Thursday, August 20, 2026

Creating liberating content

Will sports become a...

Supreme Court examines whether sports should become a fundamental right for children....

Football fan groups call...

FIFA President Gianni Infantino (AP Photo/Tony Gutierrez, File) Fan groups from across...

His father earned just...

Representational image (AI-generated) What begins as a struggle to afford education can...

Lausanne Diamond League: When...

Neeraj Chopra and Sri Lanka's Rumesh Pathirage will renew their rivalry...
Homeবাংলাআই-প্যাক মামলায় মমতার...

আই-প্যাক মামলায় মমতার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চায় ইডি

আই-প্যাক দফতরে তল্লাশিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া মামলায় নতুন মোড়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা তদন্তে রাজ্য পুলিশের বদলে সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করানোর পক্ষে সওয়াল করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে ইডির তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য পুলিশের উপর তাদের আস্থা নেই। তাই এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্ত প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে তৃণমূল এবং ইডির আইনজীবীদের মধ্যে জোরালো সওয়াল-জবাবও হয়। 

এই মামলার সূত্রপাত চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি। কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি অর্থপাচার মামলার তদন্তে আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই তল্লাশি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছন। এরপরই ইডির অভিযোগ, তদন্তের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং তল্লাশির সময় কিছু নথি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্রীয় সংস্থা জোর করে দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি নেওয়ার চেষ্টা করছিল। 

## আই-প্যাক মামলায় কেন সিবিআই তদন্ত চাইছে ইডি?

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে তদন্ত কোন সংস্থা করবে, সেই প্রশ্নটিই বড় হয়ে ওঠে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতে জানান, বর্তমানে রাজ্যের সরকার পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে বর্তমান রাজ্য সরকার চাইলে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে যে কোন সংস্থা এই ঘটনার তদন্ত করবে। এমনকি রাজ্য পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করাতেও তাঁদের আপত্তি থাকার কথা নয় বলে আদালতে জানানো হয়।

এই বক্তব্যের পর বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চ ইডির কাছে জানতে চায়, তদন্তকারী সংস্থা নির্ধারণের বিষয়টি রাজ্য সরকারের উপর ছেড়ে দিলে তাঁদের আপত্তি রয়েছে কি না। কিন্তু ইডির আইনজীবী সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। এরপরই ইডির তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, স্থানীয় পুলিশের উপর তাদের আস্থা নেই। তাই সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন।

## মমতার আইনজীবীর পাল্টা যুক্তি কী?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। তিনি মূলত প্রশ্ন তোলেন, ইডি কেন সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে এসে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চাইছে।

তাঁর যুক্তি ছিল, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর কয়েক মাস কেটে গিয়েছে। যদি তদন্তের প্রয়োজন থাকে, তাহলে বর্তমান রাজ্য সরকার নিজেই এফআইআর দায়ের করতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। 

মমতার আইনজীবীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—রাজ্য সরকার যদি নিজে তদন্তের ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে কেন সেই দায়িত্ব দেওয়া হবে? এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই শুনানিতে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

## ৮ জানুয়ারির তল্লাশি থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত

পুরো মামলার কেন্দ্রবিন্দু ৮ জানুয়ারির ঘটনা। ওই দিন কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি অর্থপাচার তদন্তের সূত্র ধরে আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি।

ইডির দাবি, তল্লাশি চলাকালীন তাদের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যাওয়ার পর পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে ইডির আধিকারিকরা নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়। 

অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর অভিযোগ, আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশির নামে তৃণমূলের গোপন নথি এবং দলের সঙ্গে সম্পর্কিত সামগ্রী নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। অর্থাৎ একই ঘটনাকে দুই পক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছে।

## ইডির অভিযোগ কতটা গুরুতর?

ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তকারী আধিকারিকদের কাজ করতে বাধা দেওয়া এবং তদন্তের আওতায় থাকা নথি বা ইলেকট্রনিক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি মামলাটিকে সাধারণ রাজ্য পুলিশের তদন্তের মধ্যে রাখতে চাইছে না।

ইডির দাবি, যেহেতু ঘটনাটির সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম জড়িয়েছে, তাই নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। এই যুক্তিই মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জোর দিয়ে তুলে ধরে ইডি। 

