পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষকদের জন্য ফের গুরুত্বপূর্ণ খবর। **Census বা জনগণনার কাজে যুক্ত শিক্ষকদের ছুটি দেওয়া হবে না**—এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষকদের একাংশের দাবি ছিল, জনগণনার কাজে তাঁদের যুক্ত করা হলে সেই সময়কে ‘on duty’ হিসেবে গণ্য করা হোক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্কুলের নিয়মিত কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। কিন্তু রাজ্যের তরফে এখনও পর্যন্ত সেই দাবিতে সায় দেওয়ার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। বরং শিক্ষকদের স্কুলের মূল দায়িত্বের পাশাপাশি জনগণনার কাজও সামলাতে হতে পারে বলে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই বিষয়টি ঘিরে ইতিমধ্যেই শিক্ষক মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কারণ রাজ্যের বহু সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে এমনিতেই শিক্ষক-সংকট রয়েছে। তার উপর Census duty-তে শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য কর্মী যুক্ত হলে নিয়মিত ক্লাস চালানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এর আগে SIR এবং BLO-র মতো প্রশাসনিক কাজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যুক্ত করা নিয়েও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
## Census duty-তে শিক্ষকদের ছুটি নিয়ে কেন বিতর্ক?
জনগণনা দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। দেশের জনসংখ্যা, পরিবার, বাসস্থান এবং বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক তথ্য সংগ্রহের জন্য এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়। এত বড় পরিসরের কাজ সম্পন্ন করতে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি স্কুলশিক্ষকদেরও বহু ক্ষেত্রে কাজে যুক্ত করা হয়।
কিন্তু শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের আপত্তি অন্য জায়গায়। তাঁদের বক্তব্য, একজন শিক্ষক বা প্রধান শিক্ষক যদি নিয়মিত স্কুলের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি Census duty পালন করেন, তাহলে দু’দিকের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুলে একজন শিক্ষকের অনুপস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ে পড়ুয়াদের উপর। কোনও শিক্ষক দীর্ঘ সময় প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকলে নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করা, পরীক্ষা নেওয়া এবং পড়ুয়াদের নিয়মিত পাঠদান—সব ক্ষেত্রেই সমস্যা হতে পারে।
## শিক্ষকদের মূল দাবি কী?
শিক্ষকদের একাংশের মূল দাবি হল, Census duty-কে তাঁদের নিয়মিত স্কুলের কাজের অংশ হিসেবে না দেখে **official duty বা on-duty assignment** হিসেবে গণ্য করা হোক।
অর্থাৎ, জনগণনার কাজে কোনও শিক্ষককে নিয়োগ করা হলে তাঁর স্কুলের দায়িত্বের বিষয়টিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিবেচনা করতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প শিক্ষক বা অন্য কোনও ব্যবস্থা করে স্কুলের পড়াশোনা চালু রাখার দাবি উঠেছে।
কিছু শিক্ষক আরও চাইছেন, Census duty-র সময় তাঁদের ছুটি বা কাজের সময়ের বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশিকা দেওয়া হোক।
তবে সাম্প্রতিক অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, এই দাবি এখনই মেনে নেওয়ার কোনও নিশ্চয়তা নেই।
## Census কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী?
এই বিতর্কের মধ্যে Census কর্তৃপক্ষও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, Census-এর কাজ মূলত **honorarium-based assignment**, অর্থাৎ এর জন্য আলাদা সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি শিক্ষকদের নিয়মিত duty hours-এর অংশ নয় বলেও জানানো হয়েছে। কাজটি মূলত স্কুলের নির্ধারিত সময়ের বাইরে করার কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী জেলা শাসক বা পুরসভা কর্তৃপক্ষ কাজের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারবেন।
এই বক্তব্যই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে। কারণ যদি Census duty স্কুলের নিয়মিত কাজের সময়ের বাইরে করতে হয়, তাহলে শিক্ষকরা একদিকে দিনের বেলা ক্লাস নেবেন, অন্যদিকে অতিরিক্ত সময়ে Census-এর দায়িত্ব পালন করবেন।
ফলে শিক্ষক সংগঠনগুলির প্রশ্ন, দীর্ঘ সময় ধরে এই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলে শিক্ষকদের উপর কাজের চাপ কতটা বাড়বে?
