২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা। শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দুর্দান্ত গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ দিকে করা সেই গোলই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয় এবং ব্রাজিলকে টুর্নামেন্টে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করে ব্রাজিল। বলের দখল, পাসিং এবং আক্রমণের দিক থেকে সেলেসাওরা এগিয়ে থাকলেও জাপানের সুসংগঠিত রক্ষণ তাদের বারবার আটকে দেয়। প্রথমার্ধে দুই দলই বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা মেলেনি। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। ৫৩ মিনিটে ব্রাজিল প্রথম গোলের দেখা পায়। মাঝমাঠ থেকে দারুণ আক্রমণ গড়ে তুলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যায় তারা। নিখুঁত ফিনিশে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলের আক্রমণভাগের তারকা। গোল হজম করার পর জাপানও নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন আনে এবং আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে সেই প্রচেষ্টারই ফল পায় জাপান। দ্রুতগতির একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সমতাসূচক গোল করে ম্যাচে ফেরে তারা। ব্রাজিলের রক্ষণকে বোকা বানিয়ে নিখুঁত শটে গোল করে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেন জাপানের ফুটবলার। সমতায় ফেরার পর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
শেষ ১৫ মিনিটে দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণ হলেও গোলরক্ষকদের দুর্দান্ত সেভে ম্যাচ সমতায় এগোচ্ছিল। অতিরিক্ত সময়ের দিকেই যখন ম্যাচ গড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই সামনে আসেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ডান প্রান্ত থেকে আসা একটি নিখুঁত ক্রস ধরে অসাধারণ ফিনিশে জাপানের জালে বল জড়িয়ে দেন মার্টিনেল্লি। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। গোল করার পর সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন তিনি, আর স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার ব্রাজিল সমর্থক আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।
গোল খাওয়ার পর জাপান শেষ কয়েক মিনিটে মরিয়া চেষ্টা চালালেও ব্রাজিলের রক্ষণ আর কোনও সুযোগ দেয়নি। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই ব্রাজিলের ফুটবলাররা জয় উদযাপনে মেতে ওঠেন। এই জয়ের ফলে তারা ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পরবর্তী নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে।
এই ম্যাচে ব্রাজিলের মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগের সমন্বয় ছিল নজরকাড়া। যদিও জাপানের শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল এবং দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক ব্রাজিলকে একাধিকবার সমস্যায় ফেলেছিল, তবুও অভিজ্ঞতা এবং শেষ মুহূর্তের সঠিক সিদ্ধান্তই পার্থক্য গড়ে দেয়।
বিশেষ করে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির পারফরম্যান্স ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, বড় ম্যাচে দলের ভরসার অন্যতম নাম তিনি। অন্যদিকে জাপানের লড়াকু মানসিকতাও প্রশংসা কুড়িয়েছে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সমানতালে লড়াই করে তারা ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করেছে।
ব্রাজিলের কোচ ম্যাচ শেষে দলের ধৈর্য এবং লড়াইয়ের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন হয় এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই জয় এনে দেয়। অন্যদিকে জাপানের কোচও দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই জয়ের পর ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেল। এখন তাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপের আরও একটি ট্রফির দিকে এগিয়ে যাওয়া। অন্যদিকে জাপানের জন্য এই হার হতাশাজনক হলেও গোটা টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স ফুটবলবিশ্বে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় ভরা এই ম্যাচ নিঃসন্দেহে ২০২৬ বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় লড়াই হিসেবে মনে রাখা হবে।—


