প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। বেশ কয়েক মাস ধরে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে হুমকিসূচক চিঠি আসছিল বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ফের এমন একটি চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টিকে আর হালকাভাবে না নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন সৌরভ। তাঁর পক্ষ থেকে বেহালার ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় ছয় মাস ধরে সৌরভের নামে রহস্যময় চিঠি আসছিল। প্রথম দিকে সেগুলিকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সাধারণত জনপ্রিয় ক্রিকেটারদের কাছে ভক্তদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের চিঠি আসে। সেই কারণেই প্রাথমিক পর্যায়ে এই চিঠিগুলিকে সেভাবে সন্দেহজনক বলে মনে করা হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক চিঠিতে ভয় দেখানোর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে|
### চিঠিতে কী লেখা ছিল?
সোমবার সৌরভের অফিসে আরও একটি চিঠি পৌঁছয়। চিঠিটি খোলার পর তাতে থাকা বিষয়বস্তু দেখে উদ্বেগ তৈরি হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চিঠিটি ইংরেজিতে লেখা ছিল এবং অতি ছোট অক্ষরে লেখা হওয়ায় সেটি পড়তেও সমস্যা হচ্ছিল।
চিঠিতে সৌরভ ও ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁদের বাড়িতে ঢুকে খুন করার হুমকির কথাও চিঠিতে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সৌরভের ঘনিষ্ঠরাও রেহাই পাবেন না—এমন হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এমন গুরুতর হুমকির পর নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশকে জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সৌরভের পক্ষ থেকে দ্রুত ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
### ছয় মাস ধরে আসছিল চিঠি
ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই ধরনের চিঠি একেবারে নতুন নয়। পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ছয় মাস ধরে সৌরভের নামে রহস্যময় চিঠি পাঠানো হচ্ছিল।
প্রথম দিকে সেগুলিকে সাধারণ চিঠি বলেই মনে করা হয়েছিল। সৌরভের মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের কাছে প্রতিদিনই বহু চিঠি, শুভেচ্ছাবার্তা কিংবা বিভিন্ন অনুরোধ আসতে পারে। ফলে প্রতিটি চিঠি খুঁটিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি।
কিন্তু পরপর এমন চিঠি আসার পর এবং সর্বশেষ চিঠিতে সরাসরি গুরুতর হুমকি থাকার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টির গুরুত্ব বেড়ে যায়। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, আগের চিঠিগুলির সঙ্গে সাম্প্রতিক চিঠির কোনও যোগ রয়েছে কি না।
### তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পুলিশের হাতে?
পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্তে কিছু অগ্রগতি করেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যিনি বেলঘরিয়া এলাকা থেকে কুরিয়ার মারফত চিঠিগুলি পাঠাতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ওই ব্যক্তির ব্যবহৃত ফোনের সিমের গতিবিধি সম্পর্কেও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। চিঠি পাঠানোর ক্ষেত্রে যে কুরিয়ার পরিষেবা ব্যবহার করা হয়েছিল, তার সঙ্গেও পুলিশ যোগাযোগ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া, কুরিয়ার বুকিংয়ের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় এবং ফোনের গতিবিধি মিলিয়ে দেখছেন। এই সূত্রগুলি থেকে হুমকির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তির কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে।
### কেন পাঠানো হচ্ছে এই হুমকি?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে এই ধরনের চিঠি পাঠানো হচ্ছে। এর পিছনে ব্যক্তিগত কোনও কারণ রয়েছে, নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশের তদন্তের আগে এ বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। তদন্তকারীরা চিঠির ভাষা, পাঠানোর পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য প্রেরকের গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন।
একইভাবে, বিষয়টির পিছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
### নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক সৌরভ
ঘটনার পর সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। হুমকির মতো বিষয় সামনে আসার পর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছেন না তিনি। বিশেষ করে একই ধরনের চিঠি দীর্ঘ সময় ধরে আসার অভিযোগ থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
সৌরভ শুধু একজন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক নন, তিনি ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর জনপ্রিয়তা এবং পরিচিতি অত্যন্ত বড়। ফলে তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ সামনে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই বিশেষ গুরুত্ব পায়।
### ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ও হুমকির তালিকায়
ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নামও চিঠিতে থাকা। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, সৌরভের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকেও ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
শুধু তাঁদের দুজন নয়, সৌরভের ঘনিষ্ঠদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে পুলিশকে এখন শুধু চিঠির প্রেরককে শনাক্ত করলেই হবে না, হুমকির প্রকৃতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রাও খতিয়ে দেখতে হবে।
### কুরিয়ার সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
চিঠিগুলি কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানো হওয়ায় তদন্তে কুরিয়ার সংস্থার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বুকিংয়ের সময় কী তথ্য দেওয়া হয়েছিল, কোথা থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, কে সেটি জমা দিয়েছিল এবং কোন ঠিকানা বা ফোন নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল—এসব তথ্য তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।
একই সঙ্গে ফোনের সিমের গতিবিধি খতিয়ে দেখার মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যক্তির অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
### রহস্যের সমাধানে নজর তদন্তে
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন ঘটনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে কোনও গুজব বা অনুমানের পরিবর্তে পুলিশি তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রাখা প্রয়োজন।
কে এই চিঠিগুলি পাঠাচ্ছেন, কেন পাঠাচ্ছেন এবং সত্যিই কোনও হামলার পরিকল্পনা রয়েছে কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
সব মিলিয়ে সৌরভ ও ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়কে খুনের হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে কলকাতায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত ছয় মাস ধরে এমন চিঠি আসার অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক চিঠিতে গুরুতর হুমকির কথা উঠে আসার পর বিষয়টি পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই ঠাকুরপুকুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং তদন্তকারীরা কুরিয়ার পরিষেবা ও ফোনের গতিবিধি খতিয়ে দেখছেন। বেলঘরিয়া থেকে কোনও ব্যক্তি চিঠি পাঠিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক তদন্তে সূত্র মিলেছে। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হল ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা এবং হুমকির প্রকৃত কারণ সামনে আনা।


