শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে এবার দ্রুত পদক্ষেপ দেখা গেল। শনিবার আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে ফুটপাতের বেহাল পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর নির্দেশের পরই পার্ক স্ট্রিটের বেশ কিছু অংশে ফুটপাত পরিষ্কার করে পথচারীদের জন্য জায়গা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে।
শনিবার পার্ক স্ট্রিট এলাকায় সারপ্রাইজ ইন্সপেকশনে বেরিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। পরিদর্শনের সময় মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিস এবং পোস্ট অফিসের সামনের ফুটপাতের পরিস্থিতি তাঁর নজরে আসে। অভিযোগ, ফুটপাতের একটা বড় অংশ হকার ও বিভিন্ন সামগ্রীর দখলে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জায়গা ক্রমশ সংকীর্ণ হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি দেখে দ্রুত ফুটপাত খালি করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
### ফুটপাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ছিল দখলে
পরিদর্শনের সময় দেখা যায়, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও পোস্ট অফিস সংলগ্ন ফুটপাতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জায়গাই বিভিন্নভাবে দখল হয়ে রয়েছে। ফলে পথচারীদের জন্য অবশিষ্ট জায়গা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ব্যস্ত পার্ক স্ট্রিট এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফুটপাতের বড় অংশ দখল হয়ে থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল।
এই পরিস্থিতিতে অগ্নিমিত্রা পাল সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ফুটপাত পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে বেআইনি দখল বজায় থাকলে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। এরপরই প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফুটপাত পরিষ্কারের কাজ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
### ছবি দিয়ে পরিবর্তনের বার্তা অগ্নিমিত্রার
ফুটপাত পরিষ্কারের আগে এবং পরের ছবি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে শেয়ার করেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে পার্ক স্ট্রিট, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং পোস্ট অফিস চত্বরের পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার, সুন্দর এবং পরিকল্পিত কলকাতা গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ফুটপাত শুধু শহরের সৌন্দর্য বাড়ায় না, সাধারণ মানুষের চলাচলও অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ করে। বিশেষ করে পার্ক স্ট্রিটের মতো ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়টি পথচারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
### খুশি স্থানীয় বাসিন্দারাও
পার্ক স্ট্রিটে ফুটপাত পরিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এলাকার এক বাসিন্দা, যিনি ট্রাভেল এজেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান, আশা প্রকাশ করেছেন যে এই পরিষ্কার অভিযান শুধু সাময়িকভাবে নয়, ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে। ফুটপাত নিয়মিত দখলমুক্ত ও পরিষ্কার রাখা গেলে সাধারণ মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারবেন বলেও মত স্থানীয়দের।
তবে শুধু একবার অভিযান চালিয়ে ফুটপাত পরিষ্কার করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না বলেও মনে করছেন অনেকে। নিয়মিত নজরদারি এবং প্রশাসনিক তৎপরতা বজায় রাখা প্রয়োজন। কারণ ফুটপাত ফের দখল হয়ে গেলে আগের পরিস্থিতি আবার ফিরে আসার আশঙ্কা থেকেই যায়।
### ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানার নিয়ম
এদিকে বেআইনি দখল এবং রাস্তার ধারের জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফুটপাত বা রাস্তার পাশের পার্কিংয়ের জায়গা বেআইনিভাবে দখল করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে নোংরা ফেলা, বেআইনি দখল এবং সংশ্লিষ্ট অনিয়মের ক্ষেত্রে জরিমানা কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, জরিমানার ব্যবস্থা চালু হলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি দখল ও অপরিচ্ছন্নতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তবে হকার ও দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার ধারে ব্যবসা করে আসা বিক্রেতাদের ক্ষেত্রে দুর্গাপুজো পর্যন্ত উচ্ছেদ না করার কথাও আগে জানানো হয়েছিল। ফলে একদিকে শহরের ফুটপাতকে সাধারণ মানুষের জন্য ব্যবহারযোগ্য করে তোলা এবং অন্যদিকে দীর্ঘদিনের হকার সমস্যার সঙ্গে সমন্বয় রেখে ব্যবস্থা নেওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
পার্ক স্ট্রিটে শনিবারের পরিদর্শনের পর দ্রুত ফুটপাত পরিষ্কার হওয়ার ঘটনা সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, আগামী দিনে এই দখলমুক্ত পরিস্থিতি কতটা স্থায়ী হয় এবং ১ সেপ্টেম্বর থেকে জরিমানার নিয়ম বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হয়।


