বীরভূমে সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই আবহেই রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী **জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়** প্রকাশ্যে বীরভূমের পুলিশ সুপার **বিদিত রাজ ভুন্দেশ**-এর প্রশংসা করেছেন। তাঁর দাবি, জেলার পুলিশ গত কয়েক দিনে যে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে, তা পশ্চিমবঙ্গে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।
জানা গিয়েছে, গত চার দিনে বীরভূমে একটি বড়সড় অভিযানে তথাকথিত ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলের সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তল্লাশি চালিয়ে **প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত** করেছে পুলিশ। এই অভিযানের পরই সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জেলার পুলিশ সুপারকে অভিনন্দন জানান উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান বাস্তবায়নে জেলা পুলিশের ভূমিকা প্রশংসার যোগ্য।
মন্ত্রী তাঁর পোস্টে দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে অতীতে কোনও একক অভিযানে এত বড় অঙ্কের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার নজির খুবই বিরল। তিনি আরও লেখেন, নেতৃত্বের পরিবর্তনের পর প্রশাসনের কাজের ধরনেও পরিবর্তন এসেছে এবং বীরভূম জেলা পুলিশ তার একটি উদাহরণ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও দোষী যেন রেহাই না পায়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বীরভূমে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, সোনার বার এবং বিভিন্ন নথি উদ্ধার হওয়ার খবর সামনে আসে। তদন্তে পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পদের সঙ্গে টুলু মণ্ডলের যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই মামলার তদন্ত এখনও চলছে এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদের উৎস ও মালিকানা নিয়ে বিশদ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
বর্তমানে বীরভূম জেলার পুলিশ সুপারের দায়িত্বে রয়েছেন **আইপিএস অফিসার বিদিত রাজ ভুন্দেশ**। চলতি বছরের জুন মাসে তিনি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় আর্থিক অপরাধ, বেআইনি খনিজ ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি—এ বিষয়টিও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই চূড়ান্ত আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে মন্তব্য করছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট অভিযানের বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তদন্তের অগ্রগতির দিকেই নজর রয়েছে প্রশাসনিক মহলের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাজেয়াপ্ত সম্পদের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ, সংশ্লিষ্ট নথির পরীক্ষা এবং আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে একাধিক সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
সব মিলিয়ে, **বীরভূমে সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার পর জেলার পুলিশ সুপার বিদিত রাজ ভুন্দেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।** তবে তদন্ত এখনও চলমান এবং মামলার চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তির দিকেই এখন সবার নজর।