তবে মনে রাখতে হবে, ইডির অভিযোগ এখনও অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে। আদালত এখনও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।

## রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা নেই ইডির

মামলায় ইডির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হল, রাজ্য পুলিশের উপর তারা আস্থা রাখতে পারছে না।

কেন্দ্রীয় সংস্থার যুক্তি, এই ঘটনার সঙ্গে রাজ্য প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের নাম জড়িয়েছে। তাই রাজ্য পুলিশের হাতে তদন্ত থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

এই কারণেই ইডি সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের অবস্থান হল, রাজ্য সরকার চাইলে নিজেরাই তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

## আদালত এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি

মঙ্গলবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি। আদালত জানিয়েছে, সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। ফলে সেদিনের শুনানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। 

ততদিন পর্যন্ত ইডির সিবিআই তদন্তের দাবি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের যুক্তি—দুই বিষয়ই আদালতের সামনে থাকবে।

## রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়ার সম্ভাবনা

এই মামলা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। একদিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড়।

ফলে আগামী শুনানির আগে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তৃণমূলের তরফে বরাবরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তদন্ত চালানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি নিজেদের তদন্তকে আইনসঙ্গত এবং প্রমাণভিত্তিক বলে দাবি করে।

আই-প্যাক মামলাতেও সেই পুরনো রাজনৈতিক সংঘাতের ছাপ স্পষ্ট।

## আই-প্যাক কীভাবে মামলার কেন্দ্রে এল?

আই-প্যাক বা Indian Political Action Committee একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা, যা নির্বাচনী কৌশল এবং রাজনৈতিক প্রচারে কাজ করার জন্য পরিচিত।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও সংস্থাটির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। ইডির কয়লা পাচার সংক্রান্ত তদন্তের সূত্রে আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি হওয়ার পর সংস্থাটি ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিই পরবর্তী আইনি বিতর্কের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

## মমতার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?

ইডির অভিযোগ মূলত তদন্তে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে। সংস্থার দাবি, তল্লাশি চলাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের কিছু আধিকারিক তদন্তকারী আধিকারিকদের কাজে বাধা দিয়েছিলেন। ইডি আরও অভিযোগ করেছে, তল্লাশির আওতায় থাকা নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। 

তবে মমতার পক্ষ থেকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংস্থা রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

অর্থাৎ মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলির একটি হল—সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল এবং কার বক্তব্যের সঙ্গে প্রমাণ মেলে।

## কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে যোগসূত্র

আই-প্যাক অফিসে তল্লাশি মূলত একটি বৃহত্তর অর্থপাচার তদন্তের অংশ ছিল। এই তদন্তের সঙ্গে কথিত কয়লা পাচার মামলার যোগ রয়েছে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে কয়লা পাচার সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান হয়েছে।

আই-প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশিও সেই তদন্তের অংশ ছিল বলে ইডি জানিয়েছে।

## কেন্দ্র বনাম রাজ্য সংঘাতের নতুন অধ্যায়?

পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের সংঘাত নতুন নয়। অতীতে একাধিক মামলায় ইডি, সিবিআই এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে তদন্তের অধিকার ও পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে।

আই-প্যাক মামলাও সেই সংঘাতের নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ করে এবার তদন্তকারী সংস্থা নিজেই রাজ্য পুলিশের পরিবর্তে সিবিআই তদন্তের দাবি জানাচ্ছে। ফলে মামলাটি শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের প্রশ্নও সামনে আসছে।

## রাজ্য সরকারের অবস্থান কী?

মমতার আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, বর্তমান রাজ্য সরকার চাইলে তদন্তের বিষয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এই বক্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট। কারণ এর মাধ্যমে মূলত বলা হচ্ছে, আগের সরকারের সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে বর্তমান প্রশাসন যদি তদন্তের প্রয়োজন মনে করে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তাদের রয়েছে।

অর্থাৎ রাজ্য সরকারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলে কেন্দ্রীয় সংস্থার সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই—এটাই মমতার পক্ষের যুক্তির অন্যতম ভিত্তি।

## ইডি কেন রাজ্য তদন্তে আপত্তি করছে?

ইডির আপত্তির মূল কারণ হল নিরপেক্ষতা। কেন্দ্রীয় সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তাই রাজ্য পুলিশের তদন্তকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বলে ধরে নেওয়া কঠিন।

