দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উন্নত মানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চাহিদাও। এই পরিস্থিতিতে ভারতের অন্যতম শীর্ষ ব্যাটারি নির্মাতা সংস্থা **Exide Industries** বড় বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি চলতি অর্থবর্ষে তাদের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সেল উৎপাদন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে আরও **১,৪০০ কোটি টাকা** বিনিয়োগ করবে। এই সিদ্ধান্ত ভারতের ব্যাটারি উৎপাদন শিল্প এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরুতে গড়ে ওঠা অত্যাধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন কেন্দ্রকে আরও দ্রুত সম্পূর্ণ করতেই এই অতিরিক্ত বিনিয়োগ করা হচ্ছে। এই কারখানার মাধ্যমে দেশীয়ভাবে ব্যাটারি সেল উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমানে ভারতের বড় অংশের লিথিয়াম-আয়ন সেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। নতুন উৎপাদন শুরু হলে সেই নির্ভরতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এক্সাইডের এই প্রকল্প পরিচালনা করছে তাদের সহযোগী সংস্থা **Exide Energy Solutions Limited (EESL)**। ইতিমধ্যেই সংস্থাটি এই প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪,৮০০ কোটিরও বেশি। নতুন করে ১,৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের ফলে প্রকল্পের অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি এবং উৎপাদন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে শুধু বৈদ্যুতিক গাড়ি নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি সংরক্ষণ (Energy Storage Systems), টেলিকম, শিল্প এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চাহিদা দ্রুত বাড়বে। সেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই এক্সাইড এখন থেকেই নিজেদের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। এর ফলে দেশীয় শিল্প যেমন লাভবান হবে, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতীয় ব্যাটারি শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।
সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাটারি সেল উৎপাদন করা হবে, যা মূলত বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা এবং শক্তি সংরক্ষণ প্রকল্পগুলির চাহিদা পূরণ করবে। দেশীয় উৎপাদন বাড়লে ব্যাটারির সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন খরচও কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারত সরকারও “মেক ইন ইন্ডিয়া” এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির উপর জোর দিচ্ছে। সেই লক্ষ্য পূরণে দেশীয় ব্যাটারি উৎপাদনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। এক্সাইডের এই বিনিয়োগ সেই সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই শিল্পমহলের মত। দেশীয়ভাবে ব্যাটারি তৈরি হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং ইভি শিল্পের সামগ্রিক বিকাশ ত্বরান্বিত হবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে ভারতের ব্যাটারি বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বৃহৎ উৎপাদন পরিকাঠামোর কারণে এক্সাইড এই প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেতে পারে। সংস্থার এই নতুন বিনিয়োগ শুধু একটি কারখানা সম্প্রসারণ নয়, বরং ভারতের পরিচ্ছন্ন শক্তি এবং বৈদ্যুতিক পরিবহণ ব্যবস্থার ভবিষ্যতের উপর বড় আস্থার প্রতিফলন বলেই মনে করা হচ্ছে।


