Monday, September 14, 2026

Creating liberating content

নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে কংগ্রেসকে...

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম...

জেলায় মিড-ডে মিলের দায়িত্ব...

পশ্চিমবঙ্গে স্কুলের মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে...

দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের একজোট করতে...

দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যের...

FATF বৈঠকের আগে মসুদ...

আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মসুদ আজহারকে নিয়ে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা...
Homeবাংলানন্দীগ্রাম-রেজিনগরে ঋতপন্থী তৃণমূলের...

নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে ঋতপন্থী তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উপনির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। তার মধ্যেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা করল ঋতপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার সন্ধ্যায় দুই কেন্দ্রের প্রার্থীদের নাম প্রকাশ্যে আনা হয়। নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে এহতাশামুল হককে। অন্যদিকে রেজিনগর কেন্দ্র থেকে লড়বেন সফিউজ্জমান শেখ। প্রতীক নিয়ে জটিলতার মধ্যেই এই প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।

## দুই কেন্দ্রে প্রার্থী ঘোষণা ঋতপন্থী শিবিরের

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে ঋতপন্থী তৃণমূলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এহতাশামুল হক এবং সফিউজ্জমান শেখ। সোমবার সন্ধ্যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দুই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।

নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের জন্য এহতাশামুল হকের নাম সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, নন্দীগ্রাম শুধু একটি বিধানসভা কেন্দ্র নয়, রাজ্যের রাজনীতিতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতীকী একটি আসন। অতীতে এই কেন্দ্রকে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে। ফলে এবার উপনির্বাচনে কোন শিবির কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

রেজিনগরেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই কেন্দ্রেও তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ঋতপন্থী তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার পর দুই কেন্দ্রেই নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠল।

## কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রার্থীরাও মাঠে

এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসও নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছে মমতা শিবির। রেজিনগরে প্রার্থী করা হয়েছে রবিউল আলম চৌধুরীকে।

ফলে দুই কেন্দ্রেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর প্রার্থীরা মুখোমুখি হতে চলেছেন। একই দলের দুই শিবির আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ভোটব্যাঙ্ক ভাগ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতিতে বিজেপি, কংগ্রেস এবং বামেদের মতো অন্যান্য দলগুলিও নিজেদের অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পেতে পারে।

তবে উপনির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে স্থানীয় সংগঠন, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, ভোটারদের মনোভাব এবং দুই তৃণমূল শিবিরের প্রচারের উপর। কে কতটা ভোট ধরে রাখতে পারে, সেটিই হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

## প্রতীক নিয়ে জটিলতা অব্যাহত

প্রার্থী ঘোষণার পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও জটিলতা রয়েছে। দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের মধ্যে বিরোধ চলছে।

এই বিরোধ ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দরজায় পৌঁছেছে। দুই পক্ষই নিজেদের বক্তব্য এবং প্রয়োজনীয় নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে উপনির্বাচনে দুই গোষ্ঠী একই ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকে লড়াই করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ঋতপন্থী শিবিরের প্রার্থী ঘোষণার সময় ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকের ব্যবহারও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই প্রতীকের দাবিদার দুই পক্ষ থাকলে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সেই কারণে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কমিশন দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে অতিরিক্ত নথি চেয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়ের আগে প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়টি পরিষ্কার হবে কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।

## মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে জল্পনা

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই জল্পনা চলছিল, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন। সেই সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা হয়েছিল। এমনকি ঋতপন্থী তৃণমূলের তরফে আগেই বলা হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করলে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত কালীঘাটপন্থী তৃণমূল মমতাকে প্রার্থী করেনি। পরিবর্তে সঞ্চিতা প্রধান দে-কে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে। এরপরই ঋতপন্থী শিবির দুই কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে প্রার্থী না হওয়ায় নন্দীগ্রামের লড়াই অন্য মাত্রা পেয়েছে। এবার এই কেন্দ্রের ভোট সরাসরি দুই তৃণমূল শিবিরের সাংগঠনিক শক্তির পরীক্ষা হতে পারে। একইসঙ্গে বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে চাইবে।

## কেন গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম?

নন্দীগ্রাম দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জমি আন্দোলন, তৃণমূলের উত্থান এবং পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক সংঘাত—সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের আলাদা রাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে জয়ী হন। পরে তিনি ওই আসন ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই নন্দীগ্রামে নতুন করে ভোট হচ্ছে।

