দেশের সাধারণ মানুষের মতামত এবং তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যাকে সামনে আনতে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করলেন **ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)**-র প্রতিষ্ঠাতা **অভিজিৎ দীপকে**। তিনি জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই দেশব্যাপী শুরু হবে **‘ক্যা বোলতি পাবলিক’ (Kya Bolti Public)** নামে একটি বিশেষ জনসংযোগ অভিযান। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সাধারণ মানুষের মতামত, সমস্যার কথা এবং প্রত্যাশা সম্পর্কে সরাসরি জানা।
মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে দলের দু’দিনের কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষ কী ভাবছেন, কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যাশা কী—সেই বিষয়গুলিকে সামনে আনতেই এই দেশব্যাপী অভিযান চালানো হবে। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়াই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
দীপকে জানান, এই অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব পাবে **শিক্ষা সংস্কার** এবং **বেকারত্ব**। তাঁর অভিযোগ, দেশে শিক্ষার ব্যয় ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অনেক বেসরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণিতেই বছরে এক থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষা লাভের অধিকার যেন ব্যবসায়িক স্বার্থের কাছে হারিয়ে না যায়, সেই লক্ষ্যেই আন্দোলন জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।
বেকারত্ব প্রসঙ্গেও সরব হন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মতে, দেশের যুব সমাজের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল কর্মসংস্থানের অভাব। বহু উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী চাকরি পাচ্ছেন না এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তাই ‘ক্যা বোলতি পাবলিক’ অভিযানের মাধ্যমে এই বিষয়টিকেও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিজিৎ দীপকে আরও বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন দেশের মানুষের মধ্যে প্রতিবাদের সাহস বাড়িয়েছে। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কেটে গিয়েছে। এখন মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা প্রকাশ্যে বলতে চাইছেন এবং সেই কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করার জন্যই এই জনসংযোগ কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আপাতত **CJP নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছে না**। বরং সংগঠনটি একটি **‘পাবলিক প্রেসার গ্রুপ’** বা জনচাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবেই কাজ করবে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জনমত গঠন অত্যন্ত প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই এই নতুন কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে।
দীপকে জানান, দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ ৩৫ বছরের নিচে। তাই যুব সমাজের মতামত ও প্রত্যাশাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ছাত্রছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী, তরুণ পেশাজীবী এবং সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে তাঁদের সমস্যা নথিভুক্ত করা হবে। পরে সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন নীতিগত দাবি এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ক্যা বোলতি পাবলিক’ অভিযান সিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। যদিও দলটি আপাতত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছে, তবুও দেশজুড়ে জনসংযোগ এবং সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আগামী মাসে এই অভিযান শুরু হলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ এবং তার রাজনৈতিক প্রভাবের দিকেই নজর থাকবে।


