পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের আলোচনার কেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী **মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়** এবং বিরোধী দলনেতা **শুভেন্দু অধিকারী**। নবান্নে এক প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আচমকাই শুভেন্দু অধিকারীর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। অতীতের নানা স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, একসময় শুভেন্দু দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তাঁর দল ছেড়ে চলে যাওয়া নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তোলার সময় বহু নেতা-কর্মী একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীও অন্যতম ছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলন, নির্বাচন এবং সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি আক্ষেপের সুরে প্রশ্ন তোলেন, **“কেন তিনি দল ছেড়ে চলে গেলেন?”** তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তৃণমূলের সঙ্গে শুভেন্দুর দীর্ঘ সম্পর্ককে অস্বীকার করা যায় না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু পুরনো সম্পর্ক ও একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতি কখনও মুছে যায় না। তিনি দাবি করেন, দল সবসময় কর্মীদের সম্মান দিয়েছে এবং একাধিক নেতাকে বড় রাজনৈতিক পরিচিতি এনে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ না করেই অতীতের ঘটনাগুলি স্মরণ করেন।
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। পরে তিনি দল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন। এরপর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে দুই নেতার রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা এবং রাজ্যের অন্যতম প্রধান বিজেপি মুখ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে আসছে। একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দলের কর্মীদের ঐক্যের বার্তা দিতে চেয়েছেন। অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের মতে, এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে শুভেন্দুকে লক্ষ্য করেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে আগামী রাজনৈতিক লড়াইকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, শুভেন্দু অধিকারী একসময় তৃণমূলের সংগঠনের অন্যতম মুখ হলেও বর্তমানে তিনিই শাসক দলের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
নবান্নের ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখলেও শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে করা মন্তব্যই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। তাঁর বক্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শাসক দলের সমর্থকরা মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে অতীতের বাস্তব ঘটনা হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীরা এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্যের বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী দিনে এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের পারস্পরিক বাকযুদ্ধের আবহে এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সব মিলিয়ে, নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে করা মন্তব্য ফের রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই মন্তব্যের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা পড়ে এবং বিরোধী শিবির কীভাবে এর জবাব দেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


