নয়াদিল্লিতে সদ্য শেষ হওয়া ২০২৬ সালের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনকে ভারতের কূটনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সম্মেলনে একদিকে যেমন বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলিকে এক মঞ্চে আনা সম্ভব হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা মতপার্থক্যের মধ্যেও একটি যৌথ ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সন্ত্রাসবাদ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রসংঘের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনের মূল ভাবনা ছিল—‘Building for Resilience, Innovation, Cooperation and Sustainability’। অর্থাৎ, স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং স্থায়িত্বের উপর জোর দেওয়া। সম্মেলনে ১১টি পূর্ণ সদস্য দেশের প্রতিনিধিত্ব ছিল। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে অর্থনীতি, প্রযুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
## মতপার্থক্যের মধ্যেও যৌথ ঘোষণাপত্র
ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির রাজনৈতিক অবস্থান সবসময় এক নয়। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, ইরান-সংক্রান্ত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার মতো বিষয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি একই সংগঠনের সদস্য হলেও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে ঘিরে তাদের অবস্থানে পার্থক্য রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের বৈঠক থেকে সর্বসম্মত ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা সহজ ছিল না।
এর আগে বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যৌথ বিবৃতি নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লি সম্মেলনে একটি দীর্ঘ যৌথ ঘোষণাপত্র গৃহীত হওয়াকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন অনেকে। ঘোষণাপত্রে আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সংযম, শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং বহুপাক্ষিক আলোচনার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভারত এমন একটি ভাষা ব্যবহারে সক্ষম হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের স্বার্থের সংঘাত থাকলেও কোনও পক্ষকে সরাসরি বিচ্ছিন্ন না করে একটি সাধারণ অবস্থান তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই ঐকমত্য কতটা বাস্তব পদক্ষেপে পরিণত হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে সদস্য দেশগুলির কার্যকর সহযোগিতার উপর।
## পহেলগাঁও হামলার নিন্দা
সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দা। নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে পহেলগাঁওয়ের হামলার উল্লেখ করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ভারতের কাছে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি।
ব্রিকসের ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদের সমস্ত রূপের বিরুদ্ধে অবস্থান জানানো হয়েছে। সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান, জঙ্গিদের নিরাপদ আশ্রয় এবং সীমান্তপারের সন্ত্রাসের মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট দেশকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়নি, তবুও ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে এই বক্তব্যের মিল রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা পহেলগাঁও হামলার নিন্দাকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ব্রিকসের সদস্যদের মধ্যে এমন দেশও রয়েছে যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে ঘোষণাপত্রে হামলার নিন্দা গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
## মোদি-শি বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন বার্তা
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২০ সালের লাদাখ সংঘর্ষের পর ভারত-চিন সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা রয়েছে। সীমান্ত সমস্যা, বাণিজ্য ঘাটতি, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং দুই দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতা নিয়ে একাধিক জটিলতা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের সাত বছর পর ভারতে সফর এবং মোদির সঙ্গে বৈঠককে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈঠকে দুই নেতা সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। ভারতীয় পক্ষ থেকে পারস্পরিক সম্মান, সংবেদনশীলতা এবং স্বার্থের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
তবে এই বৈঠককে ভারত-চিন সম্পর্কের সমস্ত সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। সীমান্ত বিরোধ, বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা এবং আঞ্চলিক কৌশলগত প্রতিযোগিতা এখনও রয়েছে। ফলে বৈঠকের তাৎপর্য মূলত যোগাযোগের পথ খোলা রাখা এবং উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
## রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ
ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা, জ্বালানি এবং কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে রাশিয়া পশ্চিমা দেশগুলির সঙ্গে সংঘাতে জড়িত থাকলেও ভারত মস্কোর সঙ্গে নিজের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও পুতিনের বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ইউক্রেন সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
ভারতের কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—একইসঙ্গে আমেরিকা, রাশিয়া, ইউরোপ এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা। ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়া ও চিনের নেতাদের উপস্থিতি ভারতের এই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও প্রকাশ্যে এনেছে।
## স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতা
ব্রিকস সম্মেলনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছিল অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়। সদস্য দেশগুলির মধ্যে স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানো, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় ডলারের উপর নির্ভরতা কমানো এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা নতুন উন্নয়ন ব্যাংকের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলির পরিকাঠামো, পরিবেশবান্ধব প্রকল্প, প্রযুক্তি এবং সামাজিক উন্নয়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে এই ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে ব্রিকসের নিজস্ব অভিন্ন মুদ্রা চালুর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি। সদস্য দেশগুলির অর্থনীতি, মুদ্রানীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কাঠামো এক নয়। ফলে অভিন্ন মুদ্রা চালু করা অত্যন্ত জটিল বিষয়। আপাতত স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং সীমান্তপারের পেমেন্ট ব্যবস্থা উন্নত করার উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
## কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিতে সহযোগিতা
২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে ডিজিটাল সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
চিনের পক্ষ থেকে ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স জোনের মতো উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। অন্যদিকে ভারত ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডিজিটাল কৃষি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যাতে কেবল উন্নত দেশগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রশাসন এবং শিল্পক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির সুবিধা বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে তথ্য সুরক্ষা, প্রযুক্তিগত বৈষম্য এবং এআই ব্যবহারের নৈতিক দিক নিয়েও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
## কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু
ব্রিকস সম্মেলনে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা এবং কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যার মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
ডিজিটাল কৃষি, পুনরুজ্জীবনশীল কৃষি, কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জলবায়ু সহনশীল উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক উদ্যোগের কথা উঠে এসেছে। ভারতের মতো কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এই বিষয়গুলি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
কৃষকদের আয়, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ব্রিকস সহযোগিতা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রতিটি দেশের কৃষি কাঠামো আলাদা হওয়ায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে।
## রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারের দাবি
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমান ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন রয়েছে।
ভারত বহুদিন ধরেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে আসছে। ব্রিকসের মতো মঞ্চে এই দাবিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা ভারতের কূটনৈতিক কৌশলের অংশ।
প্রধানমন্ত্রী মোদি উন্নয়নশীল দেশগুলিকে শুধু আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্তের ‘গ্রহণকারী’ নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সক্রিয় অংশীদার করার কথা বলেছেন। ব্রিকসের মাধ্যমে গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলির কণ্ঠস্বর জোরদার করার বিষয়টি ভারতের সভাপতিত্বের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।
## সাফল্যের পাশাপাশি রয়েছে চ্যালেঞ্জ
ব্রিকস সম্মেলনে একাধিক বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হলেও সংগঠনটির সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সদস্য দেশগুলির রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান এক নয়। চিন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা রয়েছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা রয়েছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। ফলে সব বিষয়ে একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।
এছাড়া ঘোষণাপত্রে যে নীতিগুলির কথা বলা হয়েছে, সেগুলি বাস্তবে কার্যকর করতে হলে নির্দিষ্ট সময়সীমা, অর্থায়ন এবং সদস্য দেশগুলির সমন্বয় প্রয়োজন। স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য, বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং অভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
তবুও ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকস সম্মেলন আয়োজন এবং মতপার্থক্যের মধ্যেও যৌথ ঘোষণাপত্র গ্রহণ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির সক্রিয় ভূমিকার পরিচয় দিয়েছে। এই সম্মেলন ভারতের কূটনীতিকে নতুন সুযোগ দিয়েছে, যদিও সেই সুযোগ কতটা দীর্ঘমেয়াদি ফল দেবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী বাস্তব পদক্ষেপের উপর।


