Thursday, August 13, 2026

Creating liberating content

জ্বালানি সংকটে বড় সিদ্ধান্ত,...

ফের বড়সড় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার বিদ্যুৎ...

বিয়ের পর রেশন কার্ডে...

রেশন কার্ড ভারতীয় নাগরিকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। শুধু রেশন দোকান...

ইলিশের আশায় সমুদ্রে পাড়ি,...

বর্ষা মানেই বাংলার মৎস্যজীবীদের কাছে ইলিশের মরসুম। এই সময় সমুদ্রে পাড়ি দেন পূর্ব...

Table Tennis federation challenges...

The Table Tennis Federation of India (TTFI) on Thursday asked the...
Homeবাংলাইলেকট্রনিক্স শিল্পে ভারতের...

ইলেকট্রনিক্স শিল্পে ভারতের উত্থান, ১১ বছরে রফতানি ১১ গুণ

বিশ্বের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন মানচিত্রে ক্রমশ নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে ভারত। গত এক দশকের কিছু বেশি সময়ে দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্পে যে পরিবর্তন এসেছে, তা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রফতানি পৌঁছে গিয়েছে প্রায় ৪.২৪ লক্ষ কোটি টাকায়। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে এই পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৩৮,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র ১১ বছরের ব্যবধানে ইলেকট্রনিক্স রফতানি প্রায় ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

শুধু রফতানি নয়, দেশের অভ্যন্তরে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিকাঠামোও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদনে ভারতের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। একই সঙ্গে এই শিল্পে কর্মসংস্থান এবং মহিলাদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন-সম্পর্কিত সম্পূর্ণ ইকোসিস্টেমে মহিলাদের অংশগ্রহণ প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৭০ শতাংশ। 

## ইলেকট্রনিক্স এখন ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি ক্ষেত্র

ভারতের সামগ্রিক রফতানি বাণিজ্যে ইলেকট্রনিক্স পণ্যের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষে দেশের ইলেকট্রনিক্স রফতানি ৪৭.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল। এর ফলে ইলেকট্রনিক্স পণ্য বর্তমানে ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি ক্যাটাগরির জায়গা করে নিয়েছে। 

২০১৪-১৫ সালে যেখানে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৮,০০০ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.২৪ লক্ষ কোটি টাকায়। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, দেশের ইলেকট্রনিক্স শিল্প শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও নিজেদের জায়গা তৈরি করছে।

বিশেষ করে মোবাইল ফোন উৎপাদন এই বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। একসময় মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে ভারত মূলত আমদানিনির্ভর বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে সেই ছবিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।

## মোবাইল উৎপাদনে বড় সাফল্য ভারতের

ভারতের ইলেকট্রনিক্স শিল্পের অগ্রগতির ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন উৎপাদন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণগুলির মধ্যে একটি। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালে দেশে মোবাইল ফোন উৎপাদনের মূল্য ছিল প্রায় ১৮,০০০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালে সেটিই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.২৭ লক্ষ কোটি টাকায়। 

শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, মোবাইল ফোন রফতানিতেও ব্যাপক পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে ভারত থেকে মোবাইল ফোন রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ১,৫০০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দশকেরও কিছু বেশি সময়ে মোবাইল ফোন রফতানি প্রায় ১৬৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মোবাইল ফোন বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রধান রফতানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে দেশের রফতানি তালিকায় মোবাইল ফোনের অবস্থান ছিল ১৫৩তম। এখন সেটিই দেশের বৃহত্তম রফতানি পণ্যে পরিণত হয়েছে বলে সরকারি তথ্য তুলে ধরেছে।

এই পরিবর্তন ভারতের উৎপাদন ক্ষমতার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলে দেশের গুরুত্ব বৃদ্ধিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

## মোবাইল শিল্পে তৈরি হয়েছে বিপুল কর্মসংস্থান

ইলেকট্রনিক্স এবং বিশেষ করে মোবাইল ফোন উৎপাদনের প্রসারের ফলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল উৎপাদন শিল্প প্রায় ১২ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কর্মী মহিলা। 

ফলে এই শিল্প শুধু দেশের উৎপাদন এবং রফতানি বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও তৈরি করছে। উৎপাদন কেন্দ্র, অ্যাসেম্বলি ইউনিট এবং সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেনের বিস্তারের ফলে ভবিষ্যতে এই কর্মসংস্থানের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

