পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যখন চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল? সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের কথা এবার প্রকাশ্যে আনলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে হামলার পরপরই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা এবং দেশের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের তৎপরতার ছবি।
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়। এই ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়, যাঁদের অধিকাংশই পর্যটক। হামলার পর গোটা দেশ স্তম্ভিত হয়ে যায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, পাশাপাশি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হবে তা নিয়েও দেশজুড়ে প্রবল আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে জঙ্গি পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়।
### হামলার খবর পেয়েই সক্রিয় মোদি সরকার
পহেলগাঁও হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্রুত দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় উদ্যোগী হন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ এবং তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার উপর আস্থা প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ operational freedom দেওয়া হবে। অর্থাৎ কোথায়, কীভাবে এবং কখন জবাব দেওয়া হবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাহিনীকে প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
### অজিত ডোভালের বক্তব্যে সামনে এল সেই মুহূর্ত
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল দীর্ঘদিন ধরে ভারতের নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। পহেলগাঁও হামলার পর সরকারের অভ্যন্তরে কী ধরনের আলোচনা হয়েছিল, তাঁর বক্তব্য সেই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে।
ডোভালের কথায়, হামলার পর প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতির গভীরতা বুঝতে চেয়েছিলেন এবং দ্রুত জানতে চেয়েছিলেন কী ঘটেছে, হামলার পরবর্তী পরিস্থিতি কী এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করছে। এই প্রশ্নের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সরকারের কাছে ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি সন্ত্রাসী হামলা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তার উপর বড় আঘাত হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
পহেলগাঁও হামলায় সাধারণ পর্যটকদের নিশানা করা হয়েছিল। ফলে হামলার অভিঘাত আরও বেশি ছিল। এর আগে কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনা সদস্যদের উপর হামলা দেখা গেলেও পর্যটকদের এমনভাবে লক্ষ্য করে গণহত্যা পরিস্থিতিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।
### ২৬ নিরীহ মানুষের মৃত্যুতে শোক
২২ এপ্রিলের হামলায় মোট ২৬ জনের মৃত্যু গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। নিহতদের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাশ্মীরে বেড়াতে যাওয়া পর্যটক ছিলেন। হামলাকারীরা পর্যটকদের পরিচয় যাচাই করে গুলি চালিয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে উঠে আসে। এই ঘটনায় হামলার সাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়েও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, কয়েকজন পর্যটককে ধর্মীয় পরিচয় সংক্রান্ত প্রশ্ন করা হয়েছিল। এরপর তাঁদের উপর গুলি চালানো হয়। এই নৃশংসতার কারণে পহেলগাঁও হামলা শুধু একটি সন্ত্রাসী ঘটনা হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভাজন ও ভয় ছড়ানোর পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবেও আলোচনায় আসে।
### কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া?
সন্ত্রাসী হামলার পর সরকারের প্রথম কয়েক ঘণ্টার প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেই সময়ই নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, আহতদের উদ্ধার এবং সম্ভাব্য পরবর্তী হামলা ঠেকানোর মতো একাধিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
পহেলগাঁওয়ের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একদিকে আহত ও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, অন্যদিকে হামলাকারীদের চিহ্নিত করা এবং তৃতীয়দিকে ভবিষ্যতে এমন হামলা রুখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়েছিল প্রশাসনকে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম প্রশ্নের বিষয়টি তাই রাজনৈতিক দিকের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও নিরাপত্তাগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
### উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কঠোর বার্তা
হামলার পর প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে যে বৈঠক হয়, সেখানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-সহ দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ছিল স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশের অবস্থান কঠোর থাকবে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্বের উপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বাহিনীকে স্বাধীনতা দেওয়ার কথা জানান।
এই বৈঠকের পর থেকেই ভারতীয় নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের পরিধি দ্রুত বাড়তে থাকে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
### কূটনৈতিক পদক্ষেপের পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতি
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একইসঙ্গে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়।
ভারতীয় সরকারের বক্তব্য ছিল, হামলার নেপথ্যে থাকা জঙ্গি সংগঠন এবং তাদের মদতদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীও হামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক অপরাধী এবং তাঁদের মদতদাতাদের খুঁজে বের করার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছিলেন।
### অপারেশন সিঁদুরের দিকে এগোয় পরিস্থিতি
পহেলগাঁও হামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। ২০২৫ সালের ৭ মে ভারত পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক স্থানে জঙ্গি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত জানিয়ে দেয়, বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করা হতে পারে।
অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েকদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের নিরাপত্তা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
### ডোভালের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অজিত ডোভাল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পর তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
পহেলগাঁও হামলার পর তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের ধারাবাহিক যোগাযোগ ছিল। নিরাপত্তা পরিস্থিতির মূল্যায়ন, সম্ভাব্য হুমকি চিহ্নিত করা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের কৌশল নির্ধারণে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে তাই হামলার পর সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
### গোয়েন্দা ব্যর্থতার প্রশ্নও উঠেছিল
পহেলগাঁও হামলার পর স্বাভাবিকভাবেই গোয়েন্দা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে এত বড় হামলার আগে কোনও সতর্কবার্তা ছিল কি না, থাকলে তা স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাছে পৌঁছেছিল কি না—এসব প্রশ্ন সামনে আসে।
হামলার পর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা NIA তদন্তের দায়িত্ব নেয়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ, হামলাকারীদের পরিচয় নির্ধারণ এবং তাঁদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য খোঁজার কাজ শুরু করেন।
এই তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করে।
### পহেলগাঁও হামলার পর বদলে গেল নিরাপত্তা পরিস্থিতি
হামলার আগে কাশ্মীরে পর্যটন শিল্প দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বহু বছর পর উপত্যকায় পর্যটকদের ভিড় বাড়ছিল এবং পহেলগাঁও ছিল অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। ফলে পর্যটকদের লক্ষ্য করে এমন হামলা শুধু প্রাণহানি ঘটায়নি, কাশ্মীরের পর্যটন ব্যবস্থার উপরও বড় আঘাত হানে।
হামলার পরে বহু পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। কিছু পর্যটনস্থল সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়। প্রশাসনের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়—নিরাপত্তা বজায় রেখেও কীভাবে পর্যটন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা যায়।
### জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে নতুন বার্তা
পহেলগাঁওয়ের পর ভারতের অবস্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সামনে আসে—সন্ত্রাসবাদকে আর শুধু সীমান্তের একটি বিচ্ছিন্ন সমস্যা হিসেবে দেখা হবে না। সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত সংগঠন, তাদের পরিকাঠামো এবং মদতদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য এবং পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপে সেই নীতির প্রতিফলন দেখা যায়। হামলার পর ভারত যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক—একাধিক স্তরে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা দেশের সন্ত্রাসবিরোধী কৌশলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, পহেলগাঁও হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম প্রশ্নের কথা অজিত ডোভালের মুখে উঠে আসা শুধু একটি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার বিবরণ নয়। এর মাধ্যমে সেই সময়ের জাতীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতির গুরুত্বও সামনে আসে। ২৬ জন নিরীহ মানুষের মৃত্যু, কাশ্মীরের পর্যটন শিল্পে ধাক্কা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন উত্তেজনা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি দেশের নিরাপত্তা নীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল।
পহেলগাঁও হামলার পর যে ধারাবাহিক পদক্ষেপ ভারত নিয়েছিল, তার পরিণতিতেই শেষ পর্যন্ত অপারেশন সিঁদুরের মতো সামরিক অভিযান সামনে আসে। আর সেই গোটা প্রক্রিয়ার একেবারে শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ডোভালের বক্তব্য সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিককে নতুন করে সামনে আনল।


