রেশন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যে চালু হচ্ছে **Smart Public Distribution System (Smart PDS)**। এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে রেশন বণ্টনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পাশাপাশি প্রয়োজনে **আইরিস (চোখের মণি) স্ক্যান** ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে রেশন পৌঁছায় এবং জালিয়াতি রোধ করা যায়।
খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে ধাপে ধাপে **Smart PDS App**-এর মাধ্যমে রেশন বিতরণ শুরু হবে। নতুন প্রযুক্তির ফলে রেশন দোকানে উপভোক্তার পরিচয় আরও নির্ভুলভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রেশন উত্তোলনের প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত হওয়ায় গোটা ব্যবস্থার উপর নজরদারিও আরও শক্তিশালী হবে।
## কী এই Smart PDS?
Smart PDS হল প্রযুক্তিনির্ভর একটি আধুনিক রেশন বিতরণ ব্যবস্থা, যেখানে ডিজিটাল যাচাই, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রেশন বিতরণকে আরও স্বচ্ছ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে ভুয়ো রেশন কার্ড, একাধিকবার রেশন তোলা বা অন্যের নামে রেশন নেওয়ার মতো অনিয়ম অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে সরকারের দাবি।
## আইরিস স্ক্যান কেন?
এতদিন অধিকাংশ ক্ষেত্রে আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হতো। কিন্তু অনেক সময় বয়স্ক ব্যক্তি, শ্রমিক বা আঙুলের ছাপ স্পষ্ট না থাকায় বায়োমেট্রিক মিলতে সমস্যা দেখা দিত। সেই সমস্যার সমাধান হিসেবেই আইরিস স্ক্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চোখের মণির তথ্য সাধারণত দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, ফলে পরিচয় যাচাই আরও নির্ভুল হয়।
## চোখের স্ক্যান না হলে কি রেশন মিলবে না?
এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি উঠছে। খাদ্য দফতরের বক্তব্য অনুযায়ী, **আইরিস স্ক্যান পরিচয় যাচাইয়ের একটি অতিরিক্ত ব্যবস্থা।** কোনও উপভোক্তার আইরিস স্ক্যান না হলে বা প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দিলে, বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিকল্প পরিচয় যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ শুধুমাত্র আইরিস স্ক্যান না হওয়ার কারণে যোগ্য উপভোক্তাকে রেশন থেকে বঞ্চিত করার কথা বলা হয়নি।
## নতুন ব্যবস্থার সুবিধা কী?
সরকারের দাবি, Smart PDS চালু হলে—
* রেশন বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে।
* ভুয়ো উপভোক্তা শনাক্ত করা সহজ হবে।
* প্রকৃত উপভোক্তার পরিচয় নিশ্চিত করা যাবে।
* রেশন বিতরণের তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
* খাদ্যশস্যের অপচয় ও অনিয়ম কমবে।
* পরিষেবা আরও দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে।
## সাধারণ উপভোক্তাদের কী করতে হবে?
যাঁদের রেশন কার্ডে আধার, মোবাইল নম্বর বা অন্যান্য তথ্য আপডেট করা নেই, তাঁদের দ্রুত তা সংশোধন করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রেশন দোকানে পরিচয় যাচাইয়ের সময় বায়োমেট্রিক বা আইরিস যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তাই উপভোক্তাদের প্রয়োজনীয় নথি হালনাগাদ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
## কেন এই পরিবর্তন?
দেশজুড়ে পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমকে (PDS) আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে ধাপে ধাপে Smart PDS ব্যবস্থা চালু হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডিজিটাল রেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে সরকারি খাদ্যশস্য প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছায়।
## সাধারণ মানুষের জন্য কী বার্তা?
নতুন Smart PDS চালু হলেও যোগ্য রেশন গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সরকারের দাবি, এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য রেশন ব্যবস্থা বন্ধ করা নয়, বরং তা আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং জালিয়াতিমুক্ত করা। ফলে ভবিষ্যতে প্রকৃত উপভোক্তারা আরও দ্রুত ও নির্ভুল পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


