ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর। দেশের একাধিক রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনায় **E. coli ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি** ধরা পড়েছে। কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা CAG-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে রেল মন্ত্রক। যাত্রীদের জন্য নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করতে এবার দেশজুড়ে প্রায় **২০,০০০ জায়গায় জল পরিশোধন ও নজরদারি ব্যবস্থা** জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
CAG-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের ৫১২টি নন-সাবার্বান রেলস্টেশনে যাত্রী পরিষেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হয়েছিল। সেই অডিটেই বিভিন্ন স্টেশনের পানীয় জলের গুণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে জল কুলারের নমুনায় E. coli পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
এর পরেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, **Tank-to-Tap filtration system**, নিয়মিত জল পরীক্ষা এবং আরও শক্তিশালী monitoring ব্যবস্থা চালু করা হবে। ফলে আগামী দিনে স্টেশনে যাত্রীদের পানীয় জল সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
## কোন কোন স্টেশনের জলে মিলেছে E. coli?
CAG-এর রিপোর্টে মোট আটটি রেলস্টেশনের জল কুলারের নমুনায় E. coli পাওয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
* দক্ষিণ রেলের কোয়েম্বাটোর
* পালাক্কাড জংশন
* দক্ষিণ-মধ্য রেলের হায়দরাবাদ
* মধ্য রেলের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস
* ভিওয়ান্ডি রোড
* কল্যাণ
* লোনাভালা
* পূর্ব রেলের মধুপুর
অর্থাৎ, দেশের একাধিক রেল জোনের স্টেশনেই পানীয় জলের নমুনা নিয়ে সমস্যা ধরা পড়েছে।
এই তালিকায় দেশের ব্যস্ততম স্টেশনগুলির মধ্যে অন্যতম ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাসও রয়েছে। ফলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এই রিপোর্টে যে নমুনাগুলি পরীক্ষা করা হয়েছিল, সেগুলি অডিটের সময়কার নির্দিষ্ট নমুনা। তাই প্রতিটি স্টেশনে বর্তমানে একই ধরনের দূষণ রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
## শুধু আটটি স্টেশনেই সমস্যা নয়
রেলের পানীয় জল নিয়ে CAG-এর উদ্বেগ শুধুমাত্র আটটি স্টেশনের E. coli-তে সীমাবদ্ধ নয়। রিপোর্টে আরও বিস্তৃত পরীক্ষার ঘাটতি এবং পানীয় জলের মান নিয়ন্ত্রণে একাধিক সমস্যা উঠে এসেছে।
২০২২-২৩ সালে আটটি রেলস্টেশনের ৪৯টি প্ল্যাটফর্মের কল থেকে সংগৃহীত নমুনায় total coliform bacteria, যার মধ্যে E. coli-ও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৩-২৪ সালে ৯টি রেল জোনের ৫৬টি স্টেশনের নমুনাতেও total coliform-এর উপস্থিতি ধরা পড়ে।
অর্থাৎ, পানীয় জলের মান নিয়ে সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন কোনও একটি জায়গার ঘটনা নয়। একাধিক স্টেশনে জল পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
## ৫১২ স্টেশনে অডিট, ৪৫৮-তেই ঘাটতি
CAG-এর রিপোর্টের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, অডিট করা ৫১২টি স্টেশনের মধ্যে **৪৫৮টি স্টেশনেই Minimum Essential Amenities-এর ঘাটতি** পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ পরীক্ষিত স্টেশনেই ন্যূনতম যাত্রী পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনও না কোনও ঘাটতি ছিল।
এই ঘাটতির মধ্যে পানীয় জল, শৌচাগার, ইউরিনাল এবং অন্যান্য মৌলিক পরিষেবার বিষয় উঠে এসেছে।
রেলস্টেশনে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। তাই পানীয় জল ও স্যানিটেশনের মতো মৌলিক পরিষেবায় ঘাটতি থাকলে তার প্রভাব সরাসরি যাত্রীদের উপর পড়তে পারে।
## ৫৯ স্টেশনে জল পরীক্ষা হয়নি
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্যগুলির একটি হল, **৫৯টি স্টেশনে পানীয় জলের bacteriological analysis-ই করা হয়নি** বলে CAG জানিয়েছে। এই স্টেশনগুলি ছয়টি রেল জোনের অন্তর্ভুক্ত।
নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল পরীক্ষা করার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
জলের মধ্যে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তাই নিয়মিত পরীক্ষা না হলে সম্ভাব্য দূষণ সময়মতো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
## ১৭৯ স্টেশনে Chemical Test হয়নি
শুধু জীবাণু পরীক্ষা নয়, পানীয় জলের chemical analysis নিয়েও বড় ঘাটতি পাওয়া গেছে।
CAG-এর তথ্য অনুযায়ী, **১১টি রেল জোনের ১৭৯টি স্টেশনে পানীয় জলের chemical testing করা হয়নি**। আরও ৭৭টি স্টেশনে পরীক্ষা হলেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তা করা হয়নি।
জলের রাসায়নিক গুণমান নির্ধারণের জন্য pH, turbidity, chloride, hardness, fluoride, arsenic, nitrate-এর মতো একাধিক বিষয় পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
নিয়মিত পরীক্ষা না হলে জলের গুণমানের পরিবর্তন বা দূষণের সম্ভাবনা সময়মতো ধরা পড়বে না।
## E. coli কেন এত উদ্বেগের?
E. coli বা Escherichia coli একটি ব্যাকটেরিয়া, যার অনেক প্রজাতি স্বাভাবিকভাবে মানুষের অন্ত্রেও থাকতে পারে। তবে কিছু ধরনের E. coli সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং দূষিত জল বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
কিছু ক্ষতিকর strain-এর কারণে ডায়রিয়া, পেটের সমস্যা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে অন্যান্য জটিলতাও হতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কিছু সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর হতে পারে।
তাই রেলস্টেশনের পানীয় জলে E. coli শনাক্ত হওয়ার ঘটনা সাধারণ জলমানের সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
## জল দূষিত হওয়ার সম্ভাব্য কারণ কী?
E. coli সাধারণত মলদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। পানীয় জলের উৎস, পাইপলাইন, storage tank বা distribution system-এর কোথাও দূষণ ঘটলে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া জলে পৌঁছতে পারে।
জলের ট্যাঙ্ক নিয়মিত পরিষ্কার না করা, পাইপলাইনের সমস্যা, নিকাশি ব্যবস্থার সঙ্গে পানীয় জলের লাইনের দূষণ কিংবা যথাযথ filtration ও chlorination না হওয়া—এসব কারণে জল দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে নির্দিষ্ট কোনও স্টেশনে ঠিক কী কারণে E. coli পাওয়া গিয়েছে, তা আলাদা করে তদন্তের বিষয়।
## রেল মন্ত্রকের বড় সিদ্ধান্ত
CAG রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর রেল মন্ত্রক দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের নির্দেশে প্রায় **২০,০০০ জায়গায় জল filtration এবং monitoring ব্যবস্থা** শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল জল সরবরাহের শুরু থেকে যাত্রীর পান করার জায়গা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে নজরদারির আওতায় আনা।
এর ফলে শুধু জল পরিশোধন নয়, কোথা থেকে জল আসছে, কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং কীভাবে যাত্রীদের কাছে পৌঁছচ্ছে—সবকিছুর উপর নজর রাখা সম্ভব হতে পারে।
## ‘Tank-to-Tap’ ব্যবস্থায় জোর
রেলের নতুন পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল **Tank-to-Tap water filtration system**। অর্থাৎ জল সংরক্ষণ থেকে শুরু করে যাত্রীদের পান করার জায়গা পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় filtration এবং monitoring-এর উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে জল সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে সম্ভাব্য দূষণ শনাক্ত করার সুযোগ বাড়বে।
তবে শুধু নতুন filtration system বসালেই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হবে না। নিয়মিত maintenance এবং laboratory testing সমানভাবে প্রয়োজন।
