নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক লড়াইকে কেন্দ্র করে ফের চর্চার কেন্দ্রে প্রাক্তন মন্ত্রী অখিল গিরি। তৃণমূলের অন্দরে প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে অখিল গিরিকে ফোন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু ফোন নয়, শনিবার তাঁকে কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। এই সাক্ষাৎকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে অখিল গিরিকে প্রার্থী করার বিষয়ে কি কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে দল? আপাতত সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
### নন্দীগ্রামে অখিলকে প্রার্থী করার জল্পনা
আগেই রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়িয়েছিল, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে অখিল গিরিকে প্রার্থী করতে পারে কালীঘাট-তৃণমূল। সেই জল্পনার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং কালীঘাটের বাড়িতে তলবের ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও অখিল গিরিকেই প্রার্থী করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।
নন্দীগ্রাম বরাবরই বাংলার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র। অতীতে এই কেন্দ্রকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গিয়েছে। ফলে উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি শাসকদলের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ অখিল গিরির নাম সামনে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
### ফোনে উপনির্বাচন নিয়ে পরামর্শ মমতার
অখিল গিরি জানিয়েছেন, প্রায় তিন দিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছিল। সেই কথোপকথনে উপনির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর পরামর্শ চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অখিলও নিজের মতামত জানিয়েছেন। শুধু ফোনে আলোচনা নয়, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও দলকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
এরপর শুক্রবার ফের অখিল গিরিকে ফোন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে শনিবার কালীঘাটের বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয়। এই ধারাবাহিক যোগাযোগ থেকেই রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়ে অখিল গিরির মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে দল। তবে তাঁকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
### দলীয় নির্দেশ মানতে প্রস্তুত অখিল
প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অখিল গিরির বক্তব্যও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, তিনি দলের অনুগত সৈনিক। দল তাঁকে যে নির্দেশ দেবে, তা পালন করবেন। প্রার্থী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তের উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থী বেছে নিন, এমনটাই তিনি চান।
তবে একইসঙ্গে স্থানীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করেছেন অখিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা প্রার্থীর বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার। দল যদি তাঁকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই নির্দেশ তিনি মেনে চলবেন বলেও জানিয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী।
### তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্ব
এদিকে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। কালীঘাট-তৃণমূল এবং ঋতব্রত-তৃণমূলের মধ্যে দলের প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার এবং দলের ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
শনিবার এই বিষয়ে দুই শিবিরের সঙ্গেই আলোচনা করেছে নির্বাচন কমিশন। দলের প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল। উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের প্রতীক-জট কাটবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দ্রুত এই জটিলতা মিটে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনও স্পষ্ট নয়।
### মমতা নিজে লড়লে প্রার্থী দেবে না ঋতব্রত শিবির
নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সমীকরণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। ঋতব্রত শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না। এই বক্তব্যের পর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে কালীঘাট-তৃণমূল নন্দীগ্রামে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে খবর। ফলে প্রার্থী বাছাই, দলীয় প্রতীক এবং দুই শিবিরের অবস্থান—সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
### অখিলের সঙ্গে সাক্ষাৎ কি নতুন বার্তা দেবে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অখিল গিরির ফোনালাপ এবং কালীঘাটের বাড়িতে সাক্ষাৎ রাজনৈতিকভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে উপনির্বাচন নিয়ে পরামর্শ চাওয়া এবং পরপর যোগাযোগের ঘটনায় অখিলের ভূমিকা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
নন্দীগ্রামে কাকে প্রার্থী করা হবে, দলীয় প্রতীক নিয়ে বিরোধের কী সমাধান হবে এবং দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে যায়—এই প্রশ্নগুলির উত্তরই আগামী দিনে পরিস্থিতি স্পষ্ট করবে। আপাতত মমতার সঙ্গে অখিলের বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


