ডুরান্ড কাপ ২০২৬ শুরুর আগে **মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট** এবং **ইস্টবেঙ্গল এফসি**-র সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে টিকিট, নিরাপত্তা এবং ম্যাচ আয়োজন সংক্রান্ত যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই কাটতে চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আয়োজকদের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠকের পর প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কলকাতায় ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
সূত্রের খবর, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে বড় ম্যাচগুলিতে বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়ায় আয়োজকদের উদ্বেগ অনেকটাই দূর হয়েছে।
এবারের ডুরান্ড কাপে কলকাতার দুই প্রধান ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা আগের মতোই তুঙ্গে। দুই ক্লাবই নতুন মরসুমের আগে নিজেদের শক্তি যাচাই করার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে এই টুর্নামেন্টকে দেখছে। ফলে স্টেডিয়ামে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, ম্যাচ চলাকালীন দর্শকদের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রস্তুতিও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ডুরান্ড কাপ শুধুমাত্র একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতা নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের নতুন মরসুমের অন্যতম বড় সূচনা। তাই এই প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন দেশের ফুটবল পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকাতায় মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আবেগ এবং বিপুল দর্শক সমাগম।
সমর্থকদের জন্যও সুখবর রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কাটায় টিকিট বিক্রি এবং ম্যাচে প্রবেশ সংক্রান্ত প্রস্তুতিও দ্রুত এগোচ্ছে। যদিও আয়োজকরা সমর্থকদের অনুরোধ করেছেন, টিকিট সংগ্রহ এবং স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করতে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, দুই ক্লাবই নতুন বিদেশি এবং ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে দল গঠন করেছে। ফলে ডুরান্ড কাপের ম্যাচগুলিতে নতুন কৌশল এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স দেখার সুযোগ পাবেন সমর্থকরা। এই প্রতিযোগিতার ফলাফল পরবর্তী আইএসএল মরসুমের প্রস্তুতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ম্যাচের আগে ক্লাব, পুলিশ এবং আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। আগাম পরিকল্পনা থাকলে দর্শকদের নিরাপদ পরিবেশে খেলা উপভোগ করার সুযোগ তৈরি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাও সহজ হয়।
এদিকে দুই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে ডুরান্ড কাপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমেও টুর্নামেন্ট, টিকিট এবং সম্ভাব্য প্রথম একাদশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের আশা, এবারও কলকাতার মাঠে ঐতিহ্যবাহী ডার্বি এবং অন্যান্য ম্যাচে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাবে।
সব মিলিয়ে, **ডুরান্ড কাপ ২০২৬ শুরুর আগে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা অনেকটাই কাটায় মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর এসেছে।** এখন সকলের নজর থাকবে টুর্নামেন্টের সফল সূচনা এবং মাঠের লড়াইয়ের দিকে, যেখানে দুই প্রধান ক্লাব নতুন মরসুমে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে নামবে।


