ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান। ২০২৬-২৭ মরশুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে কোন রাজ্যের হয়ে খেলবেন অর্জুন তেন্ডুলকর, তা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবার অনেকটাই কেটে গেল। শচীন তেন্ডুলকরের পুত্র অর্জুন তেন্ডুলকর গোয়ার হয়েই ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী মরশুমে তাঁর দলবদল নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তার অবসান হল।
২৬ বছরের বাঁহাতি পেসার ও অলরাউন্ডার অর্জুন ২০২২-২৩ মরশুম থেকে গোয়ার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন। মুম্বই ছেড়ে গোয়ায় যাওয়ার পর থেকে তিনি রঞ্জি ট্রফি, বিজয় হাজারে ট্রফি এবং সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে রাজ্যটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফলে গোয়ার ক্রিকেট ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও বেশ কয়েক বছরের।
তবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। গোয়ার সাম্প্রতিক ওমান সফরে অর্জুনকে দলে দেখা যায়নি। সেই অনুপস্থিতির পরই জল্পনা শুরু হয়, তিনি কি অন্য কোনও রাজ্যের হয়ে খেলবেন? নাকি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের ঠিকানা পরিবর্তন করবেন? শেষ পর্যন্ত গোয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেল, অর্জুন গোয়াতেই থাকছেন।
## গোয়াতেই থাকছেন অর্জুন তেন্ডুলকর
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অর্জুন তেন্ডুলকর আগামী মরশুমেও গোয়ার হয়ে খেলবেন। গোয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রও তাঁর থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা জল্পনার অবসান হয়েছে।
এর আগে জুলাই মাসে গোয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্তা জানিয়েছিলেন, ২০২৬-২৭ মরশুমে অর্জুন গোয়ার হয়ে খেলবেন কি না, সে বিষয়ে তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এমনকি টানা পঞ্চম মরশুমে তাঁকে রাখা হবে, নাকি নতুন কোনও ‘গেস্ট’ ক্রিকেটারকে নেওয়া হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছিল।
সেই সময় থেকেই অর্জুনকে ঘিরে জল্পনা বাড়তে শুরু করে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পরিষ্কার। গোয়ার জার্সিতেই তাঁকে ফের দেখা যেতে পারে আসন্ন ঘরোয়া মরশুমে।
## ২০২২ সালে মুম্বই ছেড়ে গোয়া
অর্জুনের ঘরোয়া ক্রিকেটের কেরিয়ারে গোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মুম্বইয়ের হয়ে প্রত্যাশিত সুযোগ না পাওয়ার পর তিনি ২০২২ সালের আগে গোয়ায় চলে যান। ২০২২-২৩ মরশুম থেকে তিনি গোয়ার হয়ে নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেট খেলছেন।
গোয়ায় তাঁর অভিষেকও ছিল নজরকাড়া। রাজস্থানের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে প্রথম-শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক করে শতরান করেছিলেন তিনি। বাবার মতোই রঞ্জি অভিষেকে শতরান করার নজির অর্জুনের কেরিয়ারের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে রয়েছে।
অর্জুন মূলত বাঁহাতি পেসার হলেও ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে পারেন। ফলে তাঁকে অলরাউন্ডার হিসেবেও ব্যবহার করেছে গোয়া। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর এই অলরাউন্ড দক্ষতা তাঁকে দলের পরিকল্পনায় জায়গা করে দিয়েছে।
## গোয়ার হয়ে ৫০-এর বেশি প্রথম শ্রেণির উইকেট
গোয়ার হয়ে অর্জুনের পারফরম্যান্সও একেবারে উপেক্ষা করার মতো নয়। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি রাজ্যটির হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৫০টি উইকেটের মাইলফলক পার করেছেন। তাঁর বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তাঁর সামগ্রিক প্রথম-শ্রেণির পরিসংখ্যানও দেখায় যে সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছেন। ২৪টি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচে তাঁর ৫২টি উইকেট রয়েছে বলে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর সেরা বোলিং ৫/২৫।
অর্থাৎ, গোয়ার হয়ে দীর্ঘ সময় খেলার ফলে অর্জুনের ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতাও যথেষ্ট বেড়েছে।
