ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা স্পিনার **কুলদীপ যাদব**কে নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান টিম ম্যানেজমেন্টের অধীনে তিনি যতটা ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ার কথা, বাস্তবে ততটা পাচ্ছেন না। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য ভবিষ্যতে সমস্যার কারণ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সাম্প্রতিক সিরিজগুলিতে ভারতের একাদশ নির্বাচনের সময় বারবার কুলদীপ যাদবকে বাইরে রাখা হয়েছে। অনেক ম্যাচে অতিরিক্ত ব্যাটিং গভীরতা অথবা অলরাউন্ডারের ভারসাম্য বজায় রাখার যুক্তিতে তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ম্যাচ জেতানো রিস্ট স্পিনারের ধারাবাহিক ম্যাচ অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত না খেললে তাঁর ছন্দ এবং আত্মবিশ্বাস—দুটিই প্রভাবিত হতে পারে।
প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার **রবিচন্দ্রন অশ্বিন**ও কুলদীপকে আরও বেশি ম্যাচ খেলানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে কুলদীপকে নিয়মিত সুযোগ দেওয়া উচিত, কারণ তিনি ভারতের অন্যতম সেরা উইকেট-শিকারি স্পিনার এবং মাঝের ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভারতীয় দলে স্পিন বিভাগে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত বেশি। রবীন্দ্র জাদেজা, ওয়াশিংটন সুন্দর এবং অন্যান্য স্পিন অলরাউন্ডারদের উপস্থিতির কারণে টিম কম্বিনেশন তৈরির সময় কুলদীপকে অনেক সময় বেঞ্চে বসে থাকতে হচ্ছে। তবে অনেকের মত, উইকেট নেওয়ার দক্ষতার দিক থেকে কুলদীপ এখনও ভারতের সেরা স্পিনারদের একজন এবং তাঁকে দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা ঠিক হবে না।
ভারতের সহকারী কোচ **রায়ান টেন ডুশখাটে** অবশ্য সম্প্রতি জানিয়েছেন, টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও কুলদীপের উপর পূর্ণ আস্থা রাখছে। তাঁর বক্তব্য, কুলদীপ ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি ঠিকই, কিন্তু দলের পরিকল্পনায় তিনি এখনও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি আরও বলেন, ভারত সবসময় একজন রিস্ট স্পিনারকে দলে রাখতে চায় এবং কুলদীপ সেই ভূমিকায় বড় ভরসা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৭ সালের বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবোয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। সেখানকার অনেক উইকেটে মাঝের ওভারে রিস্ট স্পিনারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তাই এখন থেকেই কুলদীপকে পর্যাপ্ত ম্যাচ খেলিয়ে ছন্দে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।
পরিসংখ্যানও কুলদীপের পক্ষে কথা বলে। আন্তর্জাতিক একদিনের ক্রিকেটে তিনি ইতিমধ্যেই ১৯০-র বেশি উইকেট নিয়েছেন এবং একাধিকবার ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ভারতের বড় সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে, প্রধান কোচ **গৌতম গম্ভীর** ও নির্বাচকরা ভবিষ্যতের কথা ভেবেই দল গঠনের কাজ করছেন। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একাধিক ক্রিকেটারকে পরীক্ষা করে দেখার কৌশল নেওয়া হয়েছে। ফলে কুলদীপের সীমিত সুযোগ পাওয়ার পিছনে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, দলগত ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কুলদীপ যাদবকে নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। একদিকে বিশেষজ্ঞদের দাবি, তাঁকে আরও বেশি ম্যাচ খেলানো উচিত; অন্যদিকে টিম ম্যানেজমেন্ট জানাচ্ছে, তিনি এখনও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০২৭ সালের একদিনের বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসবে, কুলদীপের ভূমিকা এবং তাঁকে ঘিরে নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত ততই আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।