## স্কুলের পড়াশোনায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা
Census duty-তে শিক্ষক নিয়োগের অন্যতম বড় সমস্যা হল manpower shortage। চলতি বছরের জুলাই মাসেই বিভিন্ন সরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকদের Census duty-তে নিয়োগের ফলে স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অনেক স্কুলে ইতিমধ্যেই শিক্ষকরা BLO duty-তেও যুক্ত ছিলেন।
একটি স্কুলে মোট শিক্ষক সংখ্যা যদি কম থাকে, সেখান থেকে কয়েকজনকে প্রশাসনিক কাজে পাঠানো হলে নিয়মিত ক্লাস চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
ধরা যাক, কোনও স্কুলে ৩০ জন শিক্ষক রয়েছেন এবং তার মধ্যে ৮-৯ জনকে Census duty-তে নিয়োগ করা হল। সেক্ষেত্রে অনুপস্থিত শিক্ষকদের ক্লাস অন্যদের দিয়ে সামলানো সম্ভব হলেও প্রত্যেক শিক্ষকের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।
এই পরিস্থিতিতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার মান বজায় রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।
## আগেও Census duty নিয়ে সমস্যা হয়েছিল
শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা পশ্চিমবঙ্গে নতুন কোনও ঘটনা নয়। অতীতে ভোটার তালিকা সংশোধন, BLO duty এবং বিভিন্ন সরকারি সমীক্ষার কাজেও শিক্ষকদের যুক্ত করা হয়েছে।
২০২৬ সালেও সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষকদের Census duty-তে নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, একদিকে শিক্ষকরা BLO duty সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে Census duty-তেও তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে।
ফলে এবার Census নিয়ে নতুন করে একই সমস্যা সামনে এসেছে।
## SIR-এর পর ফের Census
পশ্চিমবঙ্গের স্কুলগুলিতে গত কয়েক মাসে একাধিক প্রশাসনিক কাজের চাপ পড়েছে। SIR বা Special Intensive Revision-এর সময়ও শিক্ষক ও স্কুলকর্মীদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
এরপর Census duty-তে শিক্ষকদের নিয়োগ করা হলে অনেক শিক্ষকই মনে করছেন, প্রশাসনিক কাজের চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
স্কুলশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বক্তব্য, তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হল ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান। সরকারি বিভিন্ন কাজের জন্য তাঁদের ব্যবহার করা হলেও এমনভাবে করা উচিত নয় যাতে স্কুলের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
## Calcutta High Court-এও উঠেছিল বিষয়টি
শিক্ষকদের Census duty নিয়ে বিতর্ক আদালত পর্যন্ত পৌঁছেছে। কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি স্কুলের সময়ের পরে এবং সপ্তাহান্তে শিক্ষকদের Census duty দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। আদালত শিক্ষকরা যাতে অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে তাঁদের মূল শিক্ষাদানের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না হন, সেই বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে শিক্ষকদের work-life balance এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উপর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে।
ফলে এখন শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য এবং Census কর্তৃপক্ষের অবস্থান—দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
## ছুটি না দিলে শিক্ষকদের সমস্যা কোথায়?
শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, Census duty যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হতে পারে। বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহ, ফর্ম পূরণ, তথ্য যাচাই এবং পরবর্তী পর্যায়ে ডেটা সংক্রান্ত কাজ—সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
যদি এই কাজ স্কুলের নিয়মিত ক্লাসের পর করতে হয়, তাহলে শিক্ষকরা কার্যত অতিরিক্ত সময় কাজ করবেন।
অন্যদিকে যদি Census-এর কাজ স্কুলের সময়ের মধ্যে করা হয়, তাহলে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হবে।
অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
## শিক্ষকদের কি ছুটি দেওয়া হবে?
এই মুহূর্তে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনায়, সেটি হল—**Census duty-তে নিযুক্ত শিক্ষকরা কি বিশেষ ছুটি পাবেন?**
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য থেকে আপাতত এমন কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না যে Census duty-র জন্য আলাদা করে শিক্ষকরা ছুটি পাবেন।
বরং পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, স্কুলের নিয়মিত দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাঁদের প্রশাসনিক কাজ করতে হতে পারে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন duty schedule নির্ধারণ করতে পারবে বলে Census কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে বিভিন্ন জেলা বা পুরসভায় সময়সূচিতে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে।
## স্কুলে শিক্ষক-সংকট আরও বাড়বে?
এটি এখন সবচেয়ে বড় আশঙ্কাগুলির একটি।
পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু সরকারি স্কুল ইতিমধ্যেই শিক্ষক সংখ্যার ঘাটতির কথা জানিয়েছে। জুলাই মাসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, কিছু স্কুলে মোট শিক্ষকের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ Census duty-তে নিয়োগ করা হয়েছে। একটি স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ৩০ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯ জনকে Census-এর জন্য নেওয়া হলে ক্লাস চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
এই পরিস্থিতি যদি আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে বহু স্কুলে routine academic activities পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে।
## পড়ুয়াদের উপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজে বেশি সময় ব্যয় হলে পড়ুয়াদের উপর পরোক্ষ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রথমত, নিয়মিত ক্লাসের সংখ্যা কমতে পারে।
দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট বিষয়গুলির সিলেবাস শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে।
তৃতীয়ত, পরীক্ষা এবং assessment-এর সময়সূচি সামলানো কঠিন হতে পারে।
চতুর্থত, অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হলে তাঁদের workload বেড়ে যেতে পারে।
তাই Census duty নিয়ে শিক্ষক-প্রশাসনের এই টানাপোড়েনের কেন্দ্রে আসলে পড়ুয়াদের শিক্ষার বিষয়টিই রয়েছে।
## শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজে কেন ব্যবহার করা হয়?
শিক্ষকদের সাধারণত সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে যুক্ত করার অন্যতম কারণ হল তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, স্থানীয় এলাকার সঙ্গে পরিচিতি এবং তথ্য সংগ্রহের অভিজ্ঞতা।
জনগণনার মতো বৃহৎ কর্মযজ্ঞে বিপুল সংখ্যক প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজন হয়। স্কুলশিক্ষকদের তাই বহু ক্ষেত্রে Census enumerator বা supervisor হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তবে বর্তমান সময়ে স্কুলে শিক্ষক সংখ্যা এবং শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
## Honorarium নিয়ে প্রশ্ন
Census কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কাজের জন্য honorarium দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
কিন্তু শিক্ষক মহলের প্রশ্ন, শুধু অতিরিক্ত সম্মানী দিলেই কি সমস্যার সমাধান হবে?
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল সমস্যা হল সময় এবং workload। একজন শিক্ষক যদি দিনের স্কুলের কাজ শেষ করে আবার Census-এর কাজে দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকেন, তাহলে তাঁর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
তাই honorarium-এর পাশাপাশি কাজের সময়, দায়িত্ব এবং বিশ্রামের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
## জেলা প্রশাসনের হাতে সময়সূচি
Census কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, Census enumerator-দের duty schedule নির্ধারণের ক্ষেত্রে District Magistrate বা Municipal Commissioner-দের ভূমিকা থাকবে।
এর ফলে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সূচি কিছুটা পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে।
যেখানে স্কুলের শিক্ষক সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি, সেখানে Census duty সামলানো সহজ হতে পারে। আবার যে স্কুলে শিক্ষক কম, সেখানে প্রশাসনের সামনে বেশি সমস্যা তৈরি হতে পারে।
## শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের গুরুত্ব
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য তাই শিক্ষক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ রাজ্যের School Education Department-এর সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগ এবং তাঁদের প্রশাসনিক দায়িত্বের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
শিক্ষক সংগঠনগুলি এখন স্পষ্ট নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
Census duty-তে কতজন শিক্ষক যুক্ত হবেন, কতদিন দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাঁদের স্কুলের কাজ কীভাবে সামলানো হবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশিকা প্রয়োজন।
## শিক্ষক সংগঠনগুলির অবস্থান
শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই Census duty নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, শিক্ষকরা অবশ্যই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে সহযোগিতা করবেন, কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনের সময় স্কুলশিক্ষার স্বাভাবিক কাজ যেন ব্যাহত না হয়।
কিছু শিক্ষক সংগঠন প্রধান শিক্ষক ও senior teachers-দের Census duty থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিও তুলেছে। কারণ প্রধান শিক্ষকরা স্কুল পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন। তাঁদের অনুপস্থিতি স্কুল প্রশাসনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
