কলকাতা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ পার্কিং। ব্যস্ত রাস্তার দু’ধারে নিয়ম ভেঙে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার ফলে প্রতিদিনই যানজট, পথচারীদের দুর্ভোগ এবং জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলে বাধা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে এবার কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, নিয়মবহির্ভূত পার্কিং আর কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
মন্ত্রী জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার দু’পাশে গাড়ি রেখে কার্যত রাস্তার প্রস্থ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু যানবাহন চলাচলই নয়, সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের লক্ষ্য হল রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য আরও নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য করে তোলা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেখানে পার্কিংয়ের অনুমতি নেই সেখানে কোনও গাড়ি রাখা যাবে না। ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলিকে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথাও জানানো হয়েছে।
অগ্নিমিত্রা পল বিশেষভাবে ভুয়ো পার্কিং স্লিপের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পার্কিংয়ের নামে গাড়িচালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে না। ফলে একদিকে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকারেরও রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, ভবিষ্যতে পার্কিং ফি আদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম চালু করা হবে। অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় নির্দিষ্ট রেট চার্ট থাকবে এবং তার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা যাবে না। এতে সাধারণ মানুষ যেমন স্বচ্ছ পরিষেবা পাবেন, তেমনি বেআইনি অর্থ আদায়ের সুযোগও অনেকটাই কমবে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করা গেলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষ করে অফিস সময়ে শহরের প্রধান সড়কগুলিতে গাড়ির গতি বাড়বে এবং জরুরি পরিষেবার গাড়িও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। পাশাপাশি পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও রাস্তা আরও নিরাপদ হবে।
ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বাজার ও বাণিজ্যিক এলাকায় নিয়মবহির্ভূত পার্কিংয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কার্যকর অভিযান চালানো গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তবে পরিবহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। শহরে পর্যাপ্ত বৈধ পার্কিং পরিকাঠামো গড়ে তোলা, স্মার্ট পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা এবং নাগরিকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, অবৈধ পার্কিং, ভুয়ো পার্কিং স্লিপ এবং রাস্তা দখলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান কলকাতার যান চলাচলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে ঘোষিত পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তার প্রভাব শহরের দৈনন্দিন ট্রাফিক ব্যবস্থায় কতটা পড়ে।


