দেশজুড়ে পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যেই ফের কেন্দ্র সরকারকে কড়া বার্তা দিল **Cockroach Janata Party (CJP)**। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া **এফআইআর (FIR)** প্রত্যাহার না করা হলে এবং পুলিশি পদক্ষেপ বন্ধ না হলে তারা আবার বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে। একই সঙ্গে আন্দোলন সম্পর্কিত ভিডিও, ছবি এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণের জন্য **’সাক্ষী’ (Saakshi)** নামে একটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ডিজিটাল প্রমাণভাণ্ডার (Evidence Vault) চালুর ঘোষণাও করেছে সংগঠন।
সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রানকা ও সৌরভ দাস, রাজ্যসভার স্বতন্ত্র সাংসদ তথা আইনজীবী কপিল সিবলের উপস্থিতিতে জানান, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থা আগের সমঝোতার পরিপন্থী। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ করে দিল্লি, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু ছাত্রছাত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেপ্তারির ঘটনাও ঘটেছে। সংগঠনের দাবি, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তারা নতুন করে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে।
সিজেপি জানিয়েছে, **’সাক্ষী’** প্ল্যাটফর্মে সাধারণ মানুষ আন্দোলনের সময় ধারণ করা ভিডিও, ছবি এবং অন্যান্য নথি আপলোড করতে পারবেন। সংগঠনের দাবি, এই তথ্য ভবিষ্যতে আইনি লড়াই এবং ঘটনার স্বচ্ছ নথিভুক্তিকরণে কাজে লাগবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস, নিয়োগে অনিয়ম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। দিল্লির যন্তর-মন্তর এবং সংসদ অভিমুখে মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। এরপর একাধিক এফআইআর দায়ের করা হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কড়া নজরদারি জারি করা হয়।
দিল্লি পুলিশ এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারির পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে নিউ দিল্লি এবং সেন্ট্রাল দিল্লি জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিরোধী দলের একাংশ আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে কেন্দ্র সরকারের অবস্থান, আইন ভঙ্গের অভিযোগ থাকলে তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই চলবে। সরকার এখনও সিজেপির নতুন হুঁশিয়ারির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ হলেও, কোনও অভিযোগ বা মামলা প্রত্যাহার করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। একইভাবে আন্দোলনের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাই এই ইস্যুর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি বিচারিক এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে |
সব মিলিয়ে, সিজেপির নতুন সতর্কবার্তা এবং **’সাক্ষী’** প্রমাণভাণ্ডার চালুর ঘোষণা ছাত্র আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তবে আন্দোলন পুনরায় শুরু হবে কি না, সরকারের সঙ্গে আলোচনা এগোয় কি না এবং এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিতে কী সিদ্ধান্ত হয়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল, প্রশাসন এবং আন্দোলনকারীদের।


