দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এল **জিএসটি (GST) আদায়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান**। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, **জুলাই ২০২৬ মাসে দেশের মোট জিএসটি সংগ্রহ বেড়ে হয়েছে ২.১১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি**, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় **১৫.৪ শতাংশ বেশি**। একই সঙ্গে রাজ্যগুলির আর্থিক অবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কেন্দ্র সরকার **অতিরিক্ত ১,০৯,০১৯ কোটি টাকার কর বণ্টন (Tax Devolution)** আগাম ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে **পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ৭,৮৬৬ কোটি টাকা**।
কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ নিয়মিত মাসিক কর বণ্টনের বাইরে। সাধারণত প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে রাজ্যগুলিকে করের অংশ দেওয়া হয়। তবে এবার উন্নয়নমূলক প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে গতি আনতেই নির্ধারিত সময়ের আগেই অতিরিক্ত অর্থ ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ **৭,৮৬৬ কোটি টাকা** রাজ্যের উন্নয়নমূলক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই অর্থ রাস্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল, গ্রামীণ উন্নয়ন, নগর অবকাঠামো এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে ব্যয় করা হতে পারে। পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক চাপও কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
অন্যদিকে, জুলাই মাসে জিএসটি সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় ব্যবসায়িক লেনদেন বৃদ্ধি, আমদানির উপর বেশি কর সংগ্রহ এবং কর পরিশোধের ক্ষেত্রে ডিজিটাল নজরদারি জোরদার হওয়ায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে। বিশেষ করে আমদানি থেকে **ইন্টিগ্রেটেড জিএসটি (IGST)** সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে, যা সামগ্রিক জিএসটি আদায় বাড়াতে সাহায্য করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জিএসটি আদায় বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়। যখন উৎপাদন, বাণিজ্য এবং পরিষেবা খাতের কার্যকলাপ বাড়ে, তখন জিএসটি সংগ্রহও স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে রাজ্যগুলির হাতে অতিরিক্ত অর্থ পৌঁছে গেলে উন্নয়নমূলক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।
কেন্দ্রের দাবি, অতিরিক্ত কর বণ্টনের মূল উদ্দেশ্য হল রাজ্যগুলিকে দ্রুত মূলধনী ব্যয় (Capital Expenditure) বাড়াতে সাহায্য করা। এর ফলে নতুন রাস্তা, সেতু, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেচ প্রকল্প এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে গতি আসতে পারে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও এই অতিরিক্ত বরাদ্দকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের নিজস্ব **স্টেট জিএসটি (SGST)** সংগ্রহেও সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ফলে কেন্দ্রের অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং রাজ্যের নিজস্ব কর সংগ্রহ—দুই মিলিয়ে রাজকোষের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর সংগ্রহে ধারাবাহিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর ফাঁকি রোধ এবং ডিজিটাল কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজ্যগুলির উচিত এই অতিরিক্ত অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি আরও মজবুত করা।
সব মিলিয়ে, **জুলাই মাসে রেকর্ড জিএসটি সংগ্রহ এবং রাজ্যগুলির জন্য অতিরিক্ত কর বণ্টন দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।** পশ্চিমবঙ্গের জন্য **৭,৮৬৬ কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ** রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নতুন গতি আনতে পারে, আর সার্বিকভাবে এই পদক্ষেপ রাজ্যগুলির আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


