১ জুলাই থেকে পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প VB-G RAM-G (Viksit Bharat–Guarantee for Rozgar and Ajeevika Mission-Gramin)। দীর্ঘদিনের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের পরিবর্তে চালু হওয়া এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ২.৫৬ কোটি গ্রামীণ জব কার্ডধারী উপকৃত হতে পারেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। নতুন প্রকল্পে বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে প্রশাসন। ([The Times of India][1])রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকল্প চালুর আগে জব কার্ড যাচাই এবং ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। ফলে যোগ্য উপভোক্তারা খুব দ্রুতই নতুন প্রকল্পের আওতায় কাজ পেতে শুরু করবেন। প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ পরিবারগুলির আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা নেওয়া সম্ভব হবে।
নতুন প্রকল্পে শুধু কর্মসংস্থান নয়, গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জল সংরক্ষণ, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, গ্রামীণ রাস্তা নির্মাণ, পুকুর সংস্কার, বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু সহনশীল প্রকল্প এবং অন্যান্য স্থায়ী সম্পদ তৈরির কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তিও শক্তিশালী হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। সাধারণ রাজ্যগুলির ক্ষেত্রে ব্যয়ের অনুপাত ৬০:৪০ রাখা হয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে শুধু মজুরি প্রদানই নয়, প্রকল্পভিত্তিক উন্নয়নমূলক কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গ্রামসভা এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা স্থানীয় স্তরে অনুমোদনের পরই বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ নির্বাচন করা সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থানের দিন ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ করা গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির বিষয় হতে পারে। কৃষিকাজের বাইরে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা, জল সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নমূলক কাজেও এই প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি, সময়মতো প্রকল্প অনুমোদন এবং স্থানীয় স্তরে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক এলাকায় গ্রামসভা আয়োজন, বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা অনুমোদন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজ্য সরকারের আশা, নতুন এই কর্মসংস্থান প্রকল্পের মাধ্যমে বহু গ্রামীণ পরিবার নিয়মিত আয়ের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ রাস্তা, জলাধার, সেচব্যবস্থা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়বে। এর ফলে কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ উন্নয়ন—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