এই উপনির্বাচনে জয়ী হওয়া যে কোনও দলের জন্যই রাজনৈতিক বার্তা বহন করবে। বিশেষ করে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে লড়াই হলে ফলাফল দলের অভ্যন্তরীণ শক্তির তুলনাও স্পষ্ট করতে পারে। নন্দীগ্রামে কোন শিবিরের সংগঠন বেশি সক্রিয়, কার প্রার্থী ভোটারদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য এবং বিরোধী ভোট কোন দিকে যায়—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

## রেজিনগরেও কঠিন লড়াইয়ের সম্ভাবনা

রেজিনগর কেন্দ্রেও উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ রয়েছে। এই কেন্দ্রে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। অন্যদিকে ঋতপন্থী শিবির সফিউজ্জমান শেখকে প্রার্থী করেছে।

দুই শিবিরের আলাদা প্রার্থী ঘোষণায় রেজিনগরেও ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির জন্যও লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে।

রেজিনগরের স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচিতি এবং সংগঠনের শক্তি ভোটের ফলাফলে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। দুই তৃণমূল শিবিরের মধ্যে সংঘাত যত বাড়বে, ততই বিরোধী দলগুলির কৌশল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

## ভোটব্যাঙ্ক ভাগ হবে কি?

এই উপনির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলির একটি হল, তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক কতটা ভাগ হবে। এতদিন তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ভোটাররা এবার কোন শিবিরের দিকে ঝুঁকবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা হিসাব চলছে।

একটি অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে থাকতে পারে। আবার অন্য অংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে সমর্থন করতে পারে। তবে ভোটারদের সিদ্ধান্ত শুধু দলীয় পরিচয়ের উপর নির্ভর করবে না। স্থানীয় সমস্যা, প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক যোগাযোগ এবং নির্বাচনী প্রচারও বড় ভূমিকা নেবে।

দুই শিবিরের লড়াইয়ে যদি ভোট উল্লেখযোগ্যভাবে ভাগ হয়, তাহলে বিরোধী দলগুলির ফলাফলও প্রত্যাশার তুলনায় ভালো হতে পারে। তাই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই ভোটের ব্যবধান এবং ভোট ভাগাভাগির হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

## সামনে কী হতে পারে?

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে এখন মূল লড়াই শুধু তৃণমূল বনাম বিরোধী দল নয়। বরং তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নির্বাচনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত মিটবে কি না, দুই পক্ষ একই প্রতীকে লড়াই করতে পারবে কি না এবং নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়—এসব বিষয় আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পাশাপাশি প্রার্থীদের প্রচার, দলীয় কর্মীদের ভূমিকা এবং স্থানীয় ভোটারদের প্রতিক্রিয়াও নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণ করবে।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচনের ফলাফল শুধু দুইটি আসনের জয়-পরাজয় হিসেবে দেখা হবে না। এই ফলাফল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।

Get notified whenever we post something new!

spot_img

Create a website from scratch

Just drag and drop elements in a page to get started with Newspaper Theme.

Continue reading

নন্দীগ্রাম আসন ছাড়তে কংগ্রেসকে বার্তা মমতার

নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে ফের জটিলতা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, নন্দীগ্রাম আসনে কংগ্রেসকে প্রার্থী না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপালের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে বলে...

জেলায় মিড-ডে মিলের দায়িত্ব এখনই নিচ্ছে না ইসকন

পশ্চিমবঙ্গে স্কুলের মিড-ডে মিল বা মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই নতুন তথ্য সামনে এসেছে। রাজ্যের জেলাগুলিতে এখনই মিড-ডে মিলের দায়িত্ব নিচ্ছে না ইসকন বা ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস। আপাতত কলকাতার নির্দিষ্ট কিছু স্কুলে রান্না করা খাবার সরবরাহের বিষয়টি...

দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের একজোট করতে রুদ্রনীলের নেতৃত্বে কমিটি

দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে বাংলার রাজনীতিতে নতুন তৎপরতা শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। রাজ্যের বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটি ও উদ্যোক্তাদের এক ছাতার তলায় আনতে বিশেষ কমিটি গঠন করল বিজেপি। অভিনেতা-রাজনীতিক রুদ্রনীল ঘোষকে এই কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুজোকে...

Enjoy exclusive access to all of our content

Get an online subscription and you can unlock any article you come across.