দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখা (Anti-Corruption Branch)-কে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে তিনজন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার-সহ মোট ১৯ জন পুলিশকর্মীকে সেখানে নিয়োগ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন রাজ্য পুলিশের পরিচিত মুখ **মুরলিধর শর্মা**, **আকাশ মাঘারিয়া** এবং **কামনাশিস সেন**। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অভিযান চালানোর প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি রাজ্য প্রশাসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদলের পর দুর্নীতি দমন শাখাকে আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকদের এই শাখায় নিয়ে আসা হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের পাশাপাশি আরও ১৬ জন পুলিশকর্মীকেও এই দপ্তরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের অধিকাংশই সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, মুরলিধর শর্মা দীর্ঘদিন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। একইভাবে আকাশ মাঘারিয়া এবং কামনাশিস সেনও রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তে বিশেষভাবে কাজে লাগবে বলেই মনে করছে নবান্ন।
দুর্নীতি দমন শাখার প্রধান কাজ হল সরকারি দপ্তর, সরকারি কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ঘুষ, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত করা। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাই এই শাখার দক্ষতা ও জনবল বৃদ্ধি প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। নতুন নিয়োগের ফলে তদন্তের গতি এবং নজরদারি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন শাখাকে আরও শক্তিশালী করা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদক্ষেপ। অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসারদের নেতৃত্বে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ হতে পারে বলে তাঁদের মত। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়েও নজরদারি আরও বাড়তে পারে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, শুধুমাত্র অভিযোগ গ্রহণ করাই নয়, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও এই শাখার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। নতুন অফিসারদের যোগদানের ফলে সেই প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন শাখা রাজ্য পুলিশের একটি বিশেষ ইউনিট, যা ঘুষ, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত করে। প্রয়োজনে ফাঁদ পেতে ঘুষ নেওয়ার সময় অভিযুক্তদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করাও এই সংস্থার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাই অভিজ্ঞ অফিসারদের অন্তর্ভুক্তি এই শাখার কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই নতুন উদ্যোগে স্পষ্ট, দুর্নীতির বিরুদ্ধে নজরদারি আরও বাড়ানো এবং তদন্ত ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দিকেই জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এখন দেখার বিষয়, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের নেতৃত্বে দুর্নীতি দমন শাখার কার্যক্রম কতটা গতি পায় এবং ভবিষ্যতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে কী ধরনের ফলাফল সামনে আসে।


