দেশজুড়ে **Census 2027**-এর প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম জনগণনা কর্মসূচিকে সফলভাবে সম্পন্ন করতে বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মচারীর পাশাপাশি বহু শিক্ষককেও গণনাকারী (Enumerator) এবং সুপারভাইজারের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মূল বার্তা একটাই—**জনগণনার কাজ যতটা সম্ভব স্কুলের পাঠদানের সময়ের বাইরে সম্পন্ন করতে হবে।**
এই নির্দেশিকার উদ্দেশ্য হল, একদিকে যেমন জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প সফল করা, অন্যদিকে তেমনই ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি না হওয়া নিশ্চিত করা। শিক্ষা মহলের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজের চাপে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেই বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এই নতুন নীতি সামনে এসেছে।
## কী বলা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিক্ষকরা জনগণনার দায়িত্ব পালন করলেও তা যেন নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। তাই যেখানে সম্ভব, স্কুল ছুটির পরে, ছুটির দিনে বা পাঠদানের নির্ধারিত সময়ের বাইরে জনগণনার কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
## কেন এই সিদ্ধান্ত?
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে শিক্ষক সংগঠনগুলি অভিযোগ জানিয়েছিল যে নির্বাচন, জনগণনা, বিভিন্ন সমীক্ষা ও প্রশাসনিক কাজে শিক্ষকদের বারবার নিয়োজিত করা হচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষে পড়ানোর সময় কমে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উপর প্রভাব পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটেই নতুন নির্দেশিকায় শিক্ষাদানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
## ডিজিটাল জনগণনায় বাড়ছে শিক্ষকদের ভূমিকা
২০২৭ সালের জনগণনা ভারতের প্রথম **ডিজিটাল জনগণনা** হতে চলেছে। মোবাইল অ্যাপ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং স্ব-গণনা (Self-Enumeration) ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ফলে শিক্ষকদেরও ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তথ্য সংগ্রহ আরও দ্রুত, নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়।
## শিক্ষকদের কী কী দায়িত্ব থাকবে?
জনগণনার কাজে নিযুক্ত শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্বগুলির মধ্যে রয়েছে—
* নির্দিষ্ট এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ।
* পরিবারের সদস্যদের তথ্য ডিজিটাল মাধ্যমে নথিভুক্ত করা।
* স্ব-গণনা (Self-Enumeration) করা পরিবারগুলির তথ্য যাচাই করা।
* প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশোধিত তথ্য সংগ্রহ।
* নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপলোড ও রিপোর্ট জমা দেওয়া।
## শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিশেষ গুরুত্ব
শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণনা যেমন একটি জাতীয় দায়িত্ব, তেমনই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন নির্দেশিকা দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। এর ফলে শিক্ষকরা প্রশাসনিক কাজও করবেন, আবার ক্লাসরুমের শিক্ষাও ব্যাহত হবে না।
## জনগণনা ২০২৭: প্রযুক্তিনির্ভর নতুন অধ্যায়
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উদ্যোগে Census 2027-এ প্রথমবারের মতো ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ, মোবাইল অ্যাপ এবং **Self-Enumeration**-এর সুবিধা চালু হয়েছে। এতে তথ্য সংগ্রহের গতি বাড়বে, ভুল কমবে এবং পুরো প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে বলে সরকারের দাবি। এই বৃহৎ কর্মসূচিতে দেশজুড়ে ৩০ লক্ষেরও বেশি গণনাকারী, সুপারভাইজার ও অন্যান্য কর্মী অংশ নেবেন।
সব মিলিয়ে, শিক্ষকদের জন্য নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল জাতীয় জনগণনা কর্মসূচি সফল করা এবং একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখা। শিক্ষা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব—দুই ক্ষেত্রেই ভারসাম্য রক্ষা করাই এই নীতির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।


