সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘পুকি বাবা’ নামে বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ধর্মীয় বক্তা অনিরুদ্ধাচার্যজি মহারাজ এবার বড়পর্দায় আসতে চলেছেন। তাঁর জীবন, আধ্যাত্মিক যাত্রা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি হচ্ছে একটি হিন্দি বায়োপিক। ছবিটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন বাঙালি পরিচালক শুভেন্দু ঘোষ। নির্মাতাদের দাবি, এই ছবিতে অনিরুদ্ধাচার্যজির শৈশব থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রবণতা বেড়েছে। ‘হনুমান অংশ’-এর সাফল্যের পর এবার সেই ধারায় যুক্ত হচ্ছে অনিরুদ্ধাচার্যজির বায়োপিক। যদিও ছবির নাম এবং নামভূমিকায় কে অভিনয় করবেন, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
### কে এই অনিরুদ্ধাচার্যজি?
অনিরুদ্ধাচার্যজির আসল নাম অনিল রাম তিওয়ারি। ১৯৮৯ সালের ২৭ নভেম্বর তাঁর জন্ম মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে। তাঁর বাবা ছিলেন একজন পুরোহিত। ছোটবেলা থেকেই গীতা, রামায়ণ এবং অন্যান্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থের পাঠের মধ্য দিয়ে তাঁর আধ্যাত্মিক জীবনের সূচনা হয়। পরে বৃন্দাবনে তিনি নিজের আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং ধর্মীয় বক্তা হিসেবে সারা দেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
আজ তিনি শুধু ধর্মীয় সভাতেই নন, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও লক্ষ লক্ষ অনুরাগীর কাছে পরিচিত মুখ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর সহজ-সরল ভাষায় ধর্মীয় আলোচনা এবং হাস্যরস মিশিয়ে বক্তব্য রাখার ভঙ্গি তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
### ‘পুকি বাবা’ নামের জনপ্রিয়তা
ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওর সুবাদে অনিরুদ্ধাচার্যজিকে অনেকেই ‘পুকি বাবা’ নামে ডাকতে শুরু করেন। গুরুগম্ভীর ধর্মীয় ভাষণের বদলে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা নিয়ে সহজভাবে কথা বলা, হাস্যরসের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
### সমাজসেবার কাজও থাকছে ছবিতে
নির্মাতাদের দাবি, বায়োপিকে তাঁর সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাবে। বৃন্দাবনে তাঁর আশ্রমের মাধ্যমে বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা, বিনামূল্যে কমিউনিটি কিচেন চালানো এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কথাও ছবিতে দেখানো হবে।
সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর বৃদ্ধাশ্রমে তিনশোরও বেশি প্রবীণ নাগরিক থাকেন। সমাজসেবার জন্য তিনি মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার ক্ষেত্রে সম্মানসূচক ডক্টরেটও পেয়েছেন এবং ২০২৩ সালে ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডসেও তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
### জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্ক
অনিরুদ্ধাচার্যজির নাম একাধিক বিতর্কেও জড়িয়েছে। অতীতে তিনি সীতা ও দ্রৌপদীর সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়। এছাড়া নারীদের বিয়ের বয়স ও সম্পর্ক নিয়ে তাঁর আরেকটি মন্তব্য নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। পরে তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই বিতর্কগুলিও তাঁর জনপরিচয়ের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। ফলে নির্মাতারা ছবিতে এই অধ্যায়গুলিকে কীভাবে তুলে ধরবেন, তা নিয়েও ইতিমধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
### বলিউডের সঙ্গেও যোগাযোগ
অনিরুদ্ধাচার্যজির জনপ্রিয়তা শুধু ধর্মীয় মহলেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ‘লাফটার শেফ’-এর মতো টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ‘বিগ বস ১৮’-এর প্রতিযোগী হওয়ার প্রস্তাবও তিনি পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন, যদিও ব্যক্তিগত মতাদর্শের কারণে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। পরে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে সঞ্চালক সলমন খানকে গীতা উপহার দেন।
### পরিচালকের পরিকল্পনা
পরিচালক শুভেন্দু ঘোষের মতে, এই বায়োপিক শুধুমাত্র একজন ধর্মীয় বক্তার জীবনের গল্প নয়; বরং তাঁর আধ্যাত্মিক যাত্রা, মানুষের সঙ্গে সংযোগ এবং সমাজে তাঁর প্রভাবকেও তুলে ধরবে। নির্মাতারা মনে করছেন, জনপ্রিয়তা, বিতর্ক এবং সমাজসেবার নানা দিক মিলিয়ে ছবিটি দর্শকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
### কৌতূহলের কেন্দ্রে নতুন বায়োপিক
ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জীবন নিয়ে তৈরি হওয়া চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে অনিরুদ্ধাচার্যজির বায়োপিক কতটা সাড়া ফেলবে, তাঁর জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলি কীভাবে দেখানো হবে এবং নামভূমিকায় শেষ পর্যন্ত কোন অভিনেতাকে দেখা যাবে—এই প্রশ্নগুলিই এখন সিনেমাপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে।


