Home বাংলা পাকিস্তানে শান্তি মিছিলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১৪

পাকিস্তানে শান্তি মিছিলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ১৪

0
2

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া (Khyber Pakhtunkhwa) প্রদেশে একটি শান্তি মিছিলকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিললেও পরবর্তী সরকারি তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৪-এ পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিকের পাশাপাশি একাধিক পুলিশকর্মীও রয়েছেন। এছাড়া ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সোয়াত (Swat) জেলার কাবাল (Kabal) শহরে। ওই এলাকায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং স্থায়ী শান্তির দাবিতে একটি বৃহৎ জনসমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মীরা মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি একটি পুলিশ স্টেশনের সামনে পৌঁছনোর পরই এক আত্মঘাতী হামলাকারী ভিড়ের মধ্যে প্রবেশের চেষ্টা করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশির চেষ্টা করলে সে শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক উড়িয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই প্রবল বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। চারদিকে ধোঁয়া, রক্তাক্ত মানুষ এবং চিৎকারে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের বহু গাড়ি এবং ভবনেরও ক্ষতি হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাধারণ মানুষের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার পর গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছেন। হামলাকারীর পরিচয় জানার পাশাপাশি এই হামলার পিছনে কোনও বড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলের প্রাথমিক সন্দেহ, এর পিছনে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর হাত থাকতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “দেশে শান্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। দোষীদের কোনওভাবেই ছাড়া হবে না।” পাশাপাশি আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোয়াত উপত্যকা একসময় পাকিস্তানি তালিবানদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ছিল। ২০০৭ সালের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বড়সড় অভিযানে জঙ্গিদের অনেকটাই হটিয়ে দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আবারও এই অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে। আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি মিছিলকে লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা শুধু সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে না, বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ওপরও বড় আঘাত হানছে। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি হামলার প্রবণতা বাড়ছে, যার ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকেরাও আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

এই ঘটনার পর কাবাল ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং গোটা এলাকায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here