ভারতের বিমান পরিষেবায় পাইলটদের নিরাপত্তা ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে আরও কড়া নজরদারি শুরু করল কেন্দ্র। দেশের সমস্ত এয়ারলাইন্সের পাইলটদের একবার করে **psychoactive substances বা মাদকজাতীয় পদার্থের পরীক্ষা** করানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন বা DGCA। আগামী জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে দেশের সব পাইলটের অন্তত একবার এই পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে প্রায় ১৪ হাজার পাইলট কাজ করেন। ফলে এই নির্দেশ কার্যকর হলে বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট ক্রুকে এই পরীক্ষার আওতায় আনা হবে।
এই সিদ্ধান্তের পিছনে অন্যতম বড় কারণ হয়ে উঠেছে সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেট-দিল্লি উড়ানে ঘটে যাওয়া গুরুতর ঘটনা। ওই বিমানের পাইলট-ইন-কমান্ডের confirmatory drug test-এ psychoactive substance-এর উপস্থিতি ধরা পড়েছিল। ঘটনাটির তদন্তকারী Aircraft Accident Investigation Bureau বা AAIB এই বিষয়টিকে গুরুতর উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করে DGCA-কে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
### কেন হঠাৎ পাইলটদের ড্রাগ টেস্ট?
৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার Airbus A320 বিমানে মাঝ আকাশে আচমকা গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। প্রায় ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা বিমানটির তিনটি hydraulic system-এই অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে autopilot disengage হয়ে যায় এবং বিমান আচমকা উচ্চতা পরিবর্তন করে। যাত্রী ও কেবিন ক্রু মিলিয়ে ২০ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু আহত হন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়। বিমানটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।
ঘটনার তদন্তে বিমানের প্রযুক্তিগত সমস্যার পাশাপাশি পাইলটের drug test-ও সামনে আসে। AAIB-এর preliminary report অনুযায়ী, পাইলট-ইন-কমান্ডের confirmatory test-এ psychoactive substance-এর ফলাফল ‘non-negative’ ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই মাদক গ্রহণের সঙ্গে বিমানের hydraulic failure বা দুর্ঘটনাসদৃশ পরিস্থিতির সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত এখনও চলছে।
### এবার দেশের সব এয়ারলাইন্সের পাইলট পরীক্ষার আওতায়
এই ঘটনার পর শুধু এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটদের পরীক্ষা করেই থেমে থাকছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। DGCA সমস্ত ভারতীয় এয়ারলাইন্সকে তাদের পাইলটদের একবার করে drug screening করানোর নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এই এককালীন পরীক্ষা সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস নিজেদের প্রায় ৫ হাজার পাইলটের mandatory substance screening শুরু করেছিল। অর্থাৎ DGCA-র সামগ্রিক উদ্যোগের আগেই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন গোষ্ঠী তাদের সব পাইলটকে পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
### এতদিন কী নিয়ম ছিল?
বর্তমান ব্যবস্থায় সব পাইলটকে প্রতি বছর পরীক্ষা করা হত না। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি বছর নির্দিষ্ট শতাংশ পাইলটকে random drug testing-এর আওতায় আনা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে অন্তত ১০ শতাংশ ক্রুকে প্রতি বছর পরীক্ষার আওতায় আনার নিয়ম রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কে রামমোহন নাইডুও জানিয়েছিলেন, পাইলটদের psychoactive substance ব্যবহারের পরীক্ষা আরও কঠোর করার বিষয়টি DGCA পর্যালোচনা করছে। ভবিষ্যতে প্রত্যেক পাইলটকে বছরে অন্তত একবার random drug test-এর আওতায় আনার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
### একবারের পরীক্ষা আর বার্ষিক পরীক্ষা এক নয়
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। বর্তমানে যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা মূলত **এককালীনভাবে সমস্ত পাইলটকে পরীক্ষার আওতায় আনার পদক্ষেপ**। এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রতি বছর প্রত্যেক পাইলটের random drug testing বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিয়ে DGCA কাজ করছে।
অর্থাৎ এখনই দেশের প্রত্যেক পাইলটকে প্রতি বছর পরীক্ষা করানো শুরু হয়েছে—এমনটা বলা ঠিক হবে না। বরং একবারের nationwide screening-এর পাশাপাশি আরও কঠোর ও নিয়মিত testing framework তৈরির প্রস্তুতি চলছে। নতুন নিয়মের খসড়া সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রকাশিত হতে পারে বলে সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
