পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এর নির্বাচনে এক প্রাক্তন পাক মন্ত্রীর জয় ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, যুক্তরাজ্যে গুরুতর অপরাধের তদন্তে পুলিশি জামিনে থাকা অবস্থাতেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন। এই ঘটনাকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (PML-N)-এর নেতা এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের প্রাক্তন মন্ত্রী **রুখসার আহমেদ (Rukhsar Ahmed)** সম্প্রতি পিওকে আইনসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে বহু বছর আগের শিশু যৌন নির্যাতন এবং মানব পাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। সেই মামলায় তাঁকে ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে পুলিশি জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তদন্ত এখনও শেষ হয়নি এবং তাঁর বিরুদ্ধে এখনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, ম্যানচেস্টার অঞ্চলে ১৯৯০-এর দশকে সংঘটিত একটি বহুল আলোচিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ তদন্তের সঙ্গে তাঁর নাম উঠে আসে। গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ এই মামলার তদন্ত করছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে নিয়মিত পুলিশের কাছে হাজিরা দেওয়ার শর্তে জামিনে রাখা হয়েছিল। তবে নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি পাকিস্তানে চলে যান, যা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পুলিশের কাছে হাজিরা না দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু একই সময়ে তাঁকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা যায়। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ব্রিটেনে তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা এবং জামিনের শর্ত মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, রুখসার আহমেদ উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি অতীতেও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর সরকারের মন্ত্রী ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের রাজনীতিতে সক্রিয়। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রবাসী পাকিস্তানি সম্প্রদায়ের মধ্যে তাঁর প্রভাব এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় মানবাধিকার কর্মী এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে অপরাধী বলা যায় না। তবে এত গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং জয়ী হওয়া জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে তাঁর সমর্থকদের দাবি, আদালতে এখনও কোনও দোষ প্রমাণিত হয়নি এবং আইন অনুযায়ী তিনি নির্দোষ বলেই বিবেচিত হবেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য আদান-প্রদান করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ঘটনায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেও কাঠগড়ায় তুলছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুতর অভিযোগের তদন্তাধীন কোনও ব্যক্তির নির্বাচনে জয়ী হওয়া দেশের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিতর্ক নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং আইনি প্রক্রিয়ার উপরই এখন সকলের নজর।


