শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এবার আরও কঠোর বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নিউ টাউনে অতিরিক্ত শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী **সুভেন্দু অধিকারী** স্পষ্ট জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এমন কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। তিনি প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন, শব্দদূষণ রোধে প্রচলিত আইন কঠোরভাবে কার্যকর করতে এবং প্রয়োজন হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দ্রুত নগরায়ণের ফলে নিউ টাউন এখন রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সেখানে বসবাস ও কর্মসূত্রে যাতায়াত করেন। ফলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিরিক্ত মাইক, লাউডস্পিকার এবং উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক উৎসব বা অন্য কোনও কর্মসূচি—সব ক্ষেত্রেই আদালত ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চলতে হবে। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।
তিনি আরও জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে এবং অনুমোদিত শব্দসীমা কার্যকর করতে প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই পদক্ষেপ কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে নয়; বরং জনস্বার্থে পরিবেশ রক্ষা এবং আইন প্রয়োগের অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত শব্দের মধ্যে থাকলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক চাপ, শ্রবণশক্তির ক্ষতি এবং শিশুদের পড়াশোনায় ব্যাঘাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শহরাঞ্চলে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখন শুধু প্রশাসনিক নয়, জনস্বাস্থ্যের প্রশ্নেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউ টাউন মূলত পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখানে বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, হাসপাতাল, আবাসন প্রকল্প এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র রয়েছে। ফলে বিশেষ করে রাতের সময় নির্ধারিত শব্দসীমা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের মতে, আইন কঠোরভাবে কার্যকর হলে বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।
মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে আরও নির্দেশ দিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া মাত্র দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে যৌথভাবে অভিযান চালাতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও শব্দদূষণ রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, উন্নত নাগরিক সমাজ গড়ে তুলতে আইন মানার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বার্থে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আগামী দিনে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রাধিকার হতে পারে। নিউ টাউনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই কড়া বার্তা ভবিষ্যতে রাজ্যের অন্যান্য শহর ও নগর এলাকাতেও একইভাবে কার্যকর করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


