প্রধানমন্ত্রী **নরেন্দ্র মোদির** ফেসবুক ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়াকে ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। এই ঘটনায় **মেটা (Meta)**-র ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় কেন্দ্র। তাই দ্বিতীয়বারের মতো সংস্থার **গ্লোবাল পাবলিক পলিসি টিমকে** তলব করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, আগামী বৈঠকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও অপসারণ নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট মডারেশন, ভিআইপি অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং শিশুদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় উঠতে পারে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। ব্যবহারকারীরা ভিডিওটি দেখতে গেলে ‘আইনি অনুরোধের ভিত্তিতে কনটেন্ট সীমাবদ্ধ করা হয়েছে’—এমন বার্তা দেখতে পান। পরে মেটা জানায়, এটি একটি **প্রযুক্তিগত ত্রুটি (technical error)** ছিল এবং ভিডিওটি পুনরায় চালু করা হয়েছে। সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশও করে।
## কেন ফের তলব করা হল?
সরকারি সূত্রের দাবি, মেটার প্রথম ব্যাখ্যায় বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। ফলে কেন্দ্র আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা চায়। বিশেষ করে—
* কী কারণে ভিডিওটি সরানো হয়েছিল?
* কেন ব্যবহারকারীদের কাছে ‘লিগ্যাল রিকোয়েস্ট’-এর বার্তা দেখা গিয়েছিল?
* ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?
* ভেরিফায়েড ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে কী ধরনের বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে?
এই বিষয়গুলির উত্তর জানতে মেটার শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের আবার ডাকা হয়েছে।
## শুধু মোদির ভিডিও নয়, আরও একাধিক ইস্যু আলোচনায়
আইটি সচিব এস. কৃষ্ণনের বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও অপসারণের ঘটনাই নয়, **শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM)**, AI-নির্ভর কনটেন্ট, ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা এবং প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহিতা নিয়েও আলোচনা হবে। সরকারের মতে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।
## মেটার বক্তব্য কী?
মেটা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিওটি ভুলবশত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং সেটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, এটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটির ফল। তবে এই ব্যাখ্যায় সরকার পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলেই সূত্রের খবর।
## ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাড়ছে নজরদারি
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলির উপর নিয়ন্ত্রক নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভুয়ো খবর, আপত্তিকর কনটেন্ট, AI-নির্ভর বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং সরকারি ব্যক্তিত্বদের পোস্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মেটাকে দ্বিতীয়বার তলব করাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
## রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত গুরুত্ব
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার বিতর্ক নয়। এটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলির **কনটেন্ট মডারেশন নীতি**, সরকারি জবাবদিহিতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব নিয়ে বড় বিতর্কের অংশ। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও অপসারণকে কেন্দ্র করে মেটার উপর সরকারের চাপ আরও বাড়ল। দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর কেন্দ্র ও মেটার অবস্থান কতটা স্পষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের নীতি বা পদক্ষেপ সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহলের।


