স্কুল পড়ুয়াদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে বড় উদ্যোগ নিল সরকার। আগামী **১ আগস্ট** থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে **গরম রান্না করা মিড-ডে মিল (PM POSHAN)** পরিবেশন করা হবে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে পড়ুয়াদের আরও উন্নত মানের, স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই উদ্যোগের ফলে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী সরাসরি উপকৃত হবে এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টির মানও উন্নত হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী **ISKCON (ইসকন)**-এর অত্যাধুনিক কেন্দ্রীয় রান্নাঘরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত করা হবে। এরপর বিশেষ তাপরোধী (ইনসুলেটেড) যানবাহনের মাধ্যমে সেই খাবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা গরম ও সদ্য রান্না করা খাবার পেতে পারে। প্রথম পর্যায়ে কলকাতা এবং রাজ্যের কয়েকটি জেলার স্কুলে এই ব্যবস্থা চালু হবে। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত এলাকায় এই পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের দাবি, বর্তমানে অনেক জায়গায় স্থানীয়ভাবে রান্নার ক্ষেত্রে পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রান্নাঘরের অভাব, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নানা সমস্যা দেখা যায়। কেন্দ্রীয় রান্নাঘরের মাধ্যমে খাবার প্রস্তুত হলে সেই সমস্যাগুলি অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে প্রতিদিন একই গুণগত মানের খাবার পরিবেশন করা সম্ভব হবে।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে **প্রাথমিক স্তরের প্রতি পড়ুয়ার জন্য রান্নার খরচও বাড়ানো হচ্ছে**। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, আগে যেখানে একজন পড়ুয়ার জন্য প্রায় **৬.৭৮ টাকা** বরাদ্দ ছিল, তা বাড়িয়ে **১০ টাকা** করা হবে। এর ফলে খাবারের মান আরও উন্নত করা এবং পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা।
শিক্ষা দপ্তরের মতে, মিড-ডে মিল বা **PM POSHAN** প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ক্ষুধা নিবারণ নয়। এর মাধ্যমে শিশুদের প্রয়োজনীয় ক্যালোরি, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, স্কুলছুটের হার কমানো এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোও এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। বহু বছর ধরেই এই প্রকল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ স্কুল পুষ্টি কর্মসূচি হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
সরকার আরও জানিয়েছে, রান্না থেকে শুরু করে প্যাকেজিং, পরিবহন এবং স্কুলে বিতরণ—প্রতিটি ধাপেই কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হবে। খাবারের গুণমান বজায় রাখতে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে এবং নিয়মিত মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও থাকবে। কোনও ধরনের খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা যাতে না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, গরম রান্না করা খাবার শিশুদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য। এর ফলে তারা নিয়মিত সম্পূর্ণ খাবার খাবে এবং অপুষ্টির ঝুঁকিও কমবে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বৃদ্ধিতেও এই উদ্যোগ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অভিভাবকদের একাংশও সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রতিদিন স্বাস্থ্যসম্মত গরম খাবার পেলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহও বাড়বে।
সব মিলিয়ে, আগামী **১ আগস্ট** থেকে গরম রান্না করা মিড-ডে মিল চালুর সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার আশা করছে, উন্নত মানের খাবার, বাড়তি বরাদ্দ এবং আধুনিক রান্না ও বিতরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর পুষ্টি ও শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।


