাধবের বিজেপির প্রথম ইনিংস অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা দলের সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় পরিবর্তন আনেন। সেই সময় জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় রাম মাধবকে।

এর পর তিনি সক্রিয়ভাবে আরএসএসের কাজে ফিরে যান। সংঘের জাতীয় কার্যনির্বাহী পর্যায়েও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। অর্থাৎ বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠন থেকে দূরে থাকলেও তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক-সাংগঠনিক পরিসর থেকে সরে যাননি। 

দীর্ঘ ছয় বছর পর এবার আবার বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে তাঁর প্রত্যাবর্তন হল।

## এবার জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব

বিজেপির নতুন সাংগঠনিক টিমে রাম মাধবকে **জাতীয় সহ-সভাপতি** করা হয়েছে। এটি দলের কেন্দ্রীয় কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ।

তাঁর নতুন দায়িত্বের নির্দিষ্ট ক্ষেত্র এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে এমন একজন নেতা, যিনি দীর্ঘদিন আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি বিজেপির জাতীয় স্তরের সংগঠন পরিচালনা করেছেন, তাঁকে সামনে রেখে দল কী ধরনের কৌশল নেয়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রাম মাধব নিজেও নিজের সরকারি ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং ২০২৪ সালে জম্মু-কাশ্মীরের বিধানসভা নির্বাচনের দায়িত্বেও ছিলেন। 

## কেন গুরুত্বপূর্ণ রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন?

রাম মাধবের রাজনৈতিক গুরুত্ব বোঝার জন্য তাঁর আরএসএসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের দিকে তাকাতে হয়। তিনি আরএসএসের প্রচারক হিসেবে রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় কাটিয়েছেন। পরে বিজেপিতে গিয়ে দলের সাংগঠনিক বিস্তারে কাজ করেন।

অর্থাৎ বিজেপি ও সংঘ—দুই সাংগঠনিক কাঠামোর অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

এই দ্বৈত অভিজ্ঞতাই তাঁকে অন্য অনেক নেতার থেকে আলাদা করে। বিজেপির নির্বাচনী রাজনীতি এবং আরএসএসের সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। 

## ২০২৯-এর প্রস্তুতির আগে বড় সাংগঠনিক বদল

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। দল ২৪০টি আসনে জয়ী হয়। তবে এনডিএ জোট ২৯৩টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করে।

এই পরিস্থিতিতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এখন থেকেই শুরু করার প্রয়োজন রয়েছে বিজেপির সামনে। সেই কারণেই দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

রাম মাধবের মতো অভিজ্ঞ নেতাকে ফেরানো সেই বৃহত্তর সাংগঠনিক পরিকল্পনার অংশ কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

## শুধু রাম মাধব নন, আরও সংঘঘনিষ্ঠ মুখ

নতুন বিজেপি টিমে শুধু রাম মাধবই নন, আরও কয়েকজন সংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে।

সংঘের প্রচারক হিসেবে পরিচিত **সুনীল বনসলকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রাখা হয়েছে**। বিজেপির নির্বাচনী প্রচার এবং সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা আলোচিত। 

এছাড়াও বিএল সন্তোষের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোতেও সংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ফলে নতুন টিমে বিজেপি ও আরএসএসের সাংগঠনিক সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে।

## উত্তর-পূর্বে বিজেপির বিস্তারে রাম মাধব

রাম মাধবের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় উত্তর-পূর্ব ভারত। বিজেপি যখন ওই অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল, তখন সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

অসম, ত্রিপুরা এবং নাগাল্যান্ডে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজে তাঁর ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ত্রিপুরায় বিজেপির উত্থান এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে দলের বিস্তার তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। 

এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতেও বিজেপির কাজে লাগতে পারে।

## জম্মু-কাশ্মীরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

জম্মু-কাশ্মীরের রাজনীতিতেও রাম মাধবের নাম বিশেষভাবে উঠে আসে। বিজেপি ও পিডিপির জোট সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলবিদ ছিলেন।

সেই জোট পরবর্তী সময়ে ভেঙে যায় এবং বিজেপি জোট সরকার থেকে সরে আসে। তবে জম্মু-কাশ্মীরে বিজেপির রাজনৈতিক সংগঠন ও কৌশল তৈরির ক্ষেত্রে রাম মাধবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। 

বর্তমানে জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ওই অঞ্চলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন নেতার কেন্দ্রীয় সংগঠনে প্রত্যাবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।

