সম্প্রতি দেশের জ্বালানি নীতি নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয়, পেট্রলের পর এবার নাকি **এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)**-এও ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র সরকার। এই দাবিকে ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, **বিমানের জ্বালানিতে ইথানল মেশানোর কোনও প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় নেই।** সরকার এই ধরনের খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছে।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে এমন দাবি ছড়ানো হয়েছে যে ভবিষ্যতে এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলে ইথানল মেশানো হবে। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনও নীতি বা পরিকল্পনা নেই। সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের ভুয়ো তথ্য সাধারণ মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি করতে পারে এবং বিমান নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই না করা তথ্য প্রচার না করার আবেদনও জানানো হয়েছে।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় বিরোধী রাজনৈতিক মহলের কিছু বক্তব্যের পর। অভিযোগ করা হয়েছিল, পেট্রলের মতো ভবিষ্যতে ডিজেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলেও ইথানল মেশানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেই দাবিকে দ্রুত খারিজ করে কেন্দ্র জানায়, বর্তমানে এমন কোনও প্রস্তাব বিবেচনাধীন নয় এবং এ নিয়ে প্রচারিত খবর সঠিক নয়।
ভারতে বর্তমানে **E20** অর্থাৎ ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল নীতি কার্যকর রয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমানো, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস করা। তবে এই নীতি শুধুমাত্র পেট্রলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ডিজেলের ক্ষেত্রে এমন কোনও অনুমোদিত ব্লেন্ডিং নীতি বর্তমানে চালু নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানের জ্বালানি অত্যন্ত উচ্চমানের প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ করে তৈরি হয়। এর গঠন, ফ্ল্যাশ পয়েন্ট, হিমাঙ্ক, শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা এবং নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নির্ধারিত। ফলে যেকোনও ধরনের পরিবর্তনের আগে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, পরীক্ষামূলক উড়ান এবং আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন। তাই সাধারণ মোটরগাড়ির জ্বালানির সঙ্গে বিমানের জ্বালানির তুলনা করা যায় না।
যদিও বিশ্বজুড়ে বিমান শিল্পে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের উপর জোর বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে **Sustainable Aviation Fuel (SAF)** নিয়ে গবেষণা ও সীমিত ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে এই জ্বালানি সরাসরি ইথানল মিশিয়ে তৈরি হয় না। বরং বিশেষ প্রক্রিয়ায় জৈব উৎস থেকে বিমান উপযোগী জ্বালানি উৎপাদন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মান পূরণ করার পরই ব্যবহারের অনুমতি পায়।
কেন্দ্র সরকার আরও জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি নীতিতে ইথানল সংক্রান্ত যে কর্মসূচি রয়েছে, তা মূলত পেট্রলে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথানল মেশানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি সরকার স্পষ্ট করেছে যে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার ক্ষেত্রেও জ্বালানির জন্য বিদেশ থেকে ইথানল আমদানির কোনও প্রতিশ্রুতি বা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দেশীয় উৎপাদিত ইথানল ব্যবহার করেই বর্তমান নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ফলে আপাতত বিমানের জ্বালানিতে ইথানল মেশানো নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলে ইথানল ব্লেন্ডিংয়ের কোনও পরিকল্পনা নেই এবং বিমান নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।