## ওমান সফরে ছিলেন না কেন?
অর্জুনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল গোয়ার সাম্প্রতিক ওমান সফরে তাঁর অনুপস্থিতি। গোয়া দল প্রস্তুতি সফরে ওমানে গিয়েছিল। সেই সফরে অর্জুন না থাকায় তাঁর রাজ্য দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
তবে সেই অনুপস্থিতি যে গোয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ইঙ্গিত ছিল না, তা এখন স্পষ্ট। সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অর্জুন গোয়ার হয়েই ঘরোয়া মরশুমে খেলা চালিয়ে যাবেন। ফলে ওমান সফরে তাঁর না থাকা নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনা আপাতত গুরুত্ব হারিয়েছে।
## নতুন মরশুমে বড় চ্যালেঞ্জ
২০২৬-২৭ ঘরোয়া ক্রিকেট মরশুমে গোয়ার সামনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা রয়েছে। রঞ্জি ট্রফি, সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি এবং বিজয় হাজারে ট্রফিতে দলটি মাঠে নামবে।
গোয়ার নতুন ঘরোয়া মরশুম অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা। রঞ্জি ট্রফিতে তাদের প্রথম ম্যাচ বারোদার বিরুদ্ধে। এরপর টি-২০ এবং একদিনের ঘরোয়া প্রতিযোগিতাও রয়েছে।
অর্জুনের জন্য তাই সামনে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশেষ করে লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিং এবং ব্যাটিং—দুই ক্ষেত্রেই আরও ধারাবাহিকতা দেখানোর সুযোগ থাকবে।
## লখনউ সুপার জায়ান্টসেও নতুন অধ্যায়
ঘরোয়া ক্রিকেটে গোয়ার হয়ে খেলার পাশাপাশি আইপিএল ২০২৬-এ অর্জুন তেন্ডুলকর নতুন দল পেয়েছেন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের পর তাঁকে লখনউ সুপার জায়ান্টস দলে নেওয়া হয়।
এর ফলে তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তবে আইপিএল ২০২৬-এ এখনও পর্যন্ত লখনউয়ের হয়ে তাঁর ম্যাচ খেলা হয়নি বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ আইপিএলে ম্যাচ খেলার সুযোগের অপেক্ষার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের জায়গা আরও শক্ত করাই তাঁর সামনে অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে।
## মুম্বইয়ে ফিরেও খেলেছেন
গোয়ার হয়ে খেলার মধ্যেই অর্জুন মুম্বইয়ের T20 Mumbai League-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ২০২৬ সালের T20 Mumbai League-এর নিলামে তাঁকে Arcs Andheri দলে নেওয়া হয়। তাঁর জন্য ১০ লক্ষ টাকা খরচ করেছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
এই প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য BCCI-এর অনুমোদনও পাওয়া গিয়েছিল। কারণ সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অন্য কোনও রাজ্য সংস্থার আয়োজিত T20 প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলে খেলোয়াড় অন্য রাজ্যের T20 লিগে খেলার যোগ্য হতে পারেন।
তাই মুম্বইয়ে T20 লিগে খেলা মানেই যে অর্জুন গোয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট ছেড়ে দিচ্ছেন, তা ছিল না।
## মুম্বই থেকে গোয়া যাওয়ার কারণ
অর্জুনের মুম্বই ছেড়ে গোয়ায় যাওয়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ ছিল ম্যাচ খেলার সুযোগ। মুম্বইয়ের মতো শক্তিশালী ঘরোয়া দলে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি। ফলে নিয়মিত প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল।
গোয়ায় গিয়ে তিনি তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পান। রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেকেই শতরান এবং পরবর্তী সময়ে নিয়মিত বোলিং করার সুযোগ তাঁর কেরিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
একইসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত তাঁকে শুধু ‘শচীন তেন্ডুলকরের ছেলে’ হিসেবে নয়, নিজের পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুযোগও দিয়েছে।
## অর্জুনের কেরিয়ারে চাপ সবসময়ই বেশি
শচীন তেন্ডুলকরের পুত্র হওয়ায় অর্জুনের ক্রিকেট কেরিয়ার শুরু থেকেই সংবাদমাধ্যমের নজরে। তাঁর প্রতিটি পারফরম্যান্স অন্য ক্রিকেটারের তুলনায় বেশি আলোচিত হয়।
একদিকে বাবার বিশাল ক্রিকেটীয় উত্তরাধিকার, অন্যদিকে নিজের পরিচয় তৈরি করার চাপ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখা তাঁর জন্য সহজ নয়।