## দ্বিতীয় ইনিংস কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

রাম মাধবের বিজেপিতে প্রত্যাবর্তনকে ইতিমধ্যেই তাঁর **দ্বিতীয় ইনিংস** হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রথমবার তিনি জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলেছিলেন। এবার জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্বের প্রকৃতি আলাদা হতে পারে।

তবে তাঁর পুরনো অভিজ্ঞতা এবং সংগঠন পরিচালনার দক্ষতা দলকে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারে।

বিশেষ করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং তার আগে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাঁর অভিজ্ঞতা বিজেপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

## মোদির ভূমিকা নিয়ে জল্পনা

রাম মাধবের নতুন দায়িত্বের পিছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা রয়েছে বলে একাধিক সূত্রের দাবি। তবে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে আরএসএস থেকে বিজেপিতে পাঠানোর সময়ও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। এবার ছয় বছর পর তাঁর প্রত্যাবর্তনেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে দলীয়ভাবে বিস্তারিত কিছু না জানানো পর্যন্ত এটিকে সূত্রভিত্তিক তথ্য হিসেবেই দেখা উচিত।

## আরএসএস-বিজেপি সম্পর্কের নতুন বার্তা?

রাম মাধবের প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য সম্ভবত এখানেই। বিজেপি এবং আরএসএসের সম্পর্ক বরাবরই ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।

বিজেপির সংগঠনে সংঘের প্রচারকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নতুন কিছু নয়। কিন্তু একই সময়ে একাধিক সংঘঘনিষ্ঠ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হলে দলের সাংগঠনিক দর্শন সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট বার্তা পাওয়া যায়।

নতুন টিমে রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন সেই বার্তাকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন। 

## স্মৃতি ইরানিরও বড় প্রত্যাবর্তন

বিজেপির নতুন সাংগঠনিক তালিকায় শুধু রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন নয়, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী **স্মৃতি ইরানিকেও** গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আমেঠিতে কংগ্রেস প্রার্থী কিশোরীলাল শর্মার কাছে পরাজিত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছিলেন স্মৃতি। এবার আবার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন তিনি। 

ফলে বিজেপির নতুন টিমে একাধিক পুরনো এবং অভিজ্ঞ মুখের প্রত্যাবর্তন বা পুনর্বহাল স্পষ্ট।

## পীযূষ গোয়াল পেলেন নতুন দায়িত্ব

নতুন সাংগঠনিক টিমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়ালকে জাতীয় কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে। এর ফলে বিজেপির নতুন কাঠামোয় প্রশাসনিক, সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক—বিভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা একত্রিত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। 

অন্যদিকে বসুন্ধরা রাজে এবং বৈজয়ন্ত পাণ্ডার মতো নেতাদেরও তাঁদের দায়িত্বে রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

অর্থাৎ পুরোপুরি নতুন মুখের বদলে অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

## ২০২৯ লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কৌশল

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এখনও কয়েক বছর দূরে। কিন্তু জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলির জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন তৈরির কাজ অনেক আগে থেকেই শুরু করতে হয়।

বিশেষ করে ২০২৪ সালে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর বিজেপির সামনে অন্যতম বড় লক্ষ্য হল সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং বিভিন্ন রাজ্যে ভোটভিত্তি বাড়ানো।

রাম মাধবের মতো নেতার অভিজ্ঞতা এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ব্যবহার করা হতে পারে।

## সংগঠন বনাম নির্বাচন—দুই ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা

রাম মাধবের বিশেষত্ব হল, তিনি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তা নন; সাংগঠনিক কাজের ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আরএসএসের প্রচারক হিসেবে মাঠপর্যায়ের সংগঠন বোঝার সুযোগ পেয়েছেন। বিজেপিতে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচনী রাজনীতি ও কেন্দ্রীয় সংগঠনের সঙ্গে কাজ করেছেন।

ফলে তাঁর নতুন দায়িত্বে এই দুই ধরনের অভিজ্ঞতার সমন্বয় দেখা যেতে পারে।

## বিজেপির জন্য রাম মাধব কতটা কার্যকর হতে পারেন?

এখনই তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা নির্বাচনী ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে বিজেপির সংগঠনকে রাজ্যভিত্তিকভাবে শক্তিশালী করা, সংঘের সঙ্গে সমন্বয় এবং রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তাঁর অভিজ্ঞতা দলের কাজে আসতে পারে।

বিশেষ করে যেসব অঞ্চলে বিজেপির সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

## পুরনো অভিজ্ঞতা, নতুন চ্যালেঞ্জ

রাম মাধব যখন ২০১৪ সালে বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন, তখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থান আজকের তুলনায় আলাদা ছিল।

