নেপালে ফের জোরালো হয়ে উঠেছে **হিন্দু রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি**। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। তাঁদের দাবি, ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত এবং পরে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা বেড়েছে। তাই সংবিধান সংশোধন করে নেপালকে আবার **হিন্দু রাষ্ট্র** হিসেবে ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, ধর্মীয় প্রতীক এবং বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ একাধিক এলাকায় তাঁরা মিছিল ও সমাবেশ করেন। আন্দোলনের মূল স্লোগান ছিল—নেপালের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয় পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং দেশকে আবার হিন্দু রাষ্ট্রের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে শতাব্দীপ্রাচীন রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে নেপালকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১৫ সালের সংবিধানের মাধ্যমে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়। সেই সময় থেকেই একাংশের রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠন হিন্দু রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নেপালের অধিকাংশ নাগরিক হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় দেশের সাংবিধানিক পরিচয়েও তার প্রতিফলন থাকা উচিত। তাঁদের দাবি, হিন্দু রাষ্ট্রের মর্যাদা ফিরিয়ে আনা হলে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরও সুসংহত হবে এবং জাতীয় ঐক্য জোরদার হবে। অন্যদিকে, ধর্মনিরপেক্ষতার সমর্থকদের মতে, বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামো সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করে এবং সেটিই বজায় রাখা উচিত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই দাবি আবারও জোরালো হয়েছে। তবে সরকার এখনও পর্যন্ত সংবিধান পরিবর্তন বা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের মর্যাদা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দেয়নি।
এদিকে, নেপালের কিছু এলাকায় সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনাও রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। প্রশাসন শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালে হিন্দু রাষ্ট্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি শুধু ধর্মীয় নয়, বরং রাজনৈতিক, সাংবিধানিক এবং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এই দাবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে এবং সংবিধান সংশোধন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমানে নেপাল সরকার ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছে। হিন্দু রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন চললেও, সংবিধান পরিবর্তনের জন্য সংসদীয় ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই হবে। ফলে এই আন্দোলনের রাজনৈতিক প্রভাব আগামী দিনে কতটা বাড়ে, সেদিকেই নজর দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মহলের।