এই কারণেই তারা সিবিআইয়ের মতো অন্য একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত চাইছে।

তবে সিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশের উপর নির্ভর করবে।

## সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী শুনানি

আগামী ২ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। তার আগে উভয় পক্ষই নিজেদের আইনি যুক্তি আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবে।

সেদিন আদালত যদি তদন্তকারী সংস্থা নিয়ে কোনও নির্দেশ দেয়, তাহলে মামলার পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে।

যদি আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত নতুন মাত্রা পাবে। আবার আদালত যদি রাজ্য সরকারের হাতে বিষয়টি ছেড়ে দেয়, তাহলে ইডির বর্তমান অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

## অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি

এই মামলায় একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা জরুরি—ইডির অভিযোগ মানেই তা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে ইডি। কিন্তু অভিযোগের সত্যতা এখনও বিচারাধীন।

আদালত সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করার পরেই সিদ্ধান্ত নেবে।

তাই এই পর্যায়ে মমতার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

## তৃণমূলের পাল্টা অবস্থান

তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে ইডি ও সিবিআইয়ের মতো সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আই-প্যাক মামলার ক্ষেত্রেও সেই রাজনৈতিক অভিযোগ সামনে আসতে পারে।

অন্যদিকে ইডির বক্তব্য, তাদের তদন্ত সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানই মামলাটিকে আরও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

## আদালতের সামনে মূল প্রশ্ন

আগামী শুনানিতে আদালতের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকবে।

প্রথমত, আই-প্যাক তল্লাশির সময় সত্যিই তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছিল কি না।

দ্বিতীয়ত, রাজ্য পুলিশের হাতে তদন্ত দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত।

তৃতীয়ত, এই মামলায় সিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে কি না।

চতুর্থত, সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি এফআইআর বা তদন্তের বিষয়ে কী ধরনের নির্দেশ দিতে পারে।

এই প্রশ্নগুলির উত্তরই মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে।

## রাজনৈতিকভাবে মমতার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

মামলাটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি শুধু তৃণমূলের প্রধান নন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

তাঁর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কোনও মামলা রাজনৈতিকভাবে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে মামলার আইনি ফলাফল কী হবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

## শেষ কথা

আই-প্যাক অফিসে ইডির তল্লাশি ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের মামলায় মঙ্গলবার নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা রাজ্য পুলিশের তদন্তে আস্থা রাখছে না এবং সিবিআইকে দিয়ে তদন্ত করাতে চায়। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী জানিয়েছেন, বর্তমান রাজ্য সরকার চাইলে নিজেরাই তদন্তকারী সংস্থা নির্ধারণ করতে পারে। 

৮ জানুয়ারির তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি এবং ইডির তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ থেকেই এই মামলার সূত্রপাত। ইডির দাবি, তদন্তের সময় নথি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তাদের আধিকারিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছিল। মমতার পক্ষ অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আই-প্যাক অফিসে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ নথি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। 

এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আদালত। আগামী ২ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা। 

ফলে আগামী শুনানির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে আইনি মহলেরও। সিবিআই তদন্তের দাবি মেনে নেওয়া হবে, নাকি রাজ্য সরকারকেই তদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে—সেই প্রশ্নের উত্তরই নির্ধারণ করবে আই-প্যাক মামলার পরবর্তী অধ্যায়।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

১৯৮৪ শিখবিরোধী দাঙ্গার সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সাজ্জন কুমারের মৃত্যু, বয়স ৮০

১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গা মামলায় দোষী সাব্যস্ত প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সাজ্জন কুমারের মৃত্যু হল। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৮০ বছর বয়সে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি তিহাড় জেলে যাবজ্জীবন সাজা কাটছিলেন। জেল থেকে অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে...

ভাগবতের সফরের আগেই RSS-কে নিষেধাজ্ঞার দাবি আমেরিকায়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা RSS-কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত আমেরিকা সফরের আগেই RSS-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা **United States Commission on International Religious...

সবংয়ের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা শুভেন্দুর

পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। টানা বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির জেরে ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট বন্যা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সবংয়ে পৌঁছন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এলাকায়...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.