## বিকল্প ব্যবস্থা কি সম্ভব?
সরকার চাইলে Census duty-র জন্য শুধুমাত্র শিক্ষকদের উপর নির্ভর না করে অন্যান্য সরকারি কর্মীদেরও ব্যবহার করতে পারে। তবে বিপুল সংখ্যক কর্মী প্রয়োজন হওয়ায় বাস্তবে তা কতটা সম্ভব, সেটিও বিবেচনার বিষয়।
আরেকটি সম্ভাব্য পথ হল শিক্ষক সংখ্যা অনুযায়ী স্কুলভিত্তিক duty allocation করা। অর্থাৎ যে স্কুলে শিক্ষক বেশি, সেখান থেকে বেশি কর্মী নেওয়া এবং যেখানে শিক্ষক কম, সেখানে নিয়োগ সীমিত রাখা।
এতে শিক্ষা ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
## অনুপস্থিতির সময় বিকল্প শিক্ষক?
যদি শিক্ষকদের Census duty থেকে ছুটি না দেওয়া হয় এবং তাঁরা স্কুলের সময়ের বাইরে কাজ করেন, তাহলেও দীর্ঘমেয়াদে তাঁদের workload নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।
আর যদি স্কুলের সময়ের মধ্যেই Census duty পালন করতে হয়, তাহলে substitute teacher বা temporary teaching arrangement-এর প্রয়োজন হতে পারে।
সরকার এখনও এমন কোনও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা ঘোষণা করেনি।
## সামনে কী হতে পারে?
এই মুহূর্তে শিক্ষক, শিক্ষা দফতর এবং Census কর্তৃপক্ষ—তিন পক্ষের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Census দেশের জন্য অপরিহার্য কাজ। একইভাবে স্কুলশিক্ষাও একটি মৌলিক সরকারি দায়িত্ব। তাই একটি কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে অন্যটি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নিয়মিত পাঠদান, পরীক্ষা এবং academic calendar যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
## শেষ কথা
পশ্চিমবঙ্গে Census duty-তে নিযুক্ত স্কুলশিক্ষকদের ছুটি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে ফের জোরালো বিতর্ক শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের একাংশ চাইছেন, জনগণনার কাজকে যথাযথভাবে **official duty** হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক এবং তাঁদের নিয়মিত স্কুলের দায়িত্বের সঙ্গে বিষয়টি সমন্বয় করা হোক। অন্যদিকে Census কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই কাজ honorarium-based এবং মূলত নিয়মিত স্কুলের সময়ের বাইরে করার কথা; তবে স্থানীয় প্রশাসন duty schedule নির্ধারণ করতে পারবে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-সংকটের কারণে Census duty নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের একাংশকে Census কাজে যুক্ত করার ফলে ক্লাস চালানো কঠিন হতে পারে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলি আগেই সতর্ক করেছে।
এর পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টও স্কুলের সময়ের পরে ও সপ্তাহান্তে শিক্ষকদের Census duty দেওয়ার ফলে তাঁদের উপর অতিরিক্ত চাপ এবং শিক্ষাব্যবস্থার উপর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, রাজ্য সরকার এবং Census কর্তৃপক্ষ এমন একটি বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা তৈরি করে কি না, যাতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনগণনার কাজও সম্পন্ন হয় এবং স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠনও কোনওভাবে ব্যাহত না হয়।