## নিয়মিত জল পরীক্ষা কেন জরুরি?
জল একবার পরিষ্কার করে দিলেই তার মান সবসময় একই থাকবে এমন নয়। storage tank, pipe অথবা water cooler-এর পরবর্তী ধাপেও দূষণ হতে পারে।
তাই রেলের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর জল পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
CAG-এর রিপোর্টে মূল সমস্যা হিসেবে এই নিয়মিত testing ও inspection-এর ঘাটতিই বারবার উঠে এসেছে।
ভবিষ্যতে রেল যদি automated monitoring-এর পাশাপাশি নিয়মিত laboratory testing করে, তাহলে দূষণ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
## Chlorine-এর মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন
পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে residual chlorine-এর মাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ। CAG-এর অডিটে বিভিন্ন জায়গায় residual chlorine পরীক্ষা এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ঘাটতি ধরা পড়েছে।
জলে পর্যাপ্ত chlorine না থাকলে জীবাণু নিয়ন্ত্রণের সমস্যা হতে পারে। আবার অতিরিক্ত মাত্রাও কাম্য নয়।
তাই নির্ধারিত সীমার মধ্যে chlorine বজায় রাখা এবং নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
## ২৩টি বা ৮০টি Parameter-এর পূর্ণ পরীক্ষা হয়নি
CAG-এর অডিটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ৫১২টি পরীক্ষিত স্টেশনের কোনওটিতেই Uniform Drinking Water Quality Protocol-এর Annexure II-এর সব ২৩টি parameter অথবা Annexure IV-এর সব ৮০টি parameter অনুযায়ী সম্পূর্ণ পরীক্ষা হয়নি।
অর্থাৎ জল পরীক্ষার ক্ষেত্রে শুধু কয়েকটি সাধারণ parameter পরীক্ষা করলেই যে পুরো নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়ে যায় না, এই রিপোর্ট তা স্পষ্ট করেছে।
রেলের সামনে এখন তাই শুধু E. coli নিয়ন্ত্রণ নয়, পুরো জল পরীক্ষার কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
## যাত্রীদের জন্য এর অর্থ কী?
রেলযাত্রার সময় বহু মানুষ স্টেশনের water cooler বা tap-এর জল ব্যবহার করেন। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রায় যাত্রীরা স্টেশনের পানীয় জলের উপর নির্ভর করেন।
তাই জল নিয়ে এই রিপোর্ট স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
যতক্ষণ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট স্টেশনের জল পরীক্ষায় নিরাপদ বলে নিশ্চিত না হওয়া যায়, ততক্ষণ যাত্রীরা সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিল করা পানীয় জল ব্যবহার করতে পারেন।
## রেলের কাছে এখন বড় পরীক্ষা
ভারতীয় রেল দেশের অন্যতম বৃহৎ পরিবহণ ব্যবস্থা। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী স্টেশন ব্যবহার করেন। ফলে এত বড় নেটওয়ার্কে পানীয় জলের মান বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
একটি স্টেশনে সমস্যা শনাক্ত হওয়ার পর সেটি দ্রুত সমাধান করা যেমন প্রয়োজন, তেমনই অন্য স্টেশনগুলিতেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে কি না তা খুঁজে বের করা জরুরি।
২০ হাজার পয়েন্টে নতুন filtration এবং monitoring ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ।
## শুধু নতুন যন্ত্র নয়, রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ
নতুন water filtration system বসানো হলেও সেটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ভবিষ্যতে আবার একই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ফিল্টার পরিবর্তন, storage tank পরিষ্কার, pipeline maintenance, water cooler sanitisation এবং নিয়মিত sample testing—সবকিছুকেই একটি নির্দিষ্ট monitoring system-এর মধ্যে আনতে হবে।
এছাড়া কোনও নমুনায় E. coli বা অন্য কোনও ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট water point দ্রুত বন্ধ করে corrective action নেওয়া প্রয়োজন।
## CAG রিপোর্টের গুরুত্ব
CAG ভারতের সরকারি ব্যয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের অডিট করে থাকে। রেলস্টেশনের passenger amenities ও sanitation নিয়ে এই অডিটে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা রেল কর্তৃপক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
রিপোর্টটি শুধু একটি সময়ের কিছু নমুনা নিয়ে তৈরি নয়। অডিটে ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ সময়কালের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য বিবেচনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ের কিছু ঘটনা নিয়েও নজর দেওয়া হয়েছে।
তাই বিষয়টিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিষেবা ব্যবস্থার ঘাটতি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