## সরকারি প্রকল্পে গতি পেয়েছে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন

ভারতে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের এই সম্প্রসারণের পিছনে একাধিক সরকারি উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে Production Linked Incentive বা PLI Scheme-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি Electronics Components Manufacturing Scheme, India Semiconductor Mission এবং Modified Electronics Manufacturing Clusters-এর মতো উদ্যোগও দেশের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনের পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। 

এই প্রকল্পগুলির মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে দেশে উৎপাদন বাড়ানো, বিনিয়োগ আকর্ষণ করা, সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় উৎপাদনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা।

## ডিজিটাল অর্থনীতিতেও বড় পরিবর্তন

শুধু উৎপাদন এবং রফতানি নয়, ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিও গত কয়েক বছরে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের GDP-তে ডিজিটাল অর্থনীতির অবদান প্রায় ১৪ শতাংশ।

ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যাতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৪ সালে ভারতে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫.১৫ কোটি। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১০৯.২ কোটি হয়েছে। অর্থাৎ এক দশকের কিছু বেশি সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। 

একই সঙ্গে মোবাইল ডেটার দামেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০১৪ সালে এক জিবি ওয়্যারলেস ডেটার গড় মূল্য ছিল প্রায় ৩০৮ টাকা। ২০২৬ সালে সেটি কমে প্রতি জিবি প্রায় ৭.৫১ টাকায় নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল পরিষেবা আগের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী হয়েছে। 

## সামনে আরও বড় সম্ভাবনা

ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, মোবাইল ফোন রফতানি, সেমিকন্ডাক্টর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতি দেশের শিল্পনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ভারতে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে রফতানির পরিমাণও বাড়ছে।

বিশেষ করে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ভারতের সাফল্য দেখাচ্ছে যে সঠিক নীতি, পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগের সমন্বয়ে দেশ আন্তর্জাতিক উৎপাদন ব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

তবে এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে শুধু চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন নয়, ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্ট, সেমিকন্ডাক্টর, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপরও জোর দিতে হবে। তাহলেই ভারতের ইলেকট্রনিক্স শিল্প আগামী দিনে আরও বড় আন্তর্জাতিক বাজার দখল করতে পারবে।

সব মিলিয়ে, গত ১১ বছরে ভারতের ইলেকট্রনিক্স রফতানির প্রায় ১১ গুণ বৃদ্ধি দেশের শিল্পখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ছবি তুলে ধরছে। মোবাইল উৎপাদন এবং রফতানির অভূতপূর্ব বৃদ্ধি, বিপুল কর্মসংস্থান এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ—সব মিলিয়ে ইলেকট্রনিক্স সেক্টর এখন ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠছে। 

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

জ্বালানি সংকটে বড় সিদ্ধান্ত, রাত ৮টাতেই বন্ধ বাংলাদেশের দোকান

ফের বড়সড় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখে বাংলাদেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার বিদ্যুৎ ব্যবহারে আরও কড়া নিয়ন্ত্রণের পথে হাঁটল বাংলাদেশ সরকার। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, দেশের শপিং মল, মার্কেট এবং দোকানপাট নির্দিষ্ট সময়ের পর আর খোলা রাখা যাবে না। এখন...

বিয়ের পর রেশন কার্ডে নাম বদলাবেন কীভাবে? জানুন সহজ অনলাইন পদ্ধতি

রেশন কার্ড ভারতীয় নাগরিকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি নথি। শুধু রেশন দোকান থেকে নির্দিষ্ট খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের ক্ষেত্রেই নয়, বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও নথিপত্রের ক্ষেত্রেও রেশন কার্ডের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই রেশন কার্ডে থাকা নাম, ঠিকানা কিংবা...

ইলিশের আশায় সমুদ্রে পাড়ি, ফিরল একের পর এক ট্রলার! জালে উঠল না আশানুরূপ মাছ

বর্ষা মানেই বাংলার মৎস্যজীবীদের কাছে ইলিশের মরসুম। এই সময় সমুদ্রে পাড়ি দেন পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূল এলাকার বহু মৎস্যজীবী। আশা থাকে, জালে উঠবে রুপোলি ইলিশ আর ভালো দাম মিলবে বাজারে। কিন্তু এবার সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা। **ইলিশের আশায় সমুদ্রে গিয়ে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.