এখন বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে দলকে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তাই তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস প্রথম ইনিংসের তুলনায় ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে শুরু হচ্ছে।

## রাম মাধবের সামনে কী কী দায়িত্ব আসতে পারে?

জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবে তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্ব দল পরে স্পষ্ট করতে পারে। তবে সম্ভাব্যভাবে কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যবহার করা হতে পারে—

* সাংগঠনিক সম্প্রসারণ

* রাজ্যভিত্তিক নির্বাচনী কৌশল

* আরএসএসের সঙ্গে সমন্বয়

* উত্তর-পূর্ব ও সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে রাজনৈতিক সংগঠন

* জাতীয় স্তরে নির্বাচনী প্রস্তুতি

* বিজেপির দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পরিকল্পনা

এগুলি সম্ভাব্য ক্ষেত্র; আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বণ্টন না হওয়া পর্যন্ত এগুলিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়।

## নতুন টিমে সংঘের গুরুত্ব

বিজেপির নতুন সাংগঠনিক টিমের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, সংঘের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত একাধিক নেতা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছেন।

রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন সেই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। সুনীল বনসলের মতো নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা এবং বিএল সন্তোষের মতো সংঘঘনিষ্ঠ নেতাদের কেন্দ্রীয় সংগঠনে ভূমিকা বজায় রাখাও একই ধারার অংশ। 

তাই নতুন টিমকে শুধুমাত্র নিয়মিত সাংগঠনিক রদবদল হিসেবে না দেখে বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

## সামনে রাজ্য নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্য বিজেপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্মৃতি ইরানির মতো নেতাকে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক করার পাশাপাশি রাম মাধবকে জাতীয় সহ-সভাপতি করা—এই সিদ্ধান্তগুলি রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক প্রস্তুতির সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। 

তবে কোন নেতাকে কোন রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা পরবর্তী সময়ে স্পষ্ট হতে পারে।

## রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল

রাম মাধবের প্রত্যাবর্তনের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাঁকে বিজেপি কী ধরনের দায়িত্ব দেবে?

তিনি কি আবার কোনও নির্দিষ্ট রাজ্য বা অঞ্চলের সাংগঠনিক দায়িত্ব নেবেন? নাকি জাতীয় স্তরে বৃহত্তর কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা পালন করবেন?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

তবে তাঁর জাতীয় সহ-সভাপতি পদে নিয়োগই বুঝিয়ে দিয়েছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর অভিজ্ঞতাকে আবার কাজে লাগাতে চাইছে।

## রাম মাধবের প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক বার্তা

সব মিলিয়ে, বিজেপির নতুন সাংগঠনিক টিমে রাম মাধবের প্রত্যাবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। দীর্ঘ ছয় বছর পর আরএসএসের কাজ থেকে আবার বিজেপির কেন্দ্রীয় সংগঠনে ফিরে এলেন তিনি।

২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত জাতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা এবার নতুন ভূমিকায় কাজে লাগতে পারে। উত্তর-পূর্ব এবং জম্মু-কাশ্মীরে তাঁর পুরনো সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাও দলের জন্য সম্পদ হতে পারে। 

একইসঙ্গে নতুন টিমে সংঘঘনিষ্ঠ একাধিক নেতার উপস্থিতি বিজেপি-আরএসএসের সাংগঠনিক সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আগামী কয়েক মাসে রাম মাধবকে কী দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং কোন কোন রাজ্য বা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁকে সক্রিয় করা হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে। তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস শেষ পর্যন্ত বিজেপির সংগঠন এবং নির্বাচনী কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস

# সন্ত্রাস দমনে বড় সাফল্য, শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক ধ্বংস স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করার দাবি করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, পাকিস্তানভিত্তিক এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI-সমর্থিত **শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক (Shahzad Bhatti Network)**-এর বিরুদ্ধে বড়সড়...

রেলস্টেশনের জলে E. coli, ২০ হাজার পয়েন্টে বড় বদল

ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E. coli ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি** ধরা পড়েছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা CAG-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে রেল মন্ত্রক। যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানীয়...

ডাক্তারি সামলে বিজেপির কেন্দ্রীয় দলে মধুছন্দা

পেশায় বিশিষ্ট চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ অনকোলজিস্ট। চিকিৎসাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের কাজের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে এবার জাতীয় স্তরে বড় দায়িত্ব পেলেন বাংলার মধুছন্দা কর। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নতুন কেন্দ্রীয় টিমে **সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি** হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তিনি। সোমবার বিজেপির...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.