**NEET-UG ২০২৬** পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান অর্জনকারী পড়ুয়াদের মধ্যে অন্যতম **পাংশুল বানসাল**
নিজের প্রস্তুতি এবং পরীক্ষা-পরবর্তী বিতর্ক নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় উঠে এসেছেন। পরীক্ষা বাতিল, পুনঃপরীক্ষা এবং দেশজুড়ে চলা প্রতিবাদের প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে তিনি নিজের পড়াশোনাতেই মনোযোগ দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, সেই সময় প্রতিবাদে যাওয়ার বদলে বাড়িতে থেকে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়াই তাঁর কাছে বেশি যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছিল।
পাংশুল জানান, পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর অনেক পরীক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও তিনি দ্রুত নিজেকে সামলে নেন। তাঁর মতে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, একজন পরীক্ষার্থীর হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল নিয়মিত প্রস্তুতি। তাই তিনি নিজের সময়কে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে আবারও পড়াশোনায় মন দেন। এই মনোভাবই শেষ পর্যন্ত তাঁকে দেশের অন্যতম সেরা র্যাঙ্ক অর্জন করতে সাহায্য করেছে।
তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, প্রতিবাদে যাওয়ার বদলে বাড়িতে বসে পড়াশোনা করলে সেটাই আমার ভবিষ্যতের জন্য বেশি উপকারী হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ তাঁর শৃঙ্খলা ও একাগ্রতার প্রশংসা করছেন, আবার কেউ মনে করছেন, পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। তবে পাংশুল স্পষ্ট করেছেন যে এটি ছিল সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
পুনঃপরীক্ষার আগে তিনি প্রতিদিন প্রায় **৬ থেকে ৭ ঘণ্টা** নিয়মিত পড়াশোনা করতেন। তাঁর প্রস্তুতির মূল ভিত্তি ছিল **NCERT বই**, পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র (PYQs), কোচিং মডিউল এবং নিয়মিত রিভিশন। অতিরিক্ত বইয়ের পরিবর্তে তিনি নির্দিষ্ট সিলেবাস এবং ধারাবাহিক অনুশীলনের উপর জোর দিয়েছিলেন।
পাংশুল আরও জানান, তিনি প্রথম থেকেই নিজের নম্বর সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ওএমআর শিট প্রকাশের পর তিনি নিজেই হিসাব করে বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর স্কোর খুবই ভালো হয়েছে। ফল প্রকাশের পরে তিনি **৭১৫ নম্বর** পেয়ে অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২ অর্জন করেন। একই নম্বর পেলেও টাই-ব্রেকিং নিয়মের কারণে তিনি দ্বিতীয় স্থান পান। তিনি বলেন, “দ্বিতীয় স্থানও আমার কাছে প্রথম স্থানের মতোই সম্মানের।”
নিজের সাফল্যের কৃতিত্ব দিতে গিয়ে পাংশুল পরিবার, শিক্ষক এবং নিয়মিত পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বড় সাফল্য পেতে গেলে শেষ মুহূর্তের পড়াশোনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়া, সিলেবাস বারবার রিভিশন করা এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
ভবিষ্যতের পরীক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সোশ্যাল মিডিয়া, গুজব বা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে সময় নষ্ট না করে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকা উচিত। নিয়মিত পড়াশোনা, সঠিক পরিকল্পনা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ থাকলে কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও সফল হওয়া সম্ভব।
শিক্ষাবিদদের মতে, পাংশুলের মন্তব্য কোনও আন্দোলনের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নয়; বরং ব্যক্তিগত অগ্রাধিকার এবং সময় ব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ। প্রত্যেক পরীক্ষার্থী নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেন, এবং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে **NEET-UG ২০২৬**-এর ফল প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃতী পরীক্ষার্থীদের সাফল্যের গল্প সামনে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সাফল্যের নেপথ্যে নিয়মিত অনুশীলন, মানসিক দৃঢ়তা এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতির বড় ভূমিকা থাকে।
সব মিলিয়ে, **পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পুনঃপরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত** পাংশুল বানসালকে দেশের অন্যতম সেরা মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার্থীর আসনে পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতা আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।


