দুর্গাপুজোর আবহে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর (ACL2) ম্যাচের সূচি বদল হচ্ছে না। নির্ধারিত দিনেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল এবং ইরাকের ক্লাব আল শর্তা। পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ নিজেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী **১৩ অক্টোবর** অর্থাৎ দুর্গাপুজোর তৃতীয়ার দিনই ইস্টবেঙ্গল-আল শর্তা ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যু পরিবর্তন কিংবা ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টেও জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই ম্যাচটি হবে।
## কেন তৈরি হয়েছিল ম্যাচ নিয়ে সংশয়?
এবারের পরিস্থিতির অন্যতম কারণ দুর্গাপুজো। ১৩ অক্টোবর পড়েছে পুজোর তৃতীয়া। কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় সেই সময় পুজোর প্রস্তুতি ও উৎসব পুরোদমে চলবে। ফলে বড় ফুটবল ম্যাচ ঘিরে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এর আগে বিভিন্ন সময়ে বড় ধর্মীয় বা সামাজিক কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে কলকাতা ডার্বির মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সূচি বদলাতে হয়েছে। সেই অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই ইস্টবেঙ্গলের ACL2 ম্যাচ নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
তবে এবার পরিস্থিতি অন্যরকম। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ম্যাচটি নির্ধারিত সময়েই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ দুর্গাপুজো এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল—দুই আয়োজনই একইসঙ্গে চলবে।
## ACL2-তে ইস্টবেঙ্গলের গ্রুপে কারা?
২০২৬-২৭ মরশুমের AFC Champions League Two-তে ইস্টবেঙ্গল রয়েছে **গ্রুপ ডি**-তে। তাদের গ্রুপে রয়েছে জর্ডনের **আল হুসেইন**, ইরাকের **আল শর্তা** এবং ওমানের **আল সিব**। ফলে এশিয়ার দ্বিতীয় সারির ক্লাব প্রতিযোগিতায় লাল-হলুদকে একাধিক কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে।
ইস্টবেঙ্গলের হোম ম্যাচগুলির মধ্যে ১৩ অক্টোবর আল শর্তার বিরুদ্ধে ম্যাচটি প্রথম। এরপর ৩ নভেম্বর আল সিব এবং ২৪ নভেম্বর আল হুসেইনের বিরুদ্ধে যুবভারতীতে আরও দুটি হোম ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে।
## প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা
ইরাকের আল শর্তার বিরুদ্ধে ম্যাচটি ইস্টবেঙ্গলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়ার সুযোগ থাকবে লাল-হলুদের সামনে। তবে পুজোর মরশুমে ম্যাচ হওয়ায় স্টেডিয়ামে দর্শকসংখ্যা, নিরাপত্তা এবং যাতায়াত—সবকিছুই আলাদা গুরুত্ব পেতে পারে।
ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘোষণায় আপাতত সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেল। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
## অতীতে কেন বদলেছে কলকাতার বড় ম্যাচ?
কলকাতায় বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বের বিষয়টি নতুন নয়। অতীতে ক্রিকেট বিশ্বকাপ, লক্ষ্মীপুজো, গঙ্গাসাগর মেলা কিংবা বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে কলকাতা ডার্বির সূচি বা ভেন্যু নিয়ে পরিবর্তন এসেছে।
২০২৩ সালে ইডেনে ক্রিকেট বিশ্বকাপের সূচির সঙ্গে লক্ষ্মীপুজোর সময় মিলে যাওয়ায় ডার্বি পিছিয়েছিল। ২০২৪ সালে আরজি কর আন্দোলনের আবহেও ডুরান্ড কাপের ডার্বি বাতিল হয়েছিল। ২০২৫ সালে গঙ্গাসাগর মেলার কারণে ডার্বি কলকাতার বাইরে গুয়াহাটিতে আয়োজন করা হয়েছিল।
এই কারণেই ২০২৬ সালে দুর্গাপুজোর তৃতীয়ার দিন যুবভারতীতে আন্তর্জাতিক ক্লাব ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। তবে এবার প্রশাসন ম্যাচ আয়োজনের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।
## ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলের আত্মবিশ্বাস
ACL2 ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গলের আত্মবিশ্বাসও যথেষ্ট। ২০২৬ সালের ডুরান্ড কাপ জিতে ইতিমধ্যেই বড় সাফল্য পেয়েছে লাল-হলুদ। ৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলের হাতে ‘প্রেসিডেন্টস কাপ’ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেন শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার, গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিল এবং ডিফেন্ডার আনোয়ার আলি।
এর পাশাপাশি কলকাতা ফুটবল লিগেও ইস্টবেঙ্গল দারুণ ছন্দে রয়েছে। ফলে ঘরোয়া সাফল্যের আত্মবিশ্বাস নিয়েই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নামার সুযোগ পাচ্ছে লাল-হলুদ ব্রিগেড।
## পুজো এবং ফুটবল—দুই উৎসব একসঙ্গে
সব মিলিয়ে ১৩ অক্টোবর কলকাতায় তৈরি হতে চলেছে এক অন্যরকম আবহ। একদিকে দুর্গাপুজোর তৃতীয়া, অন্যদিকে যুবভারতীতে AFC Champions League Two-র ম্যাচ। ক্রীড়ামন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তায় আপাতত নিশ্চিত—পুজোর কারণে ইস্টবেঙ্গলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ পিছোচ্ছে না।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুবভারতীতেই আল শর্তার বিরুদ্ধে খেলবে ইস্টবেঙ্গল। এখন নজর থাকবে ম্যাচের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শক উপস্থিতি এবং লাল-হলুদের মাঠের পারফরম্যান্সের দিকে।


