দেশের কোটি কোটি কৃষকের জন্য বড় সুখবর দিল কেন্দ্র সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা **প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-KISAN)** প্রকল্পের মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু থাকবে। এর জন্য প্রায় **₹৩.১৫ লক্ষ কোটি** টাকার আর্থিক বরাদ্দও অনুমোদন করেছে কেন্দ্র।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের কোটি কোটি যোগ্য কৃষক আগামী পাঁচ বছরও আগের মতোই বছরে **₹৬,০০০** আর্থিক সহায়তা পেতে থাকবেন। এই অর্থ তিনটি সমান কিস্তিতে, অর্থাৎ প্রতি চার মাস অন্তর **₹২,০০০** করে সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে **Direct Benefit Transfer (DBT)**-এর মাধ্যমে।
## কী এই PM-KISAN প্রকল্প?
২০১৯ সালে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ভূমিধারী কৃষকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। সময়ের সঙ্গে প্রকল্পটির পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমানে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী ভূমিধারী কৃষক পরিবার এই সুবিধা পান। প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত হয়।
## কেন বাড়ানো হল প্রকল্পের মেয়াদ?
কেন্দ্র সরকারের মতে, কৃষকদের হাতে নিয়মিত নগদ অর্থ পৌঁছে দিলে কৃষিকাজের খরচ মেটানো সহজ হয়। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি কৃষকদের মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার প্রয়োজনও কিছুটা কমে। এই কারণেই প্রকল্পটি আরও পাঁচ বছর চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
## কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে?
নতুন অনুমোদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ পর্যন্ত পাঁচ বছরে এই প্রকল্পে **₹৩.১৫ লক্ষ কোটি** ব্যয় করা হবে। সরকার জানিয়েছে, এই বরাদ্দের মাধ্যমে আগের মতোই সমস্ত যোগ্য কৃষককে বার্ষিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
## এতদিনে কত কৃষক উপকৃত?
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প চালুর পর থেকে **₹৪.৪৭ লক্ষ কোটিরও বেশি** অর্থ সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই **২৩টি কিস্তি** বিতরণ করা হয়েছে এবং সর্বশেষ কিস্তির সুবিধা পেয়েছেন **৯.৪ কোটিরও বেশি কৃষক**। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিলা কৃষকও রয়েছেন।
## কারা এই সুবিধা পাবেন?PM-KISAN প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে—
* ভারতের নাগরিক হতে হবে।
* যোগ্য ভূমিধারী কৃষক পরিবারের সদস্য হতে হবে।
* সরকারের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে।
* সঠিক আধার, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং e-KYC তথ্য জমা থাকতে হবে।
## e-KYC কেন জরুরি?
কেন্দ্র সরকার বারবার জানিয়েছে, **e-KYC সম্পূর্ণ না থাকলে ভবিষ্যতের কিস্তি আটকে যেতে পারে।** তাই সমস্ত উপভোক্তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে e-KYC সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি অনলাইনে অফিসিয়াল পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ অথবা কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC)-এর মাধ্যমে করা যায়।
## কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তিকৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, বছরে ₹৬,০০০ খুব বড় অঙ্ক না হলেও চাষের মৌসুমে এটি কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে বীজ, সার, কৃষি যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে এই অর্থ সহায়ক হয়। নিয়মিত কিস্তি পাওয়ায় কৃষকদের নগদ প্রবাহও বজায় থাকে।
## আগামী দিনেও চলবে আর্থিক সহায়তামন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছরও PM-KISAN প্রকল্পের সুবিধা অব্যাহত থাকবে। ফলে দেশের কোটি কোটি কৃষক আগের মতোই বছরে ₹৬,০০০ করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। সরকারের আশা, এই প্রকল্প কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।