তাই গোয়ার হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ তাঁর কেরিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে জায়গা ধরে রাখাই এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
## বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও উন্নতি
অর্জুন মূলত বাঁহাতি পেসার হিসেবে পরিচিত হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর ব্যাটিং নিয়েও কাজ হয়েছে। গোয়ার হয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন।
রঞ্জি অভিষেকে শতরান তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সেই ম্যাচেই বোঝা গিয়েছিল, তিনি শুধু বোলিং-নির্ভর ক্রিকেটার নন; প্রয়োজন হলে ব্যাট হাতেও দলের জন্য রান করতে পারেন।
আগামী মরশুমে তাঁর ব্যাটিংয়ের ভূমিকা কতটা বাড়ানো হবে, সেটিও নজরে থাকবে।
## বিজয় হাজারে ট্রফিতেও নজর ছিল
গত মরশুমে গোয়া অর্জুনকে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ব্যাটিং অর্ডারে উপরে তুলে আনার চেষ্টা করেছিল। এক পর্যায়ে তাঁকে ওপেনার হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সেই কৌশল প্রত্যাশিত সাফল্য এনে দিতে পারেনি বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল।
এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, গোয়া তাঁকে শুধু একজন বোলার হিসেবে দেখছে না। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁর অলরাউন্ড ক্ষমতা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে আগামী মরশুমে তাঁর সঠিক ভূমিকা কী হবে, তা দলীয় কৌশলের উপর নির্ভর করবে।
## গোয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
অর্জুনকে ধরে রাখা গোয়ার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একজন বাঁহাতি পেসার এবং ব্যাটিং করতে সক্ষম ক্রিকেটার দলের ভারসাম্য বাড়াতে পারেন।
এছাড়া কয়েক বছর ধরে গোয়ার পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় তিনি দলের কাঠামো এবং সতীর্থদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছেন। ফলে নতুন করে কোনও ক্রিকেটারকে দলে এনে একই জায়গায় মানিয়ে নেওয়ার সময়ও বাঁচতে পারে।
অর্জুনের অভিজ্ঞতাও আগের তুলনায় অনেক বেশি। তাই আগামী মরশুমে তাঁর কাছ থেকে গোয়া আরও পরিণত পারফরম্যান্স আশা করতে পারে।
## গেস্ট প্লেয়ার নিয়ে ছিল আলোচনা
জুলাই মাসে গোয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অন্দরে আলোচনার বিষয় ছিল, অর্জুনকে টানা পঞ্চম মরশুমের জন্য রাখা হবে কি না। কারণ গোয়ার দল গঠনে ‘গেস্ট’ ক্রিকেটার ব্যবহারের বিষয়টি নতুন নয়।
সেই সময় ললিত যাদব এবং বাসুকি কৌশিকের মতো অতিথি ক্রিকেটারদের ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও অর্জুনের ভবিষ্যৎ তখনও অনিশ্চিত ছিল।
এখন অর্জুনকে ধরে রাখার সিদ্ধান্তের ফলে সেই অনিশ্চয়তা আর নেই।
## নতুন মরশুমে প্রত্যাশা আরও বেশি
গোয়ায় টানা কয়েক বছর খেলার পর এবার অর্জুনের কাছে প্রত্যাশাও বাড়বে। শুধু দলে থাকা নয়, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের প্রভাব দেখানোই তাঁর লক্ষ্য হওয়া উচিত।
বিশেষ করে নতুন মরশুমে যদি তিনি নিয়মিত ম্যাচ পান, তাহলে বোলিংয়ে উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি নিচের দিকে কার্যকর রান করার সুযোগও পাবেন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর ৫০-এর বেশি উইকেট ইতিমধ্যেই রয়েছে। এখন সেই সংখ্যাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বোলিং গড় এবং ধারাবাহিকতা উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
## লখনউয়ের জন্যও ঘরোয়া ক্রিকেট গুরুত্বপূর্ণ
আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির দিক থেকেও ঘরোয়া ক্রিকেটে অর্জুনের পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ। লখনউ সুপার জায়ান্টসের স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার পর তাঁর সামনে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে নিয়মিত সুযোগ পেতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে আত্মবিশ্বাস দিতে পারে।
বিশেষ করে বাঁহাতি পেসার হিসেবে তাঁর দক্ষতা এবং ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য তাঁকে আলাদা করে তুলতে পারে। তবে সেই জায়গা পাকা করতে হলে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
