Monday, August 24, 2026

Creating liberating content

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন...

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল।...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক,...

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয়...

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে...

ক্রীড়া দিবসে তরুণদের সঙ্গে...

জাতীয় ক্রীড়া দিবসকে সামনে রেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং উঠতি ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি...
Homeবাংলাশেষ হয়নি বাদল...

শেষ হয়নি বাদল অধিবেশন? প্রোরোগেশন ঘিরে নতুন প্রশ্ন

সংসদের ২০২৬ সালের বাদল অধিবেশন কার্যত শেষ হয়ে গেলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়নি। ১৩ আগস্ট নির্ধারিত শেষ দিনে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন মুলতুবি করা হলেও রাষ্ট্রপতির তরফে আনুষ্ঠানিক ‘prorogation’ বা অধিবেশন সমাপ্তির ঘোষণা এখনও হয়নি। সাধারণত কোনও সংসদীয় অধিবেশন শেষ হওয়ার পর খুব বেশি সময় না নিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে তা প্রোরোগ করা হয়। কিন্তু এবার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। 

এই অস্বাভাবিক বিলম্বকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, সংসদের অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার ক্ষেত্রে এমন বিলম্বের নির্দিষ্ট কারণ জানানো উচিত। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হলেও এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে আসেনি। 

## ১৩ আগস্ট মুলতুবি হয়েছিল অধিবেশন

২০২৬ সালের বাদল অধিবেশনের নির্ধারিত শেষ দিন ছিল ১৩ আগস্ট। সেদিন লোকসভায় কার্যত কোনও উল্লেখযোগ্য আলোচনা বা স্বাভাবিক সংসদীয় কাজকর্ম হয়নি। বিরোধী সাংসদদের বিক্ষোভের জেরে অধিবেশনের শুরু থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে উপস্থিত থাকলেও তাঁকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

শেষ পর্যন্ত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অধিবেশন মুলতুবি করে দেন। এরপর ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর বাজিয়ে অধিবেশন শেষ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই প্রথম সংসদের সমাপ্তির সময়ে পুরো ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো হয়েছে। 

তবে সংসদ মুলতুবি হওয়া এবং অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোরোগ হওয়া এক বিষয় নয়। এই দুই প্রক্রিয়ার পার্থক্য নিয়েই এখন মূল আলোচনা।

## মুলতুবি আর প্রোরোগ—দুইয়ের পার্থক্য কী?

সংসদীয় ব্যবস্থায় ‘adjournment’ অর্থাৎ মুলতুবি করা এবং ‘prorogation’ অর্থাৎ অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত করার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

কোনও দিনের জন্য বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অধিবেশন স্থগিত করা হলে তাকে মুলতুবি বলা হয়। আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা মুলতুবি হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেই অধিবেশন শেষ করা হয় প্রোরোগেশনের মাধ্যমে।

অর্থাৎ ১৩ আগস্ট সংসদের নির্ধারিত কাজ শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক প্রোরোগেশন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক অর্থে অধিবেশন পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলা যায় না।

এই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

## সাধারণত কতদিনের মধ্যে প্রোরোগ হয়?

সাম্প্রতিক সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, কোনও অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হওয়ার পর সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক প্রোরোগেশন হয়ে থাকে। এবার সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ না হওয়ায় কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত adjournment এবং prorogation-এর মধ্যে দুই থেকে চার দিনের ব্যবধান দেখা যায়। কিন্তু ১৩ আগস্টের পর এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় বিষয়টি বিরোধীদের নজরে এসেছে। 

## কংগ্রেসের প্রশ্ন, কেন এত দেরি?

এই বিলম্বকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেছে কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন সংসদের বাদল অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করার ক্ষেত্রে এত সময় লাগছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ আরও রাজনৈতিক। তাদের প্রশ্ন, কেন্দ্র কি কোনও বিশেষ রাজনৈতিক সমীকরণ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব নিয়ে এখনও কাজ করছে?

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এমন অস্বাভাবিক ব্যবধানের কারণ জানতে চেয়েছেন। 

## সংখ্যাগরিষ্ঠতার জল্পনা কেন?

সংসদের কোনও অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ না হওয়ায় সরকার চাইলে নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে—এমন রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে।

এই কারণেই কংগ্রেসের তরফে প্রশ্ন উঠেছে, সরকার কি কোনও বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমর্থন বা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে?