## রেলের প্রতিক্রিয়া কী?
রেল মন্ত্রক CAG-এর পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে corrective action শুরু করার কথা জানিয়েছে। বিশেষ করে জল পরীক্ষা এবং পরিষেবার ঘাটতি পূরণে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এখন সেই পদক্ষেপ কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ রিপোর্টে সমস্যার কথা উঠে আসার পর শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবে স্টেশনগুলিতে নিরাপদ পানীয় জল নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
## আগামী দিনে নজর থাকবে কোন দিকে?
আগামী দিনে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে—
**প্রথমত**, ২০ হাজার water point-এ filtration ও monitoring ব্যবস্থা কত দ্রুত চালু হয়।
**দ্বিতীয়ত**, E. coli পাওয়া স্টেশনগুলিতে corrective action নেওয়া হয়েছে কি না।
**তৃতীয়ত**, অন্যান্য স্টেশনের জল নিয়মিত পরীক্ষা হচ্ছে কি না।
**চতুর্থত**, chemical ও bacteriological testing-এর পুরনো ঘাটতি পূরণ হচ্ছে কি না।
**পঞ্চমত**, water quality monitoring-এর রিপোর্ট কতটা নিয়মিত প্রকাশ করা হয়।
এই বিষয়গুলির উপর নজর রাখলেই বোঝা যাবে রেলের নতুন উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে।
## রেলযাত্রীদের জন্য সতর্কতা
স্টেশনের পানীয় জল নিয়ে রিপোর্ট সামনে আসায় যাত্রীদের অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ CAG-এর রিপোর্টে নির্দিষ্ট অডিট নমুনার কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিটি স্টেশনের বর্তমান জল একইভাবে দূষিত—এমন কথা রিপোর্টে বলা হয়নি।
তবে সতর্ক থাকা অবশ্যই ভালো।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষদের ক্ষেত্রে পানীয় জলের বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা রাখা যুক্তিযুক্ত।
## রেলের জল ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের প্রয়োজন
CAG রিপোর্টের সবচেয়ে বড় বার্তা হল—শুধু কয়েকটি স্টেশনে জল পরীক্ষা করলেই হবে না। দেশের বিশাল রেল নেটওয়ার্কে একটি uniform এবং accountable water-quality monitoring system প্রয়োজন।
কোথাও পরীক্ষার ঘাটতি, কোথাও chemical testing না হওয়া, কোথাও bacteriological analysis না হওয়া—এই বিচ্ছিন্ন সমস্যাগুলিকে একটি কেন্দ্রীয় monitoring system-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে জলমানের নিরাপত্তা আরও বাড়ানো সম্ভব।
## শেষ কথা
দেশের একাধিক রেলস্টেশনের water cooler-এর নমুনায় E. coli ধরা পড়ার পর বড় পদক্ষেপের পথে হাঁটছে ভারতীয় রেল। CAG-এর রিপোর্টে কোয়েম্বাটোর, পালাক্কাড জংশন, হায়দরাবাদ, ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ, লোনাভালা এবং মধুপুর স্টেশনের নমুনায় E. coli পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ৫৯টি স্টেশনে bacteriological analysis না হওয়া এবং ১৭৯টি স্টেশনে chemical testing না হওয়ার মতো তথ্যও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রায় **২০,০০০ water point-এ filtration ও monitoring ব্যবস্থা** জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, এই সিদ্ধান্ত কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। কারণ রেলস্টেশনের পানীয় জল শুধুমাত্র একটি যাত্রী পরিষেবা নয়—এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রতিটি স্টেশনে পরিষ্কার, নিরাপদ এবং নিয়মিত পরীক্ষিত পানীয় জল নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রেলের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।


