পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা Dearness Allowance (DA) নিয়ে ফের বড়সড় নির্দেশ সামনে এল। দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিএ সংক্রান্ত মামলার জেরে এবার রাজ্য সরকারের উপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া মেটানোর চাপ আরও বাড়ল। সুপ্রিম কোর্ট গঠিত মনিটরিং কমিটির তরফে প্রায় ৬৫ হাজার কর্মীর ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, আগামী **৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৬৪,৭৫৯ জন সরকারি কর্মীর বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি** মিটিয়ে দিতে হবে। ফলে হাতে রয়েছে প্রায় ২৫ দিনের মতো সময়। ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতেই প্রথম দফায় কারা বকেয়া ডিএ পাবেন, তা নির্ধারণ করা হচ্ছে।
### ৬৪,৭৫৯ জনের ই-সার্ভিস বুক আপলোড
বকেয়া ডিএ হিসেব করার ক্ষেত্রে কর্মীদের পুরনো বেতন সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের সময়কালের বেতন, বেতন কাঠামো এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অঙ্ক নির্ধারণ করতে হবে। সেই কারণেই পুরনো কর্মীদের ই-সার্ভিস বুক আপডেট করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার।
রাজ্যের তরফে মনিটরিং কমিটিকে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই **৬৪,৭৫৯ জনের ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে**। ফলে এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ-র হিসেব তৈরির কাজ তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। সেই কারণেই প্রথম ধাপে এই কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে শুধু এই সংখ্যক কর্মীর ক্ষেত্রেই কাজ থেমে নেই। রাজ্যের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট **১,৩৩,৯৯১ জন কর্মী তাঁদের সার্ভিস বুক আপডেট করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন**। অর্থাৎ আরও বড় সংখ্যক কর্মীর বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের কাজ চলছে।
### কেন ই-সার্ভিস বুক এত গুরুত্বপূর্ণ?
বকেয়া ডিএ-র হিসেব নির্ভুলভাবে করতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মীর অতীতের বেতন সংক্রান্ত তথ্য জানা প্রয়োজন। কোন সময়ে কত বেতন ছিল, কোন হারে ডিএ প্রাপ্য ছিল এবং সেই অনুযায়ী কত টাকা বকেয়া রয়েছে—এই সমস্ত হিসেবের জন্য সার্ভিস বুক গুরুত্বপূর্ণ নথি।
বিশেষ করে বহু বছর আগের বকেয়া হওয়ায় সমস্ত কর্মীর পুরনো তথ্য এক জায়গায় পাওয়া সহজ নয়। তাই ই-সার্ভিস বুকের মাধ্যমে তথ্য ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারও জানিয়েছে, পুরনো কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পূর্ণ না থাকায় এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে।
এবার যাঁদের তথ্য আপলোড ও যাচাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের মধ্য থেকেই প্রথম দফায় বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
### সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর নতুন গতি
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চলেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এই মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ রায় আসে। সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দাবি খারিজ করে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর নির্দেশ দেয়।
এরপর বকেয়া ডিএ কীভাবে এবং কতগুলি কিস্তিতে মেটানো হবে, সেই বিষয়টি নির্ধারণ করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির তত্ত্বাবধানেই এখন বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
ফলে ৩ সেপ্টেম্বরের সময়সীমা শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ নয়, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর বকেয়া টাকা মেটানোর বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
### প্রথম কিস্তি পাবেন কারা?
বর্তমান নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের ই-সার্ভিস বুক স্ক্যান করে আপলোড করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের মধ্যেই প্রথম দফায় প্রায় ৬৫ হাজার কর্মী রয়েছেন। এই কর্মীদের **২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি** ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
অর্থাৎ সমস্ত বকেয়া একসঙ্গে মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথমে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মীকে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য যোগ্য কর্মীদের বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া এগোবে।
### আরও কর্মীর জন্য অপেক্ষা
যাঁদের সার্ভিস বুক আপডেটের কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রেও পরবর্তী সময়ে একই প্রক্রিয়ায় বকেয়া ডিএ মেটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ১.৩৩ লক্ষেরও বেশি কর্মীর সার্ভিস বুক আপডেটের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে যে এই কাজটি বড় পরিসরে চলছে।
তবে কবে পরবর্তী দফার কর্মীদের বকেয়া মেটানো হবে, সেই বিষয়ে এই নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। তাই প্রথম দফার অর্থপ্রদান সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ের কর্মীদের নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
### কর্মীদের মধ্যে বাড়ছে প্রত্যাশা
দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ নিয়ে অপেক্ষায় থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে এই নির্দেশ স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রথম কিস্তি দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় কর্মীদের একাংশের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে।
এখন মূল নজর থাকবে রাজ্য সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রায় ৬৫ হাজার কর্মীর বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি মেটাতে পারে কি না। একইসঙ্গে বাকি কর্মীদের সার্ভিস বুক আপডেট এবং তাঁদের প্রাপ্য বকেয়া নির্ধারণের কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বকেয়া DA নিয়ে ফের বড় অগ্রগতি দেখা গেল। ৩ সেপ্টেম্বরের ডেডলাইন সামনে রেখে এখন রাজ্য সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কর্মীরা। প্রথম দফার প্রায় ৬৫ হাজার কর্মীর বকেয়া মেটানো সম্ভব হলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানের পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পূর্ণ হবে।