তবে এই অভিযোগ এখনও রাজনৈতিক বক্তব্যের পর্যায়েই রয়েছে। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনও কারণ জানিয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে জল্পনা এবং নিশ্চিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।

## বাদল অধিবেশন কতটা কার্যকর ছিল?

২০২৬ সালের বাদল অধিবেশন শুরু থেকেই তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের সাক্ষী হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের প্রতিবাদ এবং স্লোগানের কারণে সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম বারবার ব্যাহত হয়েছে।

সংবাদ প্রতিদিনের রিপোর্ট অনুযায়ী, অধিবেশনের ৮০ শতাংশেরও বেশি সময় কার্যত মুলতুবি অবস্থায় কেটেছে। তবে সেই সীমিত সময়ের মধ্যেই সরকার মোট ১৯টি বিল পাস করিয়ে নেয়। 

ফলে একদিকে বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, পর্যাপ্ত আলোচনা ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য ছিল, বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে।

## অল্প সময়েই একাধিক বিল পাস

অধিবেশনের শেষের দিকে বিল পাসের গতি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১০টি বিল গড়ে চার মিনিটেরও কম সময়ে পাস হয়েছে। অর্থাৎ মোট ৪০ মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে ১০টি বিল পাস করানো হয়।

এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা অভিযোগ করে, সংসদে পর্যাপ্ত আলোচনা এবং বিতর্কের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন এই দ্রুত বিল পাসের সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আইন তৈরির প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

## বিরোধীদের বিক্ষোভে বারবার অচল সংসদ

বাদল অধিবেশনের প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীরা সংসদের ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ করেছেন। NEET এবং পরীক্ষায় অনিয়ম, তরুণদের উপর নির্যাতন, ভোটার তালিকা-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে।

সংসদে এই বিক্ষোভের কারণে বারবার লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম স্থগিত হয়েছে। শেষ দিনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। 

এর ফলে সংসদে সরকারের আইন প্রণয়ন এবং বিরোধীদের আলোচনা চাওয়ার মধ্যে সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়েছে।

## শেষ দিনেও হয়নি অমিত শাহের বিবৃতি

১৩ আগস্টের অধিবেশনের শেষ দিনে বিশেষ নজর ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যের দিকে। দিল্লিতে পড়ুয়াদের উপর নির্যাতন সংক্রান্ত একটি বিষয়ে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

কিন্তু বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে সেই বক্তব্য আর দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে সংবাদ প্রতিদিন জানিয়েছে। 

এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়।

## ‘বন্দে মাতরম’ দিয়ে শেষ হয় অধিবেশন

অধিবেশনের শেষ মুহূর্তেও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। স্পিকার ওম বিড়লা বুঝতে পারেন যে স্বাভাবিক আলোচনা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এরপর ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতদিন সংসদের অধিবেশনের শেষ দিনে সাধারণত গানটির প্রথম দুই স্তবক বাজানো হলেও এবার পুরো গানটি বাজানো হয়েছে। 

এই ঘটনাও বাদল অধিবেশনের শেষ দিনকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

## তাহলে এখনও অধিবেশন শেষ হয়নি কেন?

এখানেই মূল প্রশ্ন। সংসদের কার্যক্রম শেষ হলেও রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক প্রোরোগেশন এখনও হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সময় সময়ে সংসদের অধিবেশন আহ্বান ও সমাপ্ত করার ক্ষমতা রাখেন।

তাই ১৩ আগস্টের পর সংসদের কোনও বৈঠক না হলেও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াটি আলাদা বিষয়।

বর্তমানে সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়ায় বিরোধীরা কেন্দ্রের কাছে ব্যাখ্যা চাইছে।

## কেন্দ্রের সামনে কী বিকল্প?

সরকারের সামনে মূলত রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। যদি প্রোরোগেশনের বিলম্ব প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক কারণে হয়ে থাকে, তাহলে তা স্পষ্ট করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, যদি কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা সংসদীয় হিসাবের কারণে প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত হয়ে থাকে, তাহলে সেই বিষয়টিও ভবিষ্যতে সামনে আসতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে এমন কোনও নিশ্চিত ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি।

## দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জল্পনা

সংসদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তিতে বিলম্বের বিষয়টি দিল্লির রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাদল অধিবেশনে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের পর এমন বিলম্ব আরও বেশি নজর কেড়েছে।

বিরোধীদের একাংশ মনে করছে, সরকার হয়তো কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এখনও কাজ করছে। যদিও এই ধারণার পক্ষে কোনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই।

## ডিলিমিটেশন বিলের প্রসঙ্গও গুরুত্বপূর্ণ

২০২৬ সালের বাদল অধিবেশনকে ঘিরে ডিলিমিটেশন বিল নিয়েও ব্যাপক রাজনৈতিক জল্পনা ছিল। সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, সরকার ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত সাংবিধানিক সংশোধনী বিল নিয়ে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারে। 