## জাতীয় দলের দরজাও কি খুলবে?
অর্জুনের নাম ঘিরে মাঝে মাঝেই জাতীয় দলের প্রসঙ্গ ওঠে। তবে এই মুহূর্তে তাঁকে ভারতীয় সিনিয়র দলের নিয়মিত দাবিদার হিসেবে বিবেচনা করার মতো পর্যায়ে তাঁর ঘরোয়া পারফরম্যান্স পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই।
জাতীয় দলে জায়গা পেতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করার পাশাপাশি কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।
তাই আপাতত তাঁর সবচেয়ে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হওয়া উচিত গোয়ার হয়ে নিয়মিত ভালো খেলা এবং লখনউয়ের হয়ে সুযোগ পাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখা।
## অর্জুনের সামনে এখন কী?
আগামী মরশুমে অর্জুনের সামনে মূলত তিনটি বড় লক্ষ্য থাকতে পারে।
প্রথমত, গোয়ার হয়ে নিয়মিত একাদশে জায়গা ধরে রাখা। দ্বিতীয়ত, বোলিংয়ে আরও বেশি উইকেট নিয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ বোলার হয়ে ওঠা। তৃতীয়ত, ব্যাটিংয়েও নিজের কার্যকর ভূমিকা আরও বাড়ানো।
এর পাশাপাশি লখনউ সুপার জায়ান্টসের হয়ে IPL-এ সুযোগ পাওয়ার জন্যও তাঁকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
গোয়ার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্স করলে সেই সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
## শেষ পর্যন্ত জল্পনার অবসান
অর্জুন তেন্ডুলকরকে ঘিরে গত কয়েক মাসের জল্পনা শেষ পর্যন্ত একটি পরিষ্কার সিদ্ধান্তে পৌঁছল। ২০২৬-২৭ মরশুমেও তিনি গোয়ার হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলবেন। সাম্প্রতিক রিপোর্টে গোয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রের মাধ্যমে তাঁর থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০২২-২৩ মরশুমে মুম্বই ছেড়ে গোয়ায় যাওয়ার পর থেকে এই রাজ্যের হয়েই নিজের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচয় তৈরি করেছেন অর্জুন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে গোয়ার হয়ে তাঁর ৫০-এর বেশি উইকেট এবং রঞ্জি অভিষেকে শতরান তাঁর কেরিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান।
এবার সেই সম্পর্ক আরও এক মরশুম এগোবে। একইসঙ্গে IPL-এ লখনউ সুপার জায়ান্টসের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে তাঁর। ফলে ২০২৬-২৭ মরশুম অর্জুনের ক্রিকেট কেরিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
গোয়ার হয়ে তিনি কতটা ধারাবাহিক হতে পারেন, লখনউয়ের হয়ে সুযোগ পান কি না এবং নিজের অলরাউন্ড দক্ষতাকে কতটা কাজে লাগাতে পারেন—এই তিনটি বিষয়ই আগামী দিনে তাঁর কেরিয়ারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