### পজিটিভ হলে কী হবে?
ড্রাগ টেস্টে কোনও পাইলটের রিপোর্ট positive বা non-negative এলে তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে flying duty থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া রয়েছে। এরপর confirmatory test-এর মাধ্যমে ফলাফল যাচাই করা হয়।
নতুন করে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমবার positive হলে rehabilitation-এর সুযোগ, দ্বিতীয়বার positive হলে দীর্ঘ সময়ের suspension এবং তৃতীয়বার positive হলে pilot licence বাতিলের মতো ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই প্রস্তাবিত কাঠামোকে চূড়ান্ত কার্যকর নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না, যতক্ষণ না DGCA আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন বিধি জারি করছে।
### ওষুধের কারণে রিপোর্ট বদলালে কী হবে?
পাইলটদের drug testing-এর ক্ষেত্রে আরও একটি জটিল বিষয় রয়েছে। কিছু বৈধ prescription medicine বা চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধের কারণে পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট substance-এর উপস্থিতি ধরা পড়তে পারে। তাই শুধু একটি screening result-এর ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে confirmatory testing এবং চিকিৎসাজনিত কারণ যাচাই করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রেও সংস্থা জানিয়েছে, তাদের পাইলটদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, proficiency checks এবং medical examinations-এর পাশাপাশি অতিরিক্ত safety measures নেওয়া হচ্ছে। ফুকেট-দিল্লি ঘটনার পর সংস্থাটি তাদের ১০০ শতাংশ পাইলটকে voluntary testing-এর আওতায় আনার কথা জানিয়েছে।
### এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
ফুকেট-দিল্লি ঘটনার পাইলট-ইন-কমান্ডের drug test-এর ফল সামনে আসার পর এয়ার ইন্ডিয়া তাঁর চাকরি অবিলম্বে বাতিল করেছে। সংস্থার বক্তব্য, safety, fitness বা regulatory requirements-এর ক্ষেত্রে কোনও ধরনের লঙ্ঘনের বিষয়ে তাদের zero-tolerance policy রয়েছে।
তবে তদন্তকারীরা এখনও বিমানের প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণ খতিয়ে দেখছেন। Airbus এবং ফ্রান্সের BEA-ও তদন্তে সহায়তা করছে। তিনটি hydraulic system সত্যিই একইসঙ্গে বিকল হয়েছিল, নাকি কোনও ভুল signal-এর কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল—তা নিশ্চিত করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।
### যাত্রী নিরাপত্তায় কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত?
একজন পাইলটের সিদ্ধান্ত এবং শারীরিক-মানসিক সক্ষমতা সরাসরি শত শত যাত্রীর নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত। তাই cockpit crew-র ক্ষেত্রে psychoactive substance ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করা বিমান নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
DGCA-র এই উদ্যোগের ফলে দেশের সমস্ত এয়ারলাইন্সের পাইলটদের ওপর নজরদারি আরও শক্তিশালী হবে। এককালীন screening-এর মাধ্যমে বর্তমান পরিস্থিতির একটি বড়সড় মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বার্ষিক random testing চালু হলে ভবিষ্যতে নিয়মিত নজরদারির পরিধিও বাড়বে।
ফুকেট-দিল্লি বিমানের ঘটনার পর প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং পাইলটের drug test—দুই বিষয়ই একসঙ্গে সামনে এসেছে। যদিও দুইয়ের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক এখনও প্রমাণিত নয়, তবু AAIB-এর সুপারিশের পর DGCA যে পাইলটদের substance screening আরও কঠোর করার পথে এগোচ্ছে, তা বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