এই ধরনের সাংবিধানিক সংশোধনী পাস করতে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। ফলে সংসদে সংখ্যার সমীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

যদিও শেষ পর্যন্ত বাদল অধিবেশনে ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হয়নি।

## বিরোধী শিবিরের অভিযোগ

কংগ্রেসের বক্তব্য, সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রতিটি প্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশন শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রোরোগেশনের প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত।

তাদের মতে, এমন অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়ে সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট উত্তর পাওয়া দরকার।

এই প্রসঙ্গেই কংগ্রেস ‘অস্বাভাবিক বিলম্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। 

## সরকারের কাজের দাবি বনাম বিরোধীদের অভিযোগ

বাদল অধিবেশন নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের বক্তব্য সম্পূর্ণ আলাদা।

সরকারের দাবি, বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভের মধ্যেও প্রয়োজনীয় আইন পাশ করানো হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, আলোচনা ও বিতর্ক ছাড়াই দ্রুত বিল পাস করা হয়েছে।

এই দুই বিপরীত অবস্থানই এবারের অধিবেশনের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।

## সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার গুরুত্ব

সংসদ শুধু আইন পাশ করার জায়গা নয়। গুরুত্বপূর্ণ আইন ও নীতির বিষয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনা, প্রশ্নোত্তর এবং বিতর্কও সংসদীয় গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিন্তু এবারের বাদল অধিবেশনে দীর্ঘ সময় ধরে হট্টগোল এবং মুলতুবির কারণে সেই আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত সময়ে দ্রুত বিল পাস করার ঘটনাও প্রশ্ন তুলেছে।

ফলে এই অধিবেশন থেকে সংসদীয় কাজের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

## আগামী দিনে কী হতে পারে?

এখন নজর রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক প্রোরোগেশন ঘোষণার দিকে। কবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় এবং কেন্দ্র এর বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

যদি দ্রুত প্রোরোগেশন হয়ে যায়, তাহলে বর্তমান জল্পনা অনেকটাই থেমে যেতে পারে। কিন্তু বিলম্ব আরও দীর্ঘ হলে রাজনৈতিক প্রশ্ন আরও তীব্র হতে পারে।

বিশেষ করে বিরোধীরা যদি বিষয়টি সংসদীয় গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করে আন্দোলনে নামে, তাহলে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

## শেষ কথা

২০২৬ সালের সংসদের বাদল অধিবেশন ১৩ আগস্ট কার্যত শেষ হলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোরোগ হয়নি। এই অস্বাভাবিক বিলম্ব নিয়েই এখন নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সাধারণত সংসদ অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে প্রোরোগেশন হয়ে থাকে, কিন্তু এবার এক সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়েও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। 

অধিবেশনের শেষ দিনেও বিরোধীদের বিক্ষোভের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছিল। অমিত শাহের বক্তব্য দেওয়ার সম্ভাবনাও বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ বাজিয়ে লোকসভা মুলতুবি করা হয়। 

অন্যদিকে, পুরো বাদল অধিবেশনেই বিরোধীদের বিক্ষোভ এবং সরকারের দ্রুত বিল পাস করানো নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের হিসাব অনুযায়ী, অধিবেশনের ৮০ শতাংশের বেশি সময় মুলতুবি অবস্থায় ছিল, যদিও সীমিত সময়ে সরকার ১৯টি বিল পাশ করিয়েছে। 

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আনুষ্ঠানিক প্রোরোগেশনে এত দেরি কেন? কংগ্রেস ইতিমধ্যেই এই বিলম্বের কারণ জানতে চাইছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট ব্যাখ্যা সামনে এলে রাজনৈতিক জল্পনার অবসান হতে পারে। কিন্তু তা না হলে সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেও এই বিতর্ক আরও কয়েকদিন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে থাকতে পারে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করুন, বিশ্বকে কড়া বার্তা আমেরিকার

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতিতে ফের বড়সড় চাপ তৈরি হল। তেহরানের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে কার্যত সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে...

পুতিনের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক, মোদির বার্তা পৌঁছল মস্কোয়

মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সোমবার, ২৪ আগস্ট রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এই বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ব্যক্তিগত বার্তাও রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন জয়শঙ্কর।...

২০২৭-এ সেনার হাতে দেশীয় ‘শের’, বদলাবে অস্ত্রভাণ্ডার

ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় **AK-203 ‘Sher’ assault rifle**। এই রাইফেলের প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় উপাদানে তৈরি প্রোটোটাইপ সফলভাবে তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে ছোট অস্ত্র উৎপাদনে